দক্ষিণ আফ্রিকা প্রায় দেড় দিন ধরে ব্যাট করছে। সিরিজে ১-০ এগিয়ে, তাই রান তোলার তাড়া নেই—শুধু সময় কাটালেই যথেষ্ট। ভারত উলটো দিকে বিপাকে।
.jpeg.webp)
পন্থ ও কুলদীপ
শেষ আপডেট: 23 November 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটির বাইশ গজে (Barsapara Stadium) বোলারদের জন্য কোনও বাড়তি সহায়তা নেই—এটা দিন–শুরুর আগেই পরিষ্কার ছিল। কিন্তু বাস্তবে যা হল, তাকে স্রেফ ‘হতাশাজনক’ বলা যায় কি? প্রোটিয়াদের বাগে পেয়েও ফাঁস গলিয়ে পালাতে দেওয়া, বিশেষ করে যখন সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে মাঠে নামা হয়েছে, নিছক ব্যর্থতা নয়… ধারাবাহিক অধঃপতনের উপসর্গ মাত্র!
ঘরের মাঠে এই রোগ নতুন নয়, পুরনো। ইডেনে এর ঝলক মিলেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ ছিল অশনি সংকেত। তবু টিম ইন্ডিয়ার ভুল যে শোধরানোর নয়, তার প্রমাণ মিলল দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে। দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) তুলল ৬৯ রান, একটাও উইকেট যায়নি, আর ভারত (India)? পুরোপুরি নখদাঁতহীন। ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant) অধিনায়কত্বে মাঠে যে নেতিবাচক ভাব ফুটে উঠল, তা নিয়ে তিতিবিরক্ত প্রাক্তন অধিনায়ক অনিল কুম্বলে (Anil Kumble)। শুভমানের জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া উইকেটকিপারের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়ে তুললেন প্রশ্ন।
শনিবার শেষ বিকেলে টনি ডে জর্দিকে (Tony de Zorzi) আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৪৬/৬–এ আটকে দিয়েছিল ভারত। অনুমান করা গেছিল, সকাল সকাল হয়তো চাপ তৈরি করা যাবে। কিন্তু শুরু থেকেই ছবি পালটে যায়। ব্যাট হাতে জমে গেলেন সেনুরান মুথুসামি (Senuran Muthusamy) এবং কাইল ভেরেইনে (Kyle Verreynne)। লাঞ্চের আগেই স্কোর দাঁড়াল ৩১৬/৬। ভারতীয় বোলাররা মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে ১১১ ওভার বল করেও কোনও ব্রেকথ্রু পেতে ব্যর্থ!
স্টার স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দিতে বসে কুম্বলে সোজাসুজি জানালেন, প্রথম সেশনেই ভারতের ফিল্ড সেট–আপে গলদ ছিল। কোনও শর্ট লেগ নেই, নেই সিলি পয়েন্ট—যেখানে অচেনা উইকেটে শুরুতে চাপ তৈরি করাটাই দস্তুর। প্রথমে জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) ও মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj), পরে স্পিনাররা—কারও স্পেলেই ধরা পড়েনি স্পষ্ট পরিকল্পনা। কুম্বলে বলেন, ‘ওরা যখন দিন শুরু করছে, তখন তোমাকে আক্রমণাত্মক হতে হত। শেষ ওভারে দেখলাম শর্ট লেগ, সিলি পয়েন্ট রাখা হল—ওগুলো তো শুরুতেই থাকা উচিত ছিল।’
মুথুসামি ১৭৯ বল খেলে ফেললেন। তাড়াহুড়ো নেই। স্ট্রাইক রোটেট করছেন, আরামসে রান তুলছেন। ভারতীয় দল কোনও জায়গায় তাঁকে চাপে ফেলতে পারল না। কুম্বলের ভাষায়, ‘এই উইকেটে কিছুই হচ্ছে না। তাই বলকে কিছু করাতে হয়—বোলাররা এতেই ব্যর্থ, আর ফিল্ড প্ল্যানও সাহায্য করছে না!’
ভারতীয় পেসার–স্পিনার কেউই এমন উইকেটে দীর্ঘদিন খেলেনি—এ ভাবনাও উঠে এল প্রাক্তন অধিনায়কের বিশ্লেষণে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে টার্নিং ট্র্যাকেই বেশি খেলা—যেখানে উইকেট আসে সহজে। সেখানে ফিল্ড নিয়ে তেমন ভাবনার দরকার পড়ে না। কিন্তু গুয়াহাটির বাইশ গজে (Guwahati Pitch) স্বাভাবিক বাউন্স, কম টার্ন—এমন পিচে উইকেট পেতে হলে তৈরি করতে হয় ফাঁদ। যে কারণে কুম্বলের মন্তব্য, ‘লং অফ, লং অন, ডিপ কাভার রেখেই যদি শুরু কর, ব্যাটার তো আরও নিশ্চিন্ত হবে!’ তাঁর মতে, ভারতের বোলাররা এমন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত নয় বলেই সমস্যা আরও প্রকট।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রায় দেড় দিন ধরে ব্যাট করছে। সিরিজে ১-০ এগিয়ে, তাই রান তোলার তাড়া নেই—শুধু সময় কাটালেই যথেষ্ট। ভারত উলটো দিকে বিপাকে। এই মুহূর্তে আবারও হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ঝুঁকি—গত বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড (New Zealand) ৩-০–তে হারিয়েছিল, ইতিহাসে প্রথমবার! এমন পরিস্থিতিতে আঙুল উঠছে পন্থের সিদ্ধান্ত নিয়ে। নেতৃত্বে আগ্রাসনের অভাব, বোলারদের প্রয়োজনীয় চাপ না–তোলা, গুয়াহাটিকে জোহাসেনবার্গ ভেবে প্রোটিয়াদের প্রাণের আরামে ব্যাটিং—সব মিলিয়ে গুয়াহাটির দ্বিতীয় দিনের সকালটা ভারতের জন্য কড়া সতর্কবার্তা।