অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশ্ন—১১ দিনের মধ্যে তিন টেস্টে ধসে পড়া পারফরম্যান্সের সঙ্গে কি এই ‘বিরতি সংস্কৃতি’-র যোগ রয়েছে?

নেশায় ডুবে ইংল্যান্ড
শেষ আপডেট: 23 December 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে হার, ড্রেসিংরুমে প্রশ্ন। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) কাছে ৩–০ হোয়াইটওয়াশের পর ইংল্যান্ড (England) শিবিরে অস্বস্তি চরমে। অ্যাডিলেডে (Adelaide) তৃতীয় টেস্টের পর সামনে এসেছে এমন এক রিপোর্ট, যা এই ভরাডুবিকে আরও বিব্রতকর করে তুলেছে। অভিযোগ—দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মধ্যের ন’দিনের বিরতিতে ছ’দিনই ইংল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটার নাকি মদের নেশায় চুর হয়ে ছিলেন!
ন’দিনের বিরতি, ছ’দিনের ‘পার্টি’?
অ্যাশেজের (The Ashes) দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হয় ৭ ডিসেম্বর। তৃতীয় টেস্ট শুরু ১৭ ডিসেম্বর। এই ফাঁকে ইংল্যান্ড দল চার রাত কাটায় কুইন্সল্যান্ডের (Queensland) নুসা (Noosa) বিচ রিসর্টে। পরিকল্পনা ছিল—চাপ থেকে দূরে গিয়ে মানসিকভাবে রিচার্জ। কিন্তু বিবিসির (BBC) এক রিপোর্ট দাবি করছে, বাস্তব ছবি নাকি একেবারেই উল্টো।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় টেস্টের পর ব্রিসবেনে (Brisbane) টানা দু’দিন মদ গিলে কাটান দলের কয়েকজন সদস্য। এরপর নুসায় চার দিনও একই পরিস্থিতি। বিরতি নাকি কার্যত ‘স্ট্যাগ-ডো’-তে পরিণত হয়েছিল! রাস্তার ধারেও মদ খেতে করতে দেখা গিয়েছে ক্রিকেটারদের। কোস্টাল রান—যেখানে পুরো স্কোয়াডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল—সেখানে হাজির ছিলেন মাত্র তিন জন!
অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশ্ন—১১ দিনের মধ্যে তিন টেস্টে ধসে পড়া পারফরম্যান্সের সঙ্গে কি এই ‘বিরতি সংস্কৃতি’-র যোগ রয়েছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি, মাঠে শূন্যতা
নুসায় ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভক্তদের সেলফি, সমুদ্রতটে আড্ডার ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এমনকী অধিনায়ক বেন স্টোকসের (Ben Stokes) সঙ্গেও ভক্তদের হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যায়। মাঠে যখন দল পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার ঘাটতিতে ভুগছে, তখন এই টুকরো টুকরো দৃশ্য সমর্থকদের ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছে।
অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে দলের পারফরম্যান্স ছিল নিস্তেজ। ব্যাটিং-বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা নেই। যে কারণে সওয়াল জোরালো—এই ‘বিরতি’ কি আদৌ কাজে লেগেছে?
তদন্ত হবে, জানালেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর
ইংল্যান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি (Rob Key) নুসা বিরতিকে নীতিগতভাবে সমর্থন করলেও অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘যদি সত্যিই প্রমাণ মেলে যে কেউ মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেছে, তা হলে অবশ্যই তদন্ত হবে।’একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, আন্তর্জাতিক দলের ক্ষেত্রে ‘ড্রিঙ্কিং কালচার’কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যদিও পাশাপাশি কি-র দাবি, তাঁদের কাছে যে তথ্য রয়েছে সেখানে ‘অতিরিক্ত’ মদ্যপানের প্রমাণ নেই। ‘খাওয়া-দাওয়া হয়েছে, মাঝেমধ্যে এক-আধটা পানীয়—তাতে সমস্যা দেখি না। কিন্তু যদি এটা স্ট্যাগ-ডো হয়ে থাকে, সেটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য!’ জবাব একেবারে স্পষ্ট।
সামনে কী?
অ্যাশেজ সিরিজে এখনও দু’টি টেস্ট বাকি। ইতিমধ্যেই সিরিজ হাতছাড়া। এখন ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য—সম্মান বাঁচানো। যদিও মাঠের বাইরে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বিতর্ক থামছে না। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (Brendon McCullum) ‘বাজবল’-দর্শন সাহসী ক্রিকেটের কথা বলে। কিন্তু সেই সাহস কি মাঠের বাইরে অতিরিক্ত ঢিলেমিতে বদলে যাচ্ছে? অ্যাডিলেডের পর এই প্রশ্নই ঘুরছে ক্রিকেট মহলে।
এই আবহে হোয়াইটওয়াশের গভীর যন্ত্রণার পাশাপাশি এই মদ্যপানের রিপোর্ট ইংরেজ শিবিরে নতুন করে আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দিল। মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে হলে, শুরুটা করতে হবে মাঠের বাইরের আচরণ থেকেই—স্টোকসদের গুরুদায়িত্বের লিস্টি ক্রমশ লম্বা হচ্ছে।