ইংল্যান্ড ব্যাটাররা সময় নষ্ট করছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু প্রতিবাদে তাঁদের দিকে যেভাবে ছুটে গেলেন, সেটা এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব দেখেছে বলে মনে হয় না।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 13 July 2025 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্থর বিকেল। মন্থরতর উইকেট।
দিনের শেষটাও ঢিমেতালে হবে। এমনটাই আশা করেছিলেন সকলে। প্রেস বক্সে বাক্সপ্যাঁটরা গোছানোর ব্যবস্থা চলছে। গ্যালারিও আস্তে আস্তে ফাঁকা হচ্ছে।
এমন সময় লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ ওভারে নাটকীয় মোড়। হঠাৎই বদলে গেলেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। যেন এক অন্য মানুষ! কোথায় সেই শান্ত-সুশীল চেহারা, বিনম্র শরীরী ভাষা! সব মুহূর্তে উধাও!
ইংল্যান্ড ব্যাটাররা সময় নষ্ট করছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু প্রতিবাদে তাঁদের দিকে যেভাবে ছুটে গেলেন, সেটা এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব দেখেছে বলে মনে হয় না। টার্গেট জ্যাক ক্রলি। সম্মুখ-সমরে, চোখে চোখ রেখে অভিযোগ তুললেন গিল—ইচ্ছাকৃতভাবে, হাতের চোটের নিয়ে সময় নষ্টের নাটক চলছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হল তখন, যখন এন্ট্রি নিলেন বেন ডাকেট। ততক্ষণে শেষ ওভারে লর্ডসের নিস্তরঙ্গ বিকেলের চেহারাই পালটে গিয়েছে। বাইশ গজ কার্যত রণক্ষেত্র!
গিলের এই বদলে যাওয়া রূপ দেখে বিস্মিত প্রাক্তন ইংল্যান্ড ব্যাটার জোনাথন ট্রট। তুলে আনলেন বিরাট কোহলির প্রসঙ্গ। জানালেন, আগ্রাসী শুভমানকে দেখে তাঁর মনে ভেসে উঠছে ভারতের এক প্রাক্তন অধিনায়কের মুখ, যিনি বারবার প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্লেজিং-যুদ্ধে অবতীর্ণ হতেন। নাম না বললেও ট্রটের ইঙ্গিত স্পষ্টত কোহলির দিকে। ট্রট বলেন, ‘একজন অধিনায়ক দলের শুধু পরিকল্পনায় নয়, ব্যবহারেও নেতৃত্ব দেন। গালাগালি দেওয়া, আঙুল তোলা, প্রতিপক্ষের দিকে চিৎকার করে ধেয়ে যাওয়া— এগুলো খেলাধুলোর সৌজন্য নষ্ট করে!’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘আমি জানি না ইংল্যান্ড ফিল্ডিংয়ের সময় কিছু বলেছিল কি না, কিন্তু শুভমন গিলের আচরণ, তার পরে ওই ভাষা— সবটাই অপ্রয়োজনীয়!’
ট্রটের দাবি, তিনি আগ্রাসনের বিপক্ষে নন। কিন্তু শালীনতা, শিষ্টাচার মানা না হলে মুখ বুজে থাকা অসম্ভব, প্রতিবাদ হবেই। যোগ করেন, ‘আমি প্রতিযোগিতার পক্ষে। দৃঢ় মানসিকতা জরুরি। কিন্তু কখনও কখনও আপনাকে বড় হতে হয়। অধিনায়ক হিসেবে সংযত থাকা জরুরি!’ যদিও তিনি মেনে নেন, এই ঘটনা চতুর্থ দিনের উত্তেজনা অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
গিলের আচরণ নিয়ে বিতর্ক চললেও, ট্রট কিন্তু ভারতের দুই সেরা ব্যাটার কেএল রাহুল ও ঋষভ পন্থের প্রশংসা করতে ভোলেননি। বলেন, ‘দারুণ ব্যাটিং করেছে দু’জন। খারাপ বল পেলেই রান তুলেছে। যখন ইংল্যান্ডের বোলাররা আগ্রাসন দেখাচ্ছিল, তখন অত্যন্ত সংযত থেকেছে। ডিফেন্স নিখুঁত। আবার সুযোগ পেলেই সিঙ্গল তুলে নিয়েছে!’
এখনও বাকি দু’দিন। ট্রট মনে করেন, চতুর্থ দিনের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। বিশেষ করে নতুন বলে বুমরাহকে সামলানোই এঁকে দেবে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডকে নতুন বলট খুব সতর্ক হয়ে খেলতে হবে। পুরো একটা দিনের খেলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই শুরুতেই ছন্দ হারালে চলবে না। বুমরাহ যেন নিজের মেজাজে না চলে আসে। তার জন্য সোজা ব্যাটে খেলা জরুরি!’