দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য ছিল ‘প্রায়’-এর গল্প। ২০০৫ ও ২০১৭, দু’দুবার ফাইনালে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়েছিল স্বপ্ন। কিন্তু হরমনপ্রীতদের হাতে যখন সেই বহু প্রতীক্ষিত কাপ উঠল, তখন যেন দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার স্বপ্নও বাস্তব হয়ে গেল।

ট্রফি হাতে জয়ের উল্লাস
শেষ আপডেট: 3 November 2025 09:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক দিন। মুম্বইয়ের আকাশে আতশবাজির আলোয় লেখা হল সোনালি অধ্যায়। হরমনপ্রীত কউরের (Harmanpreet Kaur) নেতৃত্বে ভারত (India Women’s Cricket Team) জিতে নিল মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপ (Women’s World Cup 2025)।
এই জয় শুধু ট্রফি নয়, এ এক যুগবদলের সূচনা। যেমন ২৫ জুন, ১৯৮৩ সালে (Kapil Dev) কপিলের দল লর্ডসে (Lord’s) ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল, তেমনই ২০২৫ সালের এই নভেম্বরের রবিবার মহিলাদের ক্রিকেটের নতুন ভোর।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য ছিল ‘প্রায়’-এর গল্প। ২০০৫ ও ২০১৭, দু’দুবার ফাইনালে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়েছিল স্বপ্ন। কিন্তু হরমনপ্রীতদের হাতে যখন সেই বহু প্রতীক্ষিত কাপ উঠল, তখন যেন দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার স্বপ্নও বাস্তব হয়ে গেল।
এই জয় কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা সবচেয়ে ভাল বুঝিয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। বলেন, ‘১৯৮৩ অনুপ্রাণিত করেছিল এক প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে। আজ মেয়েরা সেই কাজটাই করল—দেশের হাজারো মেয়েকে দেখিয়ে দিল, তারাও একদিন ব্যাট হাতে বিশ্বজয় করতে পারে।’
এই বিজয় মানে আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম। এখন মেয়েদের ক্রিকেটে অবকাঠামো, স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক উন্নত। বোর্ডের বিনিয়োগও বেড়েছে। তবু দরকার ছিল একটা বড় মঞ্চের সাফল্য, যে সাফল্য দর্শক, মিডিয়া ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে। সেই ব্রেকথ্রু এল রবিবার। হরমনপ্রীতের হাতে সেই কাপ, যা মিতালি রাজ (Mithali Raj) বা ঝুলন গোস্বামীর (Jhulan Goswami) প্রজন্মের নাগালের বাইরে থেকে গিয়েছিল। তাঁদের পাতা পথেই দাঁড়িয়ে আজ ভারতীয় মেয়েরা দেখাল, কঠোর পরিশ্রম আর বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়।
এখন প্রশ্ন, এর পর কী? এই জয় শুধু ইতিহাস নয়, ভবিষ্যতের দায়িত্বও। দেশের ছোট ছোট শহরের মেয়েরা, যারা টেনিস বল হাতে উঠোনে খেলে, তাদের জন্য এই মুহূর্তটা হবে অনুপ্রেরণার আলো। মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য আরও বড় লিগ, ভাল বেতন, স্থায়ী দর্শকভিত্তি- সবই এখন সময়ের দাবি।
হরমনপ্রীতের দল যা করেছে, তা কেবল এক ম্যাচ জেতা নয়, এটা মানসিক বাধা ভাঙার জয়। যেদিন তিনি নাদিন দে ক্লার্কের (Nadine de Klerk) ক্যাচ ধরে ট্রফি তুললেন, সেদিন বোঝা গেল- ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটের ‘প্রায়’ শব্দটা অবশেষে অতীত হয়েছে।
এই জয় তাই শুধু কাপ নয়, এক যুগান্তকারী ঘোষণা, ভারতের মেয়েরা আর ‘চ্যালেঞ্জার’ নন, তাঁরা এখন চ্যাম্পিয়ন।