তই রণকৌশল নিয়ে কাটাছেঁড়া চলুক না কেন, একুশ শতকের ভারত–পাক দ্বৈরথের গল্প সীমাবদ্ধ থাকে না ক্রিকেটে। দর্শকের চোখ থাকে মাঠের বাইরের ইশারায়। হাত মেলাবে কি মেলাবে না, ট্রফি নেবে কি নেবে না—এমন প্রতীকী মুহূর্তে জ্বলে ওঠে উত্তেজনা।

হরমনপ্রীত কৌর
শেষ আপডেট: 3 October 2025 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) থেকে বিতর্কের আগুন জ্বলেছে, তার আঁচ এবার পৌঁছে গেল মেয়েদের বিশ্বকাপে (Women’s World Cup 2025)। দুবাইয়ে বাইশ গজের খেলা শেষ হয়েছে কুড়ি ওভারে, রবিবার কলম্বোর ময়দানে সেটাই বেড়ে দাঁড়াবে পঞ্চাশে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বাইরের রাজনীতি আর প্রতীকী ইশারাগুলো ম্যাচের থেকেও বেশি জায়গা দখল করছে। সপ্তাহের শেষদিন কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই বড় প্রশ্ন—হরমনপ্রীত কৌররা (Harmanpreet Kaur) কি পুরুষ দলের মতোই ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি অক্ষরে অক্ষরে মানবেন? নাকি এবার বয়কট দেখা যাবে নতুন রূপে, নয়া আঙ্গিকে?
প্রসঙ্গটা নতুন নয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারতীয় পুরুষ দল একটি ম্যাচেও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি। তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, একবার ফাইনালে। কিন্তু প্রতিবারই চেনা ছবি—ম্যাচ শেষে করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছেন শুভমান-হার্দিকরা! এমনকি, শিরোপা হাতে তুলতেও অস্বীকার করেছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তথা পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে।
সাবা করিম (Saba Karim) মনে করছেন, সেই ঘটনার ছাপ মেয়েদের ময়দানেও পড়তে চলেছে। জিওস্টারের এক আলোচনায় প্রাক্তন উইকেটকিপার খোলাখুলি বলেন, ‘হ্যাঁ, চাপ তো থাকবেই। এ কারণেই ভারত–পাক ম্যাচ বিশ্বকাপে অন্য রং পায়। না হলে এতটা আলোচনা হত না। তবে বাইরের গোলমালে ভারতীয় মহিলা দল খুব একটা বিচলিত হবে না। দুই দলের মধ্যে গুণগত ব্যবধান এতটা, যে চাপ খেলার মধ্যে এসে পড়ার সুযোগ নেই।’
করিমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিসিসিআই (BCCI) ইতিমধ্যেই অবস্থান পরিষ্কার করে ফেলেছে। পুরুষ দলের মতোই মহিলা ব্রিগেডও পাকিস্তানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক এড়াবে। তাঁর সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ‘ভারতীয় মহিলা দল পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাবে না। বোর্ড সেই বার্তাই দিয়েছে!’
তাহলে কি মাঠে নামার আগে আরও এক দফা রাজনৈতিক প্রতীক নিয়ে তৈরি হবে আলোচনা? করিমের মতে, ‘শুরুর দিকে হয়তো কিছুটা চাপ থাকবে। কিন্তু খেলায় ঢুকে পড়লেই সব ভুলে যাবে দল। মূল লক্ষ্য থাকবে জয়।’
গুণগত দিক দিয়ে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে ভারসাম্য নিয়েও স্পষ্ট মত করিমের। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় মহিলা টিম দক্ষতা, পরিকাঠামো, বোর্ডের সহায়তা—সব দিক থেকে অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানকে ছোট করে দেখা চলে না, কিন্তু হুমকি দেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই!’
তবে কিছু নাম নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। করিম মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তানের সিদরা আমিন (Sidra Amin) দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরপর দু’টো শতরান করেছিলেন। আর তরুণ অধিনায়ক ফাতিমা সানা (Fatima Sana) সম্প্রতি ভালো খেলছেন। তাই হরমনপ্রীতদের এগুলো মাথায় রাখতেই হবে।
তবু যতই রণকৌশল নিয়ে কাটাছেঁড়া চলুক না কেন, একুশ শতকের ভারত–পাক দ্বৈরথের গল্প সীমাবদ্ধ থাকে না ক্রিকেটে। দর্শকের চোখ থাকে মাঠের বাইরের ইশারায়। হাত মেলাবে কি মেলাবে না, ট্রফি নেবে কি নেবে না—এমন প্রতীকী মুহূর্তে জ্বলে ওঠে উত্তেজনা। রবিবার কলম্বোয় তাই লড়াই কেবল ব্যাট-বলের নয়। খেলার বাইরের মঞ্চেও ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতিও নতুন করে পরীক্ষায় ফেলবে হরমনপ্রীত বাহিনীকে।