Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহেরথাকবে না লাল কার্ড, খেলা ৫০ মিনিটের! ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে ছকভাঙা প্রস্তাব নাপোলি-প্রধানেরনতুন সূর্যোদয়! নীতীশের ছেড়ে যাওয়া মসনদে সম্রাট চৌধুরী, প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেল বিহারমাত্র ৫০০ টাকার পরীক্ষা বাঁচাবে কয়েক লাখের খরচ, কেন নিয়মিত লিভারের চেকআপ জরুরি?অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ! কমিশনের ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ’ দেখাল তৃণমূল৪২-এ বেবি বাম্প নিয়েও ওয়েট লিফটিং! স্বামী বরুণের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে রোম্যান্স করিশ্মার

অবসাদ ভুলতে বেলাগাম কেনাকাটা করেন করুণ, এটাই কি চূড়ান্ত নিরাময়? কী বলছে মনোবিজ্ঞান?

অন্তিম ম্যাচ পর্যন্ত ধৈর্য ধরেছিলেন করুণ। কিন্তু তারপরেও যখন শিকে ছিঁড়ল না, প্রচণ্ড আঘাতে তালজ্ঞান ভুলে মাত্রাছাড়া, বেলাগাম শপিংয়ে বেরিয়ে যন্ত্রণা উপশমের রাস্তা খুঁজেছিলেন।

অবসাদ ভুলতে বেলাগাম কেনাকাটা করেন করুণ, এটাই কি চূড়ান্ত নিরাময়? কী বলছে মনোবিজ্ঞান?

করুণ নায়ার

শেষ আপডেট: 18 June 2025 12:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের অন্ধকার অতীত, দুঃসময়, আচমকা আঘাত, অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা, অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও ভাগ্য সদয় না হওয়া… যতবার, যত রকমভাবে ব্যাখ্যা করছেন করুণ নায়ার, খুলে যাচ্ছে অবসাদ ও তার নিরাময়ের এক একটা স্তর।

যেমন দু’দিন আগেই বলেছিলেন, ফেলে আসা জীবন আর ফিরে দেখতে চান না। জানিয়েছিলেন এক নামকরা ক্রিকেটারের কথা, যিনি করুণকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পণ্ডশ্রমের বদলে আইপিএলে মনযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এবার প্রকাশ্যে আনলেন ২০১৮ সালের ইংল্যান্ড সফরের ঘটনা। যখন কোচের কুর্সিতে ছিলেন রবি শাস্ত্রী, অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ত্রিশতরানের পরেও আস্ত পাঁচ টেস্টের সিরিজ বেঞ্চে বসে কাটান করুণ। শুধু তাই নয়। দলে প্রাথমিকভাবে জায়গা না পাওয়া হনুমা বিহারিকে দেশ থেকে উড়িয়ে আনা হয়। করুণের বদলি হিসেবে হনুমা দলে সুযোগ পান।

অন্তিম ম্যাচ পর্যন্ত ধৈর্য ধরেছিলেন করুণ। কিন্তু তারপরেও যখন শিকে ছিঁড়ল না, প্রচণ্ড আঘাতে তালজ্ঞান ভুলে মাত্রাছাড়া, বেলাগাম শপিংয়ে বেরিয়ে যন্ত্রণা উপশমের রাস্তা খুঁজেছিলেন।

ঠিক কেমন ছিল সেই দিন? আঁধারভরা সময়, যখন জানতে পারলেন অন্তিম টেস্টেও দলে জায়গা পাবেন না? করুণের কথায়, ‘মনে হচ্ছিল, কেউ জোরে মাটিতে ছুড়ে মারল। জানতাম না, কোথায় যাব, কী করব।‘

আর এই হতাশা থেকে অবসাদ কাটাতেই শপিংয়ে বেরিয়ে পড়েন। এলোপাথাড়ি জিনিস কিনতে থাকেন। যাদের কিছু কিছু বেশ দামি ব্র্যান্ডের। শৌখিন জিনিস কেনার ধাত থাকলেও পকেট বুঝে চিরকাল কেনাকাটা করেছেন। কিন্তু দল থেকে বাদ পড়ার পর, ভাল খেলেও সুযোগ না জোটার পর সেদিন সমস্ত বাঁধন ছিঁড়ে উন্মাদের মতো শপিংয়ে মেতেছিলেন করুণ।

স্মৃতিচারণে বলেছেন, ‘দল বাছাইয়ের খবর যখন সামনে এল, সেই সময়টা আমি কোনওদিন ভুলব না। বুঝতে পারছিলাম না কোথায় যাব, কী করব। তাই অক্সফোর্ড স্ট্রিট ধরে হাঁটতে শুরু করি। যা কিছু নজরে আসে, কিনতে থাকি। আমি কোনওদিনই দামি জিনিস কেনার ছেলে নই। কিন্তু একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে শুরু করে: কেন আমি এমন ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছি, যার উপর আমার নিজের এতটুকু নিয়ন্ত্রণ নেই?’

কী কী কিনেছিলেন সেদিন? করুণের কথায়, ‘একজোড়া লুই ভিত্তোর জুতো। এর আগে কোনওদিন এ কাজ করিনি। কখনও টাকা উড়িয়ে দিইনি। আমার আগ্রহ ছিল শুধুমাত্র ক্রিকেটে। চাইতাম দেশের হয়ে খেলতে।‘

এই যে অবসাদের ঘোরে সত্তার বাইরে বেরিয়ে এসে বেলাগাম, নিয়ন্ত্রণহীন কেনাকাটা, মনোবিদরা একে অবসেসিভ বায়িং ডিসঅর্ডার (OBD) বা কম্পালসিভ বায়িং ডিসঅর্ডার (CBD) বলে থাকেন। এটা এমন আসক্তি, যেখানে একজন অবসন্ন ব্যক্তি জেনেবুঝে আর্থিক ক্ষতিসাধন করেন। তিনি জানেন, এই জিনিস কেনা, টাকা ওড়ানো সাময়িক সুখ দেবে। কিন্তু যন্ত্রণার পাকাপাকি নিরাময় ঘটাবে না। তা সত্ত্বেও অবসাদের পাকচক্রে নিজেকে বের করতে ব্যর্থ হন।

এখনও পর্যন্ত মানসিক বিকারের যে সমস্ত ম্যানুয়েল রয়েছে, সেখানে CBD স্বতন্ত্রভাবে নথিভুক্ত না হলেও মনোবিদরা একে ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার ও অবসেসিভ কন্ট্রোল ডিসঅর্ডারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর মূল লক্ষণই হচ্ছে: নিয়ন্ত্রণহীন কেনাকাটা, অস্থায়ী স্বস্তি ও অনুশোচনা।

এই অপরাধবোধ যে কতটা তীব্র, করুণ নায়ার তাও খোলসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমার ইচ্ছে করছিল নিজেকে খুশি রাখতে, আনন্দ দিতে। আর বোকার মতো আমি ভেবে যাই, এভাবে কেনাকাটা করলে আমি ভাল থাকব, শান্তি পাব। আমি অক্সফোর্ড স্ট্রিটের রাস্তা ধরে জিনিসের পর জিনিস কিনে যাই। ব্যাগ ভর্তি করে ফিরে আসি।‘

ক্রিকেট করুণের জীবনের সর্বস্ব হয়ে উঠেছিল। তাঁর সুখ, তাঁর ভবিষ্যৎ, তাঁর স্বপ্ন। অথচ অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে বঞ্চনা করা হয়। এই ধাক্কা তিনি মেনে নিতে পারেননি। মনোবিদ জন বোলবি হয়তো একেই বলেছেন ‘অ্যাটাচেমেন্ট ট্রমা’। এই ট্রমাই CBD-র রাস্তা গড়ে দেয়। যা ছিল পরম মোক্ষ, আন্তিম লক্ষ্য—সেই বিষয় যদি চলে যায় কিংবা সরে যায়, তখন জীবনের উপর সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মানুষ বেলাগাম, বেপোরোয়া কেনাকাটায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। টাকা ওড়ানো আর দামি জিনিস ব্যাগবন্দি করাই ‘প্রত্যাখ্যানে’র নিরাময়ে ‘সেলফ-ভ্যালিডেশন’ হিসেবে হাজির হয়। ‘আমি কি যথেষ্ট?’ এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলে না। কিন্তু কিছুক্ষণের জন্য কঠিন বাস্তব চোখের আড়ালে থাকে। সেটাই স্বস্তি দেয়, নিশ্চিন্তে রাখে।

এই নেগেটিভ ইনফোর্সমেন্ট লুপ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কীভাবে? পরিশ্রমই কি ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র? কোনওদিন হয়তো তা বিস্তারে বলবেন করুণ নায়ার।


```