গুয়াহাটিতে তাঁর সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, সিরিজের গতিপথও ঘুরিয়ে দিল। চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে শান্ত মাথায় খেলা—মুথুস্বামীর আসল শক্তি। আজকের ইনিংসে এই হলমার্কই ঝলসে উঠল।

সেনুরান মুথুস্বামী
শেষ আপডেট: 23 November 2025 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটিতে (Guwahati) ভারতকে চাপে ফেলে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) অলরাউন্ডার সেনুরান মুথুস্বামী (Senuran Muthusamy)। কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়েছেন। আটটি টেস্ট খেলা এই ক্রিকেটারের আগের সেরা ইনিংস ছিল অপরাজিত ৮৯, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এবার ১৯২ বলে ছুঁলেন তিন অঙ্কের গর্ব—তাও চাপের ম্যাচে!
রবিবার সকালে আগের দিনের জুটি—মুথুস্বামী এবং কাইল ভেরাইন (Kyle Verreynne)—শুরু থেকেই সাবধানী ব্যাটিং চালান। বাইরে বেরনো বল ছেড়ে, খারাপ ডেলিভারিতে রান তোলার চেষ্টা। ১২১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি, তারপর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান মুথুস্বামী। ভেরাইন ১২২ বলে ৪৫ রান করে টি–ব্রেকের পর স্টাম্পড হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রানের গতি কমেনি। মুথুস্বামী পরে মার্কো জানসেনকে (Marco Jansen) পাশে পান। দু’জনে মিলে দলকে ৪০০–র গণ্ডি পার করান। দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টতই অতিথিদের হাতে।
কে এই মুথুস্বামী?
১৯৯৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ডারবানে জন্ম। দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হলেও পারিবারিক শেকড় ভারতের তামিলনাড়ুতে—পরিবারের একাংশ এখনও নাগাপট্টিনমে থাকেন। ছোটবেলায় ডারবানে খেলা শুরু। স্কুল ক্রিকেট, ক্লাব ক্রিকেট—সব জায়গায় নজর কাড়েন।
ক্লিফটন কলেজে পড়াশোনা শেষে ইউনিভার্সিটি অফ কোয়াজুলু–নাটাল থেকে মিডিয়া ও মার্কেটিং নিয়ে স্নাতক হন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কোয়াজুলু–নাটালের (KwaZulu-Natal) হয়ে অনূর্ধ্ব–১১ থেকে খেলেছেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব–১৯ সেটআপেও ডাক পান। ২০১৫–১৬ মরসুমে ডলফিনস তাঁকে টপ–অর্ডার ব্যাটার হিসেবে সই করায়। ২০১৭-তে নাইটসের বিরুদ্ধে ১৮১ রানের বড় ইনিংস খেলেন। কিন্তু পরে ব্যাটিং ফর্ম পড়ে যায়। যদিও তাঁর বোলিং শুরু করে ধারাল হতে। প্রাক্তন সতীর্থ ইমরান খান (Imraan Khan) পরে জানান, ব্যাট হাতে দক্ষতা কমলেও বোলিং এতটাই উন্নত হয়েছিল, যে তিনি নিজেকে ‘জেনুইন অলরাউন্ডার’ হিসেবেই গড়ে তোলেন।
এই উন্নত বোলিংয়ের সুবাদে মুথুস্বামী ২০১৯ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ভাইজাগ টেস্টে জাতীয় দলে ডাক পান। সেই ম্যাচে তাঁর প্রথম শিকার—বিরাট কোহলি (Virat Kohli), কট অ্যান্ড বোল্ড! সেই মুহূর্তই বুঝিয়ে দেয়, তাঁর বড় মঞ্চে নার্ভ ধরে রাখার ক্ষমতা কতটা তীব্র।
তবে জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ সহজে মেলেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন ডিপার্টমেন্টে কেশব মহারাজের (Keshav Maharaj) ধারাবাহিকতা ও ব্যাক-আপ স্পিনারের প্রতিযোগিতা জায়গা পাকা হতে দেয়নি। তবুও তিনি দলে এক নীরব, পরিশ্রমী, কার্যকর সদস্য হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছেন। গুয়াহাটিতে তাঁর সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, সিরিজের গতিপথও ঘুরিয়ে দিল। চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে শান্ত মাথায় খেলা—মুথুস্বামীর আসল শক্তি। আজকের ইনিংসে এই হলমার্কই ঝলসে উঠল।