সবকিছু এখনও নির্ভর করছে সরকারি ছাড়পত্র ও শারীরিক ফিটনেসের উপর। বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বোর্ডের আপত্তি না থাকলেও প্রশাসনিক সবুজ সংকেত জরুরি।

শাকিব আল হাসান
শেষ আপডেট: 25 January 2026 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রশ্নের অবশেষে সদুত্তর মিলল। প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানকে (Shakib Al Hasan) কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের দরজা খুলে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)। তবে আপাতত দরকার সরকারি ছাড়পত্র। তা হাতে এলেই জাতীয় দলে শাকিবের প্রত্যাবর্তনে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা থাকছে না—বিসিবি সূত্রে এমনটাই ইঙ্গিত।
শাকিবকে নিয়ে সিদ্ধান্ত এল এমন এক সময়ে, যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্রীড়াজগৎ দু’দিক থেকে অস্থির। উপরন্তু টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করেছে দেশের ক্রিকেট টিম। এই পরিস্থিতিতে বিসিবির প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক্তন অধিনায়ককে ফেরানোর উদ্যোগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে শাকিব, বদলাচ্ছে বিসিবির অবস্থান
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বোর্ড স্পষ্ট করে দেয়, শাকিব এখনও জাতীয় দলের জন্য প্রাসঙ্গিক। এক বোর্ড কর্তা বলেন, ‘শাকিব যদি ফিট থাকে এবং যেখানে ম্যাচ হবে সেখানে খেলতে রাজি থাকে, তাহলে তাঁকে দলে বিবেচনা করা হবে!’ পাশাপাশি জানানো হয়, বিদেশি লিগ বা টুর্নামেন্ট খেলতে শাকিবকে প্রয়োজনীয় এনওসি (NOC) দিতেও আপত্তি নেই বোর্ডের।
রাজনৈতিক কারণে কয়েক মাস আগেও শাকিবকে নিয়ে বোর্ডের অবস্থান ছিল যথেষ্ট সতর্ক। প্রাক্তন আওয়ামি লিগ সাংসদ হওয়ার কারণে (Awami League) তাঁকে নিয়ে জনমত ও প্রশাসনিক স্তরে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, বিসিবি এখন অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটীয় মূল্যকে অগ্রাধিকার দিতে ইচ্ছুক।
এহেন ঘোষণার দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council) বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) থেকে সরিয়ে দেয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে সফর না করার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সূচি অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে শাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পাশে রাখা বোর্ডের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ।
শাকিব কী চাইছেন?
জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও শাকিব থেমে নেই। বিশ্বের নানা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন নিয়মিত। তবে তাঁর লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশে ফিরে সম্মানজনক বিদায়। সম্প্রতি ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’পডকাস্টে (Beard Before Wicket) মঈন আলির (Moeen Ali) সঙ্গে কথোপকথনে শাকিব খোলাখুলি বলেন, ‘আমি এখনও খেলছি শুধু এই জন্য, যাতে দেশে ফিরে অবসর নিতে পারি!’ তিনি আরও জানান, এখনও কোনও ফরম্যাট থেকেই আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি। পরিকল্পনা পরিষ্কার—বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেই তিন ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানো। শাকিবের কথায়, ‘একটা টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-২০ সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চাই। দেশের দর্শকদের সামনে শেষটা করতে পারলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
প্রত্যাবর্তনের শর্ত ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
তবে সবকিছু এখনও নির্ভর করছে সরকারি ছাড়পত্র ও শারীরিক ফিটনেসের উপর। বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বোর্ডের আপত্তি না থাকলেও প্রশাসনিক সবুজ সংকেত জরুরি। তবু এই সিদ্ধান্তে এটুকু পরিষ্কার—বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন করে নিজেদের স্থিতিশীল করতে চাইছে, আর সেই পথে শাকিব আল হাসানের মতো অভিজ্ঞ মুখকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে নারাজ।