টিম কম্বিনেশন ও কৌশলই ঠিক করবে—কোন পথে হাঁটবে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি।

ফজলহক ফারুকি
শেষ আপডেট: 4 January 2026 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা। বিসিসিআইয়ের (BCCI) নির্দেশে বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছাড়তে হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির টানাপড়েনে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে কেকেআরের বোলিং কম্বিনেশন নতুন করে আলোচনায়। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে আর ডেথ ওভারে বাঁ-হাতি পেসারের যে বিশেষ ভূমিকা ছিল, তা পূরণ করা সহজ নয়। তবে আইপিএল নিলামে এখনও কয়েকজন বোলার রয়েছেন, যাঁরা হতে পারেন বাস্তবসম্মত বিকল্প। আবেগ নয়, শুধুই পারফরম্যান্স ধরে দেখে নেওয়া যাক এমনই তিনটি নাম।
ফজলহক ফারুকি: সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প
আফগানিস্তানের বাঁ-হাতি পেসার ফজলহক ফারুকিকে (Fazalhaq Farooqi) মুস্তাফিজুরের ‘লাইক-ফর-লাইক’ বিকল্প বলা যায়। নতুন বল সুইং করানো, মাঝের ওভারে কন্ট্রোল রাখা এবং ডেথে ইয়র্কার—তিন দিকেই অভিজ্ঞ। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মিলিয়ে তাঁর টি-২০ রেকর্ড যথেষ্ট সমৃদ্ধ। যদিও আইপিএলে পারফরম্যান্স এখনও চোখধাঁধানো নয়, তবু সাম্প্রতিক আইএলটি২০-তে তাঁর উন্নতি নজরে পড়েছে। সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট—বয়স কম, বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আর চাপ সামলানোর মানসিকতা। কেকেআরের মতো দলে স্পষ্ট ভূমিকা পেলে ফারুকির পারফরম্যান্স আরও ধারালো হতে পারে।
জেসন বেহরেনডর্ফ: অভিজ্ঞতা দিয়ে ঘাটতি ঢাকার চেষ্টা
অস্ট্রেলিয়ার জেসন বেহরেনডর্ফ (Jason Behrendorff) নামটা খুব চকচকে না হলেও নির্ভরযোগ্য। বাঁ-হাতি পেসার হিসেবে নতুন বলে সুইং আর পাওয়ারপ্লেতে উইকেট তোলা মূল শক্তি। বয়স বেশি, কিন্তু টি-২০ লিগে ধারাবাহিকভাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আইপিএলে আগেও খেলেছেন, ভারতের কন্ডিশন অচেনা নয়। কেকেআরের ক্ষেত্রে বেহরেনডর্ফ মানে ‘লো-রিস্ক অপশন’। খুব বেশি উইকেট না পেলেও রান আটকে রাখবেন—এই ভরসা রয়েছে। দল যদি তরুণ পেসারদের পাশে একজন অভিজ্ঞ হাত চায়, বেহরেনডর্ফ বেশ কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন।
জশুয়া লিটল: বাজেটের মধ্যে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ
আয়ারল্যান্ডের জশুয়া লিটল (Joshua Little) তুলনায় কম আলোচিত, কিন্তু পরিসংখ্যান খারাপ নয়। গতি আছে, অ্যাঙ্গেল আছে আর রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতাও। গুজরাত টাইটান্সের হয়ে আইপিএলে খেলার সুবাদে ভারতীয় ব্যাটারদের বিরুদ্ধে তাঁর ধারণাও তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর—দাম। অন্য দু’জনের তুলনায় অনেক কম বেস প্রাইস। কেকেআর যদি বাজেট বাঁচিয়ে অন্য জায়গায় খরচ করতে চায়, লিটল হতে পারেন স্মার্ট পছন্দ। যদিও মুস্তাফিজুরের মতো ডেথ স্পেশালিস্ট এখনও নন, কিন্তু সঠিক ব্যবহারে তাঁকে তৈরি করা সম্ভব।
শেষ কথা
মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেকেআরের (KKR) হাতে ছিল না। এখন প্রশ্ন, ক্ষতি কীভাবে সামলানো যায়। ফারুকি সবচেয়ে কাছাকাছি বিকল্প, বেহরেনডর্ফের অভিজ্ঞতা ভরসা আর জশুয়া লিটল ভবিষ্যতের জন্য বাজেট বিনিয়োগ। টিম কম্বিনেশন ও কৌশলই ঠিক করবে—কোন পথে হাঁটবে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি।