বাংলার জন্য এই হার নিঃসন্দেহে হতাশার। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বড় কিছুর সূচনা।

জম্মু ও কাশ্মীর টিম
শেষ আপডেট: 18 February 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাস লিখল জম্মু-কাশ্মীর (Jammu & Kashmir)। কল্যাণীর ময়দানে ছয় উইকেটে হারাল বাংলাকে। আর এই জয়ের সুবাদে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি (Ranji Trophy 2025-26) ফাইনালে উঠল তারা। বঙ্গ ব্রিগেডের (Bengal) স্বপ্ন থামল সেমিফাইনালেই। শেষ মুহূর্তে বংশজ শর্মা (Vanshaj Sharma) মুকেশ কুমারের (Mukesh Kumar) মাথার উপর দিয়ে বিরাট ছক্কা হাঁকাতেই জম্মু ডাগআউট মাঠে নেমে আসে। এরপর কোচকে কাঁধে তুলে উল্লাসে মেতে ওঠে গোটা টিম।
এই সাফল্যের নেপথ্যে একটাই নাম—আবদুল সামাদ (Abdul Samad)। দুই ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছেন তিনি। প্রায় একা হাতে! প্রথম ইনিংসে ৮৫ বলে ৮২। দ্বিতীয় ইনিংসেও দল যখন কোণঠাসা, তখন ব্যাট হাতে নামতেই এক নিমেষে চাপ উধাও।
কীভাবে ম্যাচ হাতছাড়া বাংলার?
টার্গেট তখন নাগালের মধ্যে। কিন্তু বাংলার বোলাররা লড়াই চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় গিয়ার বদলান সামাদ। শাহবাজ আহমেদকে (Shahbaz Ahmed) পরপর দু’টি বিশাল ছক্কা—একটি লং-অন, একটি ডিপ এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে। মুহূর্তে ম্যাচের রাশ জম্মুর হাতে।
অন্য প্রান্তে বংশজ শর্মা সুরজ সিং জয়সওয়ালকে (Suraj Sindhu Jaiswal) এক ওভারে তিনটি চার মেরে টার্গেট এক অঙ্কে নামিয়ে আনেন। এরপর মুকেশ কুমারের বল মাথার উপর দিয়ে ওভার বাউন্ডারি। সেখানেই শেষ বাংলার প্রতিরোধ।
শেষ চেষ্টা ব্যর্থ
আজ সকালের প্রথম সেশন থেকেই আকাশ দীপ (Akash Deep) প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পরশ দোগরাকে (Paras Dogra) আউট করে খেলায় একটু হলেও উত্তেজনা ফেরান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। বাংলা প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান তুলেও শেষমেশ কিছুই কাজে এল না। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসই সর্বনাশ ডেকে আনল। মাঠে মারা গেল সামির আট উইকেটের স্পেল, সুদীপ ঘরামির ম্যারাথন সেঞ্চুরি! দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোয় চাপ বাড়ে। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় সেই চাপ আর সামাল দেওয়া যায়নি।
ঐতিহাসিক সাফল্য
জম্মু-কাশ্মীর আগে কখনও রঞ্জি ফাইনালে ওঠেনি। এবার তারা শুধু জায়গাই পাকা করল না, শক্তিশালী বাংলাকে হারিয়ে স্পষ্ট বার্তাও ছড়িয়ে দিল। দলগত লড়াই, নির্ভীক ব্যাটিং আর সঠিক সময়ে আক্রমণ—এই তিনের সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। বাংলার জন্য এই হার নিঃসন্দেহে হতাশার। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বড় কিছুর সূচনা।