গত বছর থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত প্যাট কামিন্স, বুমরাহ ও স্কট বোলান্ড ছাড়া আর কেউ মহম্মদ সিরাজের চাইতে বেশি ওভার বল করেননি।

মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 5 July 2025 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাল, খুব ভাল বল করেও বিনা উইকেটে সাজঘরে ফেরা কতটা কষ্টের? বদলে খারাপ, অতি খারাপ ডেলিভারির পরেও যদি ঝুলিতে খানকতক উইকেট আসে, সেটা কি তৃপ্তি দেয় না?
বছরের পর বছর ধরে এই দুটো প্রশ্ন তাড়া করে বেরিয়েছে মহম্মদ সিরাজকে। অনুরাগীদের মনে পড়বে ২০২০ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা। ডিসেম্বরের শহর মেলবোর্নে টেস্টে অভিষেক হয় সিরাজের। দিনকয়েক আগেই বাবার মৃত্যুর খবর পান। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তখন কোভিড, লকডাউন। একবার দেশে ফিরলে ফের বিমান ধরে অস্ট্রেলিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন না। এটা জেনে মহম্মদ সিরাজ বাবাকে শেষবার না দেখেই চিরিবিদায় জানাতে বাধ্য হন।
এরপর বারবার খবরের শিরোনামে। কখনও উইকেট পেয়ে, কখনও উইকেট না পেয়ে। তিনি ভাল বল করলেও বিস্তর রান দেন—এমন অভিযোগ আকছার শুনতে হয়েছে। অথচ ইতিহাস কিংবা পরিসংখ্যান কিন্তু এতে সায় দিচ্ছে না! ৩৮ টেস্টে নেমে গড় ৩০-এর একটু বেশি। স্ট্রাইক রেটও মন্দ নয়—৫২.৪! মহম্মদ সামির ইংল্যান্ডে না যাওয়া নিয়ে এত হইচই। অথচ গড় ২৭.৭। স্ট্রাইক রেট ৫০.৩।
খুব বেশি হেরফের আছে কি? উত্তর: না। অথচ তারপরেও সাধারণ জনতা এমনকী বিশেষজ্ঞদের একাংশেরও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাচ্ছে না। হয়তো সে কারণেই ইংল্যান্ড সফরে টিম ইন্ডিয়ার বোলিং বিভাগকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছে।
এটা ঠিক যে জসপ্রীত বুমরাহ অন্য স্তরের বোলার। তিনি একই অঙ্গে অনেক গুণের সমাহার। প্রতিপক্ষকে চেপে-বেঁধে নাভিশ্বাস তুলে উইকেট তোলা হোক, চায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জুটি ভাঙা—সমস্ত প্রয়োজনে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তা বলে সিরাজের অবদানকেও অস্বীকার করার মানে হয় না! গত বছর থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত প্যাট কামিন্স, বুমরাহ ও স্কট বোলান্ড ছাড়া আর কেউ মহম্মদ সিরাজের চাইতে বেশি ওভার বল করেননি। দ্রুত উইকেট শিকারের লিস্টেও এই তিনজন পেসারই সিরাজের আগে। তিনি মাইকেল স্টার্কের চেয়েও এগিয়ে, বোলান্ডের চাইতে মাত্র একটি উইকেট পিছিয়ে।
অনেকে সামনে টেনেছেন ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। এই বিষয়ে অবশ্যই উন্নতি করতে হবে বুমরাহকে। শেষবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন গত বছর জানুয়ারিতে। প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউল্যান্ডসের মাটিতে প্রোটিয়াদের একা হাতে সাফ করেছিলেন সিরাজ। তুলেছিলেন ছ’উইকেট। মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। টিম ইন্ডিয়াও হাসতে হাসতে ম্যাচ জেতে।
এজবাস্টনে ছ’উইকেট তুলে পুরনো স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন সিরাজ। এবারও কি একইভাবে হেসেখেলে ম্যাচ জিতবে ভারত? জবাবে ‘হ্যাঁ’-ই শুনতে চাইবেন সমর্থকরা।