বাংলাদেশি পেসারকে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত এখন নিছক ক্রিকেটীয় বৃত্তে আটকে নেই। এতে জড়িয়ে পড়েছে কূটনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বার্তা।

হাসিনা-মুস্তাফিজুর-ওয়েইসি
শেষ আপডেট: 5 January 2026 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিনি নিলামে নাম থাকা সত্ত্বেও পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএল খেলার সুযোগ না দিয়ে বাংলাদেশ ফেরানো নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও চওড়া হল। এ বার প্রশ্ন তুললেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। তাঁর বক্তব্য, মুস্তাফিজুরকে স্বদেশে পাঠানো হলে, একই যুক্তিতে কেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও (Sheikh Hasina) ফেরত পাঠানো হচ্ছে না? এই সওয়াল তুলে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’বলে কটাক্ষ করেছেন।
ওয়েইসির মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিসিসিআই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (Kolkata Knight Riders) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অশান্তির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ক্রিকেট, রাজনীতি আর ‘দ্বৈত মানদণ্ড’
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওয়েইসির বলেন, ‘পহলেগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরেও আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপে (Asia Cup) খেলেছি। তাহলে এখন হঠাৎ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ফেরানোর যুক্তি কী?’ তাঁর দাবি, খেলাধুলোর ক্ষেত্রে রাজনীতি টেনে আনা হলে, তা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। ওয়েইসির আরও অভিমত, ‘যদি খেলাধুলোর ময়দানে কূটনীতি ঢোকানো হয়, তবে সেটা যেন বেছে বেছে করা না হয়।’ স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ
ওয়েইসির মন্তব্য স্রেফ বাংলাদেশি পেসার ইস্যুতে আটকে থাকেনি। আলোচনা ঘুরে গিয়েছে শেখ হাসিনার দিকে। নাম না করে এআইএমআইএম প্রধান বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি মহিলা বহু দিন ধরে ভারতে রয়েছেন। তাহলে তাঁকে কেন পাঠানো হচ্ছে না? বাংলাদেশ তো চাইছে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে!’ ওয়েইসির দাবি, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত এই বিষয়েও একটা স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে। তবে হাসিনা ও তাঁর পরিবারের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কোনও বিচার ‘নিরপেক্ষ’হবে না। পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে ভারতও বাংলাদেশের তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (International Crimes Tribunal) রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত ও বিরোধী মত
বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই ভিন্নমত দেখা গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Shashi Tharoor) সহ একাধিক নেতা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, খেলাধুলোর সঙ্গে রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভারতের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। তাদের যুক্তি, ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আগেভাগে জানানো হয়েছে যাতে বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে নিতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত যে কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ওয়েইসির মন্তব্যেই স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশি পেসারকে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্ত এখন নিছক ক্রিকেটীয় বৃত্তে আটকে নেই। এতে জড়িয়ে পড়েছে কূটনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বার্তা। ওয়েইসির মন্তব্য—‘হাসিনাকেও পাঠান’—এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলল।