তাঁর তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় প্রোটিয়া ব্যাটিং। শামি পাঁচটি উইকেট নেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ সাত ব্যাটার মিলে মাত্র ২২ রান করতে পারেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর, অরুণ আবার শামির সামনে বিরিয়ানির একটি প্লেট রাখেন এবং তাঁকে যত ইচ্ছা খেতে বলেন।

মহম্মদ শামি ও রবি শাস্ত্রী
শেষ আপডেট: 18 June 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটের ‘শাস্ত্রীয়’ যুগে মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) গুরুত্ব ছিল অপিরসীম। জসপ্রীত বুমরাহর সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতকে অনেক জয় এনে দিয়েছে। ভারতের প্রাক্তন হেড কোচ (Former head Coach of Team India) রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri) দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিশতেন বন্ধুর মতো। চলত ঠাট্টা-ইয়ার্কিও। মহম্মদ শামির সঙ্গেও খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল শাস্ত্রীর। সেই সময়কারই একটি মজার ঘটনা (Funny Moments) এবার প্রকাশ্যে এল।
ভারতীয় দলের প্রাক্তন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী এবং প্রাক্তন বোলিং কোচ ভরত অরুণ (Bowling Coach Bharat Arun) ফাস্ট বোলার মহম্মদ শামির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা শেয়ার করেছেন। শাস্ত্রী এবং অরুণ জানিয়েছেন, কীভাবে শামিকে বিরিয়ানির জন্য তিরস্কার করা হয়েছিল আর যার কারণে ফাস্ট বোলার রেগে গিয়ে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দিয়েছিলেন।
এই ঘটনাটি ২০১৮ সালে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়কার। তিন ম্যাচের সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি ছিল জোহানেসবার্গে। ম্যাচের চতুর্থ দিন দক্ষিণ আফ্রিকার ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের জন্য ২২৩ রানের প্রয়োজন ছিল এবং তাদের হাতে ছিল আট উইকেট। প্রোটিয়ারা চতুর্থ দিনে মধ্যাহ্নভোজে যায় সাত উইকেট হাতে নিয়ে। জয় থেকে তারা তখনও ১৭১ রান দূরে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় রবি শাস্ত্রী লক্ষ্য করেন, মহম্মদ শামি পুরো এক প্লেট বিরিয়ানি (Biriyani) নিয়ে বসেছেন।
সোনি স্পোর্টসের সঙ্গে কথোপকথনে শাস্ত্রী বলেন, “জোহানেসবার্গে সেদিন খুব গরম ছিল। ম্যাচে শেষ দিন সেটি। শেষ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৪০ রানের প্রয়োজন ছিল। হাতে ছিল আট উইকেট। দুপুরের খাবারের সময় যখন আমি শামির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখলাম তাঁর প্লেটে বিরিয়ানিতে ভর্তি।”
শাস্ত্রীর কথার রেশ ধরে তখন ভরত অরুণ বলেন, শামিকে এক প্লেট বিরিয়ানি খেতে দেখে রীতিমতো তিরস্কার করা হয়। অরুণ বলেন, “রবি শামির পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, এর পরে কি তোমার খিদে কমবে?” শামি রেগে বিরিয়ানির পুরো প্লেটটিই তুলে দেন।
শাস্ত্রী সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, “শামি রেগে বলে, প্লেটটা নাও। আমি বিরিয়ানি চাই না।” শামির রাগ দেখে রবি শাস্ত্রী অরুণকে বলেন তাঁকে একা ছেড়ে দিতে।
ভরত অরুণ বলেন, “রবি আমার কাছে এসে বলল, শামি রেগে আছে। ওকে এভাবেই থাকতে দাও। যদি তুমি কিছু বলতে চাও তাহলে বল, আগে উইকেট নিয়ে দেখাও, তারপর কথা হবে। তোমার এই রাগ বোলিংয়ে নিংড়ে দাও।”
আর বঙ্গ পেসার শামি সেটাই করলেন বাইশ গজে। তাঁর তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় প্রোটিয়া ব্যাটিং। শামি পাঁচটি উইকেট নেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ সাত ব্যাটার মিলে মাত্র ২২ রান করতে পারেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর, অরুণ আবার শামির সামনে বিরিয়ানির একটি প্লেট রাখেন এবং তাঁকে যত ইচ্ছা খেতে বলেন।
শাস্ত্রী বলেন, “ম্যাচ শেষ হয়ে গেল। শামি এল এবং অরুণ ওর কাছে গিয়ে বিরিয়ানি দিল। অরুণ বলল, বিরিয়ানি নাও। এখন যত ইচ্ছা খাও।” জবাবে শামি বললেন, “সবসময় আমাকে রাগিয়ে দাও, তাহলে আমি এরকমই জবাব দেব।” ওয়ান্ডারার্স মাঠে এটি ছিল ভারতের দ্বিতীয় জয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সামগ্রিকভাবে তৃতীয় জয়।