Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

সাজঘরের ষোড়শ বীরাঙ্গনা! দেখে নিন টিম ইন্ডিয়ার বিজয়িনীদের পারফরম্যান্সের রিপোর্ট কার্ড

১৬ জনের এই দলটাই ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক—যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও পরিকাঠামো মিলেছে একই বিন্দুতে। বিশ্বজয়ের ট্রফি হাতে এই মেয়েরা এখন শুধু এক দলের সদস্য নন, সর্বার্থে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের ‘ষোড়শ বীরাঙ্গনা’।

সাজঘরের ষোড়শ বীরাঙ্গনা! দেখে নিন টিম ইন্ডিয়ার বিজয়িনীদের পারফরম্যান্সের রিপোর্ট কার্ড

টিম ইন্ডিয়া

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 3 November 2025 13:34

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবি মুম্বইয়ের (Navi Mumbai) ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল (India Women’s Cricket Team)। দক্ষিণ আফ্রিকাকে (South Africa Women’s Team) হারিয়ে প্রথমবারের মতো মেয়েদের ওডিআই বিশ্বকাপ (Women’s ODI World Cup 2025) জিতেছে ভারত। হরমনপ্রীত কৌরদের (Harmanpreet Kaur) এই জয়ে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের—যেখানে ১৬ জন খেলোয়াড় মিলে গড়েছেন এক স্বপ্নের সাম্রাজ্য।

এক নজরে দেখে নিন, এই বিশ্বজয়ের গল্পে কার কেমন পারফরম্যান্স।

হরমনপ্রীত কৌর (রান: ১৬৮, গড়: ২৮.০০)

অধিনায়ক হিসেবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ভরকেন্দ্র। পাঞ্জাবের (Punjab) মেয়ে হরমন নেতৃত্ব দিয়েছেন চাপের মুহূর্তে, ঠান্ডা মাথায়। লড়েছেন ব্যাট-বল দু’হাতেই। ২০১৭-র সেই ১৭১ রানের ইনিংসের পর এবার নেতৃত্বে ইতিহাস গড়লেন।

স্মৃতি মান্ধানা (রান: ৪৩৪, গড়: ৫৪.২৫)

দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। মসৃণ স্ট্রোকপ্লে, স্থির মানসিকতা আর অভিজ্ঞতায় ভর করেই মান্ধানা টিমের মূল ভিত্তি। বিশ্বকাপে ভারতের এক আসরে সর্বাধিক রানের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।

শেফালি বর্মা (রান: ২৮৯, গড়: ৪৮.১৬, ২ উইকেট)

হরিয়ানার (Haryana) বিস্ফোরক ওপেনার শেফালি এই বিশ্বকাপে প্রমাণ করেছেন নিজেকে। ফাইনালে তাঁর ৮৭ রানের ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে। ব্যাট হাতে যেমন আক্রমণাত্মক, তেমনই বল হাতে তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট।

জেমাইমা রদ্রিগেজ (রান: ২৭৫, গড়: ৪৫.৮৩)

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে অপরাজিত ইনিংস খেলেই ভারতকে ফাইনালে তুলেছিলেন। মুম্বইয়ের (Mumbai) ব্যাটার টেকনিক, ফুটওয়ার্কে দলের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন। ফিল্ডিংয়েও অন্যতম সেরা।

হারলিন দেওল (রান: ১০৪, গড়: ২৬.০০)

হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) ব্যাটার দলের ফিল্ডিং অ্যাসেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ, রান বাঁচানো—সব জায়গাতেই নজর কাড়েন। ব্যাট হাতেও মিডল ওভারে স্থিরতা এনে দিয়েছেন।

উমা ছেত্রী (ব্যাট/ বল করেননি)

অসমের (Assam) তরুণ উইকেটকিপার। এই ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও, ড্রেসিংরুমে এনার্জি ও উদ্যমে ভরিয়ে রেখেছেন দলকে। ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় মুখ।

রিচা ঘোষ (রান: ২৫৭, গড়: ৩৬.৭১, স্ট্রাইক রেট: ১৩৩.৫২)

বাংলার (West Bengal) তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষের দিকে বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ইনিংসের গতি বাড়িয়েছেন একাধিক ম্যাচে। স্ট্রাইক রেট টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।

দীপ্তি শর্মা (উইকেট: ২২, গড়: ২০.৪১, রান: ২১৯)

এই বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) দীপ্তি বল হাতে বিধ্বংসী—২২ উইকেট নিয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারি। ফাইনালে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে খেলেছেন কার্যকর ইনিংসও।

স্নেহ রানা (উইকেট: ৭, গড়: ৩৭.৮৫)

অভিজ্ঞ অফস্পিনার স্নেহ দলের অন্যতম শক্তি। মাঝে মাঝে বল হাতে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন। চাপে ঠান্ডা মাথায় খেলার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করেছে।

রেণুকা সিং ঠাকুর (উইকেট: ৯, গড়: ৩৪.১১)

হিমাচলের সুইং স্পেশালিস্ট। নতুন বলে ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলেছেন। গতি না হলেও, ডেলিভারির নিখুঁত লাইন-লেংথ প্রতিপক্ষ ওপেনারদের বিপদে ফেলেছে বারবার।

রাধা যাদব (উইকেট: ৬, গড়: ৫১.৫০)

মুম্বইয়ের বামহাতি স্পিনার রাধা মিডল ওভারের কন্ট্রোলার। রান রেট আটকে রেখে অন্য প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করেছেন।

এন. শ্রী চরণী (উইকেট: ১৪, গড়: ২৭.৬৪)

অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) এই নবাগত বোলার টুর্নামেন্টের আবিষ্কার। অভিষেক মরশুমেই বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট। ধারালো স্পিন ও ঠান্ডা মাথা ভারতের বোলিং আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে।

অরুন্ধতী রেড্ডি (উইকেট: ৩, গড়: ৪৩.৬৬)

হায়দরাবাদের (Hyderabad) এই পেসার অভিজ্ঞতায় দলকে সাহায্য করেছেন। সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবে বোলিংয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন।

ক্রান্তি গৌড় (রান: ১০, গড়: ৫.০০)

তেলঙ্গানার (Telangana) বাঁ-হাতি ব্যাটার যদিও খুব বেশি সুযোগ পাননি, তবুও তাঁর শান্ত স্বভাব ও স্ট্রাইক রোটেট করার ক্ষমতা দলের পরিকল্পনায় জায়গা করে নেয়।

প্রতীকা রাওয়াল (রান: ১৭৯, গড়: ৫৯.৬৬)

দিল্লির (Delhi) প্রতীকা দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটের জেরে বাদ পড়েন সেমিফাইনালের আগে। তবে গ্রুপ পর্বে তাঁর ধারাবাহিক রান ছিল দলের ভিত্তি। ১৪ ইনিংসে ৭০০-র বেশি রান করে নজর কেড়েছেন।

অমনজোৎ কৌর (গড়: ১০৪, গড়: ৫২.০০, উইকেট: ৩)

পাঞ্জাবের (Punjab) এই মিডল অর্ডার অলরাউন্ডার দলের নীরব সেনা। ব্যাট হাতে শেষ ওভারে রান তোলা আর বল হাতে সঠিক জায়গায় পিচ করানো—দুই দিকেই অবদান রেখেছেন।

১৬ জনের এই দলটাই ভারতের মহিলা ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক—যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও পরিকাঠামো মিলেছে একই বিন্দুতে। বিশ্বজয়ের ট্রফি হাতে এই মেয়েরা এখন শুধু এক দলের সদস্য নন, সর্বার্থে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের ‘ষোড়শ বীরাঙ্গনা’।


```