২১ বছর ২৭৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার হিসেবে শেফালিই এখন সবচেয়ে কমবয়সী ক্রিকেটার—পুরুষ বা মহিলা, দুই বিভাগেই।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 3 November 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ বছর বয়সি শেফালি বর্মা (Shafali Verma) আর তাঁর সহযোদ্ধারা যা করে দেখালেন, তা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় খুলে দিল। নবি মুম্বইয়ের (Navi Mumbai) ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে (DY Patil Stadium) দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে ৮৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে প্রথমবারের মতো মহিলা ওডিআই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করলেন। ম্যাচের সেরা (Player of the Match) নির্বাচিত হয়েছেন শেফালি। আর সেই জয়ের পরই জানালেন, প্রেরণার কথা... তাঁর নাম সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)।
শেফালির কথায়, ‘খেলা শুরুর আগে থেকেই মনে হচ্ছিল, ঈশ্বর আমাকে আজ কিছু বড় করার জন্যই পাঠিয়েছেন। কিন্তু যখন দেখলাম সচিন স্যার গ্যালারিতে বসে, তখন মনে হল—এটাই আমার সুযোগ। ওঁকে দেখেই যেন নতুন এনার্জি চলে এল ভেতরে।’
ভারতের এই তরুণ ওপেনার আরও বলেন, ‘আমি সচিন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি। উনি সবসময় বলেন, নিজের খেলার ওপর বিশ্বাস রাখো। ওঁর কাছ থেকে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাসই আজ কাজে দিয়েছে। ওঁকে মাঠে দেখে যে অনুপ্রেরণা পেয়েছি, সেটা কথায় বোঝানো যাবে না।’
শেফালির খেলা শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, গুরুত্বেও তাৎপর্যপূর্ণ! ২০১৭ সালের ফাইনালে পুনম রাউতের (Punam Raut) করা ৮৬ রানের রেকর্ড ভেঙে দিলেন তিনি। ৮৭ রানের সেই ইনিংসের পাশপাশি বল হাতে নিয়েছেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। ভারতের ইনিংসের শুরুটা গড়েছিলেন তিনি ও স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana) মিলে। প্রথম ১০ ওভারেই স্কোর ৬৪/০—দলের ভিত মজবুত করে দেন দুই ওপেনার। এরপর মান্ধানা আউট হলেও শেফালি ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গড়েছেন, রান তুলেছেন শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে।
ফাইনালের পর সাংবাদিক সম্মেলনে শেফালি বলেন, ‘চাপ থাকলেও বিশ্বাস ছিল নিজের উপর। সিনিয়ররা—স্মৃতি দিদি, হরমন দিদি—সবাই বলছিলেন নিজের খেলা খেলতে। এই কথাটাই আমাকে শান্ত রাখে। আমার মাথা পরিষ্কার ছিল, প্ল্যান ঠিক মতো কাজে লাগাতে পেরেছি!’ ২১ বছর ২৭৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার হিসেবে শেফালিই এখন সবচেয়ে কমবয়সী ক্রিকেটার—পুরুষ বা মহিলা, দুই বিভাগেই।