বাড়িতে ফিরে বিরাট কোহলির সই করা বলটা হয়তো আলমারিতে সাজানো থাকবে। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি—একটা ডেলিভারি, যা বিশাল জয়সওয়ালকে বড় মঞ্চে চিনিয়ে দিয়ে গেল।

বিরাট ও বিশাল
শেষ আপডেট: 28 December 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের বাঁহাতি স্পিনার বিশাল জয়সওয়াল (Vishal Jayswal)। নামটা এখনও জাতীয় স্তরে খুব একটা পরিচিত নয়। কিন্তু বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে (Centre of Excellence, Bengaluru) বিজয় হাজারে ট্রফির (Vijay Hazare Trophy) বিকেলটা বদলে দিল সবকিছু। ওই দিনই তাঁর ডেলিভারির ফাঁদে ধরা পড়লেন বিরাট (Virat Kohli)। নিখুঁত ফ্লাইটে বন্দি, স্ট্যাম্প-আউট!
কোহলির উইকেট, কেরিয়ারের দিক বদলানো মুহূর্ত
দিল্লির (Delhi) হয়ে খেলতে নেমে বিরাট দুরন্ত ছন্দে। ২৯ বলে ফিফটি, আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে আরও একটা বড় ইনিংসের ইঙ্গিত। ঠিক তখনই জয়সওয়ালের ছোড়া এক নিখুঁত টস-আপ। ব্যাট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, বল ঘুরল বাইরে দিয়ে আর উইকেটের পিছনে নিখুঁত কাজ করলেন উরভিল প্যাটেল (Urvil Patel)। ইনিংস শেষ ৭৭ রানে। জয়সওয়ালের জন্য এটা শুধু একটা উইকেট নয়। হয়তো কেরিয়ারেরও টার্নিং পয়েন্ট।
‘আচ্ছা বল ডালতা হ্যায়’
স্বপ্নের উইকেট পাওয়ার পর আরও বড় প্রাপ্তি এল ড্রেসিংরুমে। ম্যাচ বলেই কোহলির সই। সঙ্গে উৎসাহের কথা। ‘ভাল বল করো। কঠোর পরিশ্রম চালাও। সুযোগ আসবে!’ এই মন্তব্য এখন জয়সওয়ালের পাথেয়। জানালেন, কোহলির বিরুদ্ধে আলাদা কোনও পরিকল্পনা ছিল না। চাপ ছিল। কিন্তু তা সামলানোর টিপস পেয়েছেন বিরাটের থেকেই—দুরন্ত ফিটনেস, মানসিক শান্তি আর বড় মঞ্চে স্থির থাকা!
লাল বলই আসল শক্তি
বিশালের উত্থানটা হঠাৎ নয়। ২০২২–২৩ মরশুমে অনূর্ধ্ব–২৩ সিকে নাইডু ট্রফিতে (CK Nayudu Trophy) ৭০ উইকেট—সর্বোচ্চ। সেই সুবাদে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদাবাদে (Ahmedabad) ত্রিপুরার (Tripura) বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy) অভিষেক। পরিসংখ্যান চোখে পড়ার মতো—১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪০ উইকেট, গড় ২৩.৫২, সেরা ৬/৫৯। ধীরগতির বাঁহাতি স্পিন, ফ্লাইট আর সূক্ষ্ম ভ্যারিয়েশন—এই তিন মিলিয়ে আসল অস্ত্র।
অক্ষর প্যাটেলের ছায়া, মায়ের শক্ত হাত
জয়সওয়াল নিজেই মানেন, তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার গড়ার পেছনে বড় অবদান অক্ষর প্যাটেলের (Axar Patel)। কিট থেকে শুরু করে মানসিক দিকনির্দেশ—সবেতেই পাশে পেয়েছেন। স্বপ্ন, একদিন অক্ষরের মতোই স্পিন অলরাউন্ডার হওয়া। ব্যক্তিগত লড়াইটাও কম নয়। বয়স যখন মাত্র আট মাস, বাবাকে হারিয়েছেন। মা পাশে থাকায় ক্রিকেট চালিয়ে যান। আজ গুজরাতের (Gujarat) হয়ে বিজয় হাজারেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি—দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট। দিল্লির বিরুদ্ধে ৪/৪২, সঙ্গে ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant) উইকেটও।
বাড়িতে ফিরে বিরাট কোহলির সই করা বলটা হয়তো আলমারিতে সাজানো থাকবে। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি—একটা ডেলিভারি, যা বিশাল জয়সওয়ালকে বড় মঞ্চে চিনিয়ে দিয়ে গেল।