ভারতের হয়ে দীর্ঘ দুই দশক খেলা এই দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার একাধিক রেকর্ডের মালিক। মিতালি মহিলাদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক, ঝুলন সর্বাধিক উইকেট নেওয়া বোলার। দু’জনেই দু'বার করে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেও ট্রফি জিততে পারেননি।

ট্রফি হাতে মিতালি ও ঝুলনরা
শেষ আপডেট: 3 November 2025 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহাসিক দিন! হরমনপ্রীত কউর নেতৃত্বাধীন ভারতের মহিলা দল প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতে নিল রবিবার। ম্যাচ জেতার পর ট্রফি তুলে দেওয়া হয় প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ ও প্রাক্তন পেসার ঝুলন গোস্বামীর হাতে। দুজনেই আবেগে ভেসে যান সতীর্থদের সামনে।
ভারতের হয়ে দীর্ঘ দুই দশক খেলা এই দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার একাধিক রেকর্ডের মালিক। মিতালি মহিলাদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক, ঝুলন সর্বাধিক উইকেট নেওয়া বোলার। দু’জনেই দু'বার করে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেও ট্রফি জিততে পারেননি। ২০০৫ ও ২০১৭, দু'বারই ফাইনালে হার দেখেছিল ভারত। অবশেষে ২০২৫-এ তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল, যদিও প্রাক্তন হিসেবেই।
ট্রফি হাতে পেয়ে মিতালি বলেন, 'ধন্যবাদ, আমি খুব খুশি।' বেশি কিছু বলেননি, কিন্তু চোখেই ধরা পড়েছিল আনন্দের ঝলক। এই দলেই হরমনপ্রীত, স্মৃতি মান্ধানা, দীপ্তি শর্মারা আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তাঁর অধিনায়কত্বে। রবিবার রাতে তাঁরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন, সেই সঙ্গে মিতালি ও ঝুলনও পেলেন বহু প্রতীক্ষিত স্বীকৃতি।
ট্রফি হাতে নিতে গিয়ে ঝুলন গোস্বামী চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। হরমনপ্রীতকে জড়িয়ে ধরলেন, ট্রফি তুললেন আকাশে। একসময়কার সতীর্থ স্মৃতি মান্ধানা ও বাংলার রিচা ঘোষের সঙ্গেও কথা বললেন। পরে প্রাক্তন অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়ার সঙ্গে যোগ দিলেন এই উদযাপনে। তিনিও ট্রফি হাতে সম্মানিত হলেন।
সবচেয়ে আগে ট্রফি পেয়েছিলেন রিমা মলহোত্রা। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ওই সময় দলের সঙ্গে গেয়ে ওঠেন ‘সাড্ডা হক’ গানটি। এই কয়েক মিনিটের দৃশ্যেই ধরা পড়েছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ- মনে করছে ক্রিকেট মহল। ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি সম্প্রচারকারীরাও বিনা বিজ্ঞাপনে সরাসরি দেখান।
হরমনপ্রীত কউর বলেন, “ঝুলন দি আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। যখন দলে যোগ দিই, উনি তখন অধিনায়ক। প্রথম দিকে অঞ্জুম দিও অনেক সাহায্য করেছিলেন। তাঁদের থেকে যা শিখেছি, সেটাই নিজের টিমের ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছি। আজ তাঁদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পেরে কৃতজ্ঞ। আমরা সবাই অনেক দিন ধরে এই ট্রফিকে ছোঁয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেটা সম্ভব হল।”