প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলছে জম্মু–কাশ্মীর। অথচ চাপে ভেঙে পড়ার বদলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। মাঠে কর্নাটকের শরীরী ভাষায় ক্লান্তি স্পষ্ট। হাতে আর এক দিন। ইতিহাসের হাতছানি।

আকিব নবি
শেষ আপডেট: 27 February 2026 22:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) ৯১ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার পথে জম্মু ও কাশ্মীর। হুবলির কেএসসিএ গ্রাউন্ডে (KSCA Hubli Cricket Ground) ফাইনালের চতুর্থ দিনের শেষে স্কোর ১৮৬/৪। লিড ৪৭৭ রানের। বাকি মাত্র এক দিন। সার অর্থ: প্রথম শিরোপা জয় আর এক ধাপ দূরে! দুরন্ত পারফরম্যান্সের নেপথ্যে দু’টি নাম—আকিব নবি (Auqib Nabi) এবং কামরান ইকবাল (Qamran Iqbal)।
আকিবের আগুনে স্পেল
চতুর্থ দিনের শুরুতে কর্নাটক (Karnataka) ছিল ২২০/৫। ক্রিজে সেট ব্যাটার মায়াঙ্ক আগরওয়াল (Mayank Agarwal)। সেখান থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন আকিব নবি। প্রথমে এলবিডব্লিউ। মায়াঙ্ক ১৬০ রানে সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারে আরও এক উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২৩ ওভারে ৫৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট ছিনিয়ে স্পেল শেষ করেন নবি। চলতি মরশুমে তাঁর সাত নম্বর ‘ফাইফার’! মোট উইকেট ৬০—১৭ ইনিংসে। গড় ১২.৫৬। এবারের রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তাঁর স্পেলের জোরেই জম্মুর ৫৮৪ রানের জবাবে কর্নাটক গুটিয়ে যায় ২৯৩-এ। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের লিড নবিদের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ধাক্কা, কামরানের প্রতিরোধ
দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মুর শুরুটা ভাল হয়নি। দ্রুত দুই উইকেট পড়ে যায়। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna) ও বিজয়কুমার বিশাখ (Vijaykumar Vyshak) চাপে ফেলে দেন। কিন্তু সেখানেই প্রত্যাঘাত হানেন কামরান ইকবাল। ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন। অধিনায়ক পরশ ডোগরার (Paras Dogra) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পরে আবদুল সামাদের (Abdul Samad) সঙ্গে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ।
দিনের শেষে অপরাজিত ৯৪-এ। মাত্র ছয় রান দূরে শতরান। পাঁচটি বাউন্ডারি। পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন। ঝুঁকি কম, নিয়ন্ত্রণ বেশি। সাহিল লোত্রা (Sahil Lotra) নট আউট রয়েছেন ১৬ রানে। পঞ্চম দিনে লিড আরও বাড়িয়ে কর্নাটকের সামনে প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর সফর, রাজ্যের উচ্ছ্বাস
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হুবলির পথে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, দল ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে গর্বিত করেছে। ফাইনালে পৌঁছনোই বড় সাফল্য, তবে এখন চোখ শিরোপায়।
প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলছে জম্মু–কাশ্মীর। অথচ চাপে ভেঙে পড়ার বদলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। মাঠে কর্নাটকের শরীরী ভাষায় ক্লান্তি স্পষ্ট। হাতে আর এক দিন। ইতিহাসের হাতছানি। আকিবের আগুন আর কামরানের ধৈর্য—এই দুই স্তম্ভের জোরে জম্মু–কাশ্মীর এখন রঞ্জি ট্রফি জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।