সব মিলিয়ে আজ আমদাবাদে উৎসবের আবহ দ্বিগুণ। একদিকে ক্রিকেটের লড়াই, অন্যদিকে পপ সঙ্গীতের আসর। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে মিলেনিয়ালদের মুখে একটাই কথা—খেলা থাক, আগে রিকির গান।

রিকি মার্টিন
শেষ আপডেট: 8 March 2026 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট খানিক অপেক্ষা করতে পারে, তাই বলে রিকির শো? কদাপি নয়!
আজ মহারণ। টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল৷ মুখোমুখি ভারত-নিউজিল্যান্ড৷ খেলা সেই স্টেডিয়ামে, যেখানে তেইশের ওয়ানডে বিশ্বযুদ্ধে দুরমুশ হতে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। খালি হাতে ময়দান ছেড়েছিলেন বিরাট-রোহিত, চোখের জলে লাখো দর্শক-অনুরাগী।
দু'বছরে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে৷ ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহল ও বহিরঙ্গের বিন্যাস আর আগের মতো নেই৷ আস্থাভাজন তারকাদের প্রোফাইল পাল্টেছে। যাঁরা ছিলেন অন্ধের যষ্টির মতো, তাঁদের অনেকেই হয় অবসর নিয়েছেন, নয় কার্যত প্রত্যাখ্যাত! রো-কো জুটি টিমটিম করে জ্বলছেন ঠিকই৷ কিন্তু সেটা পঞ্চাশ ওভারের ময়দানে। টি-২০ ফর্ম্যাটকে বিদায় জানিয়েছেন দুই তারকা, একসঙ্গে, খেতাব জিতে।
এই আবহে ফের একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত৷ গণ-উন্মাদনা, একবুক আশাভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়েও, যথেষ্ট ঊর্ধ্বগামী। কেউ সাবধানি—সিঁদুরে মেঘ দেখে ডরাচ্ছেন৷ কেউ এখনও বিহ্বলিত আশাবাদী। ভারত জিতবে, কিউয়িদের ডানা ছাঁটবে—বুক ঠুকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করছেন।
দুই বৃত্তের বাইরে তৃতীয় বলয়ে যাঁরা, তাঁদের সিংহভাগ মিলেনিয়াল৷ ক্রিকেট পছন্দের। আজ মাঠেও আসবেন৷ কিন্তু ব্যাট বনাম বলের লড়াই দেখাটাই তাঁদের একমাত্র মোক্ষ নয়৷ আসল উদ্দেশ্য অন্যকিছু। বাইশ গজের যুদ্ধ দেখার আগে কিঞ্চিৎ বিনোদনে গা সেঁকে নেওয়া, স্মৃতির দরজা ঠেলে সেই নব্বইয়ে ফিরে যাওয়া। মনে গুঞ্জন, মুখে গুনগুন... ফাঙ্কি সুর, চটুল ছন্দের দোলা... ‘শি'স ইন্টু সুপারস্টিশনস/ ব্ল্যাক ক্যাটস অ্যান্ড ভুডু ডলস...' নিয়ে পপ দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন যিনি, সেই রিকি মার্টিনের শো আজ, খেলা শুরুর আগে। তাই সন্ধে সাতটায় লড়াই আরম্ভ হওয়ার কথা থাকলেও সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপাতে হাজির সঙ্গীত তারকাকে স্বচক্ষে দেখার ও শোনাত সুযোগ ছাড়তে নারাজ অনেকেই।
আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) আজ দুপুর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছে। গেট খুলে দেওয়া হয় বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ। মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক সমর্থকের মুখে তখন একটাই সুর—‘লিভিং লা ভিদা লোকা’ (‘Livin’ la Vida Loca’)। নব্বইয়ের দশকের সেই হিট গান ঘুরেফিরে ভেসে আসছে স্টেডিয়ামের চারপাশে।
দর্শকদের একাংশ স্পষ্টই জানাচ্ছেন, আজকের টিকিট-চাহিদার বড় কারণ ক্রিকেট নয়, রিকি মার্টিন (Ricky Martin)। কয়েকজন তরুণ সমর্থকের বক্তব্য, ছোটবেলা থেকে যাঁর গান শুনে বড় হয়েছেন, সেই শিল্পীকে সরাসরি মঞ্চে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করাটা বোকামো! আজ ফাইনালের আগে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে রিকি মার্টিনই প্রধান আকর্ষণ। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন ফাল্গুনী পাঠক (Falguni Pathak), সুখবীর সিং (Sukhbir Singh)। আন্তর্জাতিক পপ সঙ্গীত আর ভারতীয় সুর—দুইয়ের তালমিলে জমে উঠবে সঙ্গত।
দুবার গ্র্যামি এবং পাঁচবার ল্যাটিন গ্র্যামি জেতা রিকি মার্টিনের কেরিয়ারে গ্যালারি কনসার্ট নতুন কিছু নয়। ‘শি ব্যাঙ্গস’ (‘She Bangs’) কিংবা ‘দ্য কাপ অফ লাইফ’ (‘The Cup of Life’)—এই গানগুলো বহু বছর ধরে ময়দান কাঁপিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রসঙ্গত, এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে আগেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন রিকি। তাঁর কথায়, খেলাধুলা আর সঙ্গীত মানুষকে একসঙ্গে আনে। টি-২০ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে পারাটাও নাকি বিশেষ সম্মানের।
বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। তারপর সন্ধে সাতটায় ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড (India vs New Zealand) ফাইনাল। তাই সব মিলিয়ে আজ আমদাবাদে উৎসবের আবহ দ্বিগুণ। একদিকে ক্রিকেটের লড়াই, অন্যদিকে পপ সঙ্গীতের আসর। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে মিলেনিয়ালদের মুখে একটাই কথা—খেলা থাক, আগে রিকির গান।