অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকার পর সতীর্থ জাদেজা তাঁকে ড্রেসিং রুমের দিকে টেনে নিয়ে যান। কিন্তু মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছেন, তা সিরাজের চোখেমুখে ততক্ষণে স্পষ্ট!

মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 22 July 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও কখনও নির্বাক চেয়ে থাকা কান্নাভরা দু’চোখের চেয়েও বিষাদময়!
রথের চাকা মেদিনী গ্রাস করার পর মহাবলী কর্ণ চোখের জল ফেলেননি। ইন্দ্রজিৎ যখন হতশ্বাস, হতবীর্য… লক্ষণের বিরুদ্ধে অন্যায্য, নীতিহীন ‘যুদ্ধে’ সবকিছু খুইয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি, তখন ইন্দ্রজিতের চোখও ছলছল হয়ে ওঠেনি!
শোয়েব বাশিরের (Shoaib Bashir) নির্বিষ বল, যেটা একশোর মধ্যে নিরানব্বই বার ডিফেন্স করে সিঙ্গল কি দু’রান কুড়িয়ে নেবেন, সেই ডেলিভারি ব্যাট দিয়ে আটকানোর পরেও মহম্মদ সিরাজের শরীর ছুঁয়ে স্ট্যাম্পের বেল ছিটকে দিয়েছে। নেহাত ভাগ্যবিপর্যয় কিংবা মরণপণ লড়াইয়ের ট্রাজিক সমাপ্তি ছাড়া একে আর কী বলা যেতে পারে!
যে যুদ্ধ (Lord’s Test) অনেক আগেই হেরে যাওয়ার কথা, পাশা পালটে সেখান থেকে প্রায় একা হাতে দলকে জয়ের কাছাকাছি টেনে আনেন রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। সঙ্গত দেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে চালিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তারপর উইকেটে টিকে থাকেন সিরাজ (Moahammad Siraj)। সামলে নেন জোফ্রা আর্চারের বাউন্সার, স্টোকসের ইনসুইং। কিন্তু ভাগ্যের পাকচক্রে বাশিরের সহজ ডেলিভারির ফাঁদে বন্দি হন। ভারত হারে। পিছিয়ে পড়ে সিরিজে (England Series)।
বল উইকেট ছুঁয়ে বেল ছিটক দেওয়ার পর মাঠেই নতমুখে বসে পড়েন সিরাজ। গ্যালারিজুড়ে ইংরেজ সমর্থকদের উল্লাস, মাঠে স্টোকসবাহিনীর উন্মাদনা। অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকার পর সতীর্থ জাদেজা তাঁকে ড্রেসিং রুমের দিকে টেনে নিয়ে যান। কিন্তু মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছেন, তা সিরাজের চোখেমুখে ততক্ষণে স্পষ্ট!
সেই ধাক্কা থেকে কতটা বেরতে পেরেছেন? পরাজয়ের প্রায় সাতদিন বাদে এই নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার। বললেন, ‘অনেকটা সময় লেগেছে। কারণ, ম্যাচটাই এমন ছিল। ২০২১ সালে এই লর্ডসে আমি জেমস আন্ডারসনের শেষ উইকেট নিই। এবার নিজেই উলটো পরিস্থিতিতে। আমার বিশ্বাস ছিল, ফের একবার দলকে জেতাতে পারব… সত্যি বলতে, আমি খুব আবেগপ্রবণ মানুষ!’ ময়দানে যিনি সিংহৃদয়, তাঁর গলা প্রেস কনফারেন্সে ধরে আসে।
এরপর সামলে নিয়ে যোগ করেন, ‘দ্যখো, আমি দেশের জন্য খেলি। সবসময় নিজের একশো শতাংশ দিই। রাতে যখন শুতে যাই, আমার মধ্যে যেন এই চিন্তা আসে যে, আজ নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। ফলাফল হিসেবে যদিও যেটা চেয়েছি, সেটা পাইনি… তবু ঠিক আছে!’'
ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে নামবেন? চতুর্দিকে যে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে রব উঠেছে? প্রশ্নের জবাবে ফের চিরপরিচিত সহাস্য মেজাজে সিরাজ। একগাল হেসে বলে দেন, ‘উপরওয়ালা আমায় সুস্থ রেখেছেন। টাচ উড! এই ওয়ার্কলোড বিজ্ঞানের কারবারিরা বইয়ে লেখেন। আমার লক্ষ্য খুব সরল—দেশের হয়ে যতটা সম্ভব ম্যাচ খেলে যাওয়া!’