রবিবার, চতুর্থ দিনের খেলায় হ্যারি ব্রুক আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। মাত্র ৯৮ বলে করে ফেলেন ১১১। পাল্টা আক্রমণে ভারতীয় বোলারদের নাকাল করলেন তরুণ ব্যাটার। পাশে দাঁড়ান রুট। ১৯৫ রানের পার্টনারশিপে বড় টার্গেট মুহূর্তে নাগালে চলে আসে।

জো রুট-মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 4 August 2025 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওভালের (Oval Test) পঞ্চম দিন। ইংল্যান্ড সফরের অন্তিম দিন। বৃষ্টি এসে বাধ না সাধলে গতকালই ম্যাচের হিল্লে হয়ে যেত। যা পরিস্থিতি, তাতে ইংল্যান্ডের দিকেই পাল্লা ভারী। ভারতের জিততে দরকার চার উইকেট। ইংল্যান্ডের ৩৫ রান। খুব বড় অঘটন না ঘটলে ওভালে শেষ হাসি হাসবে ইংরেজ বাহিনী, সেই সঙ্গে বগলদাবা করবে আন্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিও।
তার আগে মহম্মদ সিরাজকে (Mohammed Siraj) নিয়ে ঠোঁটকাটা মতামত রাখলেন ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান জো রুট (Joe Root)। জানালেন, ভারতের অন্যতম পেসারের সবই ভাল। তিনি কর্মঠ, দল-অন্ত-প্রাণ, হাসিখুশি। তাঁর বিরুদ্ধে খেলতে ভাল লাগে। টিমের জন্য ‘যোদ্ধা’র মতো পুরোটা উজাড় করে দেন। আপত্তি শুধু একটা জায়গাতেই: সিরাজের আগ্রাসন। তিনি হুটহাট রেগে যান। কিন্তু সেটা বেশিরভাগ সময় ‘কপট ক্রোধ’, আসল নয়!
চলতি সিরিজে সিরাজ একমাত্র পেসার, যিনি পাঁচখানা টেস্টের প্রতিটি ম্যাচ খেলেছেন। ওভালে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেছেন ২৬ ওভার। নিয়েছেন ২ উইকেট, ৯৫ রানের বিনিময়ে। তাঁকে কুর্নিশ জানাতে গিয়ে রুট বলেন, ‘সিরাজের মতো খেলোয়াড়কেই তুমি সবসময় দলে চাইবে। ও সত্যি একটা চরিত্র বটে! সবসময় ভারতের হয়ে নিজের সর্বস্ব দেয়। কখনও কখনও কপট রাগ (Fake Anger) দেখায়। এটা আমি সাফ বুঝতে পারি!’
যদিও সেটাই যে টিম ইন্ডিয়ার পেসারের আসল চরিত্র নয়, সেটা বোঝাতে গিয়ে রুট জুড়ে দেন, ‘আসলে ও মনের ভাল। প্রচণ্ড পরিশ্রমী। আর খুব স্কিলফুলও বটে। এত উইকেট যে পাচ্ছে, তার কারণ দুটো। প্রথমত, ওর পরিশ্রম। দ্বিতীয়ত, ওর দক্ষতা। আমি সিরাজের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় পছন্দ করি। সবসময় মুখে হাসি লেগে থাকে। দলের জন্য নিজের পুরোটা দেয়। সমর্থক হিসেবে এর চাইতে বেশি কিছু তোমার চাহিদা থাকতে পারে না। উঠতি খেলোয়াড়দের কাছেও ও খুব বড় একটা উদাহরণ!’
এর পাশপাশি নিজের আউট নিয়ে আক্ষেপ জানিয়েছেন রুট। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তাঁর সঙ্গে ভারতীয় পেসারের হালকা বাকযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু রুট বললেন, ‘ওর সঙ্গে কোনও ঝামেলা নেই। এটা আমার নিজের রাগ, কারণ আমি দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারিনি। একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। আমি সেই অবস্থায় ভুল করেছি। যখন ১০০ রানে অপরাজিত, তখন নিজের কাছ থেকে এরকম আশা করি না। তাই রাগটা ছিল নিজেকে নিয়ে!’
রুট বাজে শট খেলে উইকেট ছুড়ে এলেও টেস্টে দাপট দেখাচ্ছে ইংল্যান্ড। সৌজন্যে হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি। রুটের সঙ্গে ১৯৫ রানের জুটিতেই ব্যাকফুটে শুভমানরা। ৩৭৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ দিনে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার আর মাত্র ৩৫ রান। হাতে চার উইকেট।
রবিবার, চতুর্থ দিনের খেলায় হ্যারি ব্রুক আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। মাত্র ৯৮ বলে করে ফেলেন ১১১। পাল্টা আক্রমণে ভারতীয় বোলারদের নাকাল করলেন তরুণ ব্যাটার। পাশে দাঁড়ান রুট। ১৯৫ রানের পার্টনারশিপে বড় টার্গেট মুহূর্তে নাগালে চলে আসে। দিনের শেষে ইংল্যান্ড ৩৩৯/৬। ক্রিজে জেমি ওভারটন (০*) আর জেমি স্মিথ (২*)।
ম্যাচের পর সতীর্থ ব্যাটারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রুট। বললেন, ‘ব্রুকের সঙ্গে ব্যাট করা সবসময় আনন্দের। আমাদের খেলার ধরন একেবারে আলাদা। ও আমার চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী, দারুণ সব শট খেলে। তবে ওর যে দিকটা সবচেয়ে বেশি আমার ভালো লাগে, সেটা হল প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করার ক্ষমতা। সঠিক সময়ে ঝুঁকি নেয়। ম্যাচের ছবিটাই বদলে দেয়। যেমনটা আজ করে দেখাল।’
রুট আরও যোগ করেন, ‘হ্যারি ব্রুক কোনও কাকতালীয় প্রতিভা নয়। এভাবে দশটা শতরান করেছে। ওর খেলায় নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। যে কারণে নিয়মিত সাফল্য এসেছে। আজকের ইনিংসই তার প্রমাণ। আমরা এখন জয়ের থেকে মাত্র ৩৫ রান দূরে—যা ওর ব্যাটিংয়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে!’