এমন আবহে আইসিসি-বোর্ডের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবারের আলোচনায় ঠিক হবে—বাংলাদেশ আদৌ ভারতে যাবে, নাকি ভেন্যু বদল হবে। পাকিস্তানের প্রস্তাব সেই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন জটিলতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বাংলাদেশের ভারতে খেলতে অস্বীকার করার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)। আইসিসিকে (International Cricket Council) পাঠানো এক বার্তায় পিসিবি স্পষ্ট জানিয়েছে—বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ ‘যৌক্তিক’। প্রয়োজনে তারা নিজেরাই বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত। এই প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বকাপের সূচি, ভেন্যু এবং হাইব্রিড মডেল—সবই ফের আলোচনার কেন্দ্রে।
কেন ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ?
চলতি সূচি অনুযায়ী টি–২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের (Bangladesh) চারটি গ্রুপ ম্যাচই ভারতে হওয়ার কথা। প্রথম তিনটি খেলা কলকাতায় (Kolkata), চতুর্থটি মুম্বইয়ে (Mumbai)। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) এবং বাংলাদেশের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে দল পাঠাতে অপারগ।
এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে আইসিসির সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় (Dhaka) বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। আইসিসি চাইছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট হোক, আর বিসিবি নিজের অবস্থানেই অনড়। আর এই টানাপড়েনের মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সরাসরি আইসিসিকে ইমেল করে বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রস্তাব
পিসিবি সূত্রে খবর, আইসিসিকে পাঠানো বার্তায় তারা জানিয়েছে—বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) সরানো সম্ভব না হলে, পাকিস্তান নিজেই সেই ম্যাচগুলো আয়োজন করতে রাজি। এক পিসিবি কর্তার কথায়, ‘বাংলাদেশ বোর্ডের দাবি যুক্তিসঙ্গত। নিরাপত্তা নিয়ে যদি তাদের উদ্বেগ থাকে, তাকে সম্মান করা উচিত। প্রয়োজনে পাকিস্তান সব ম্যাচ আয়োজন করবে।’
উল্লেখযোগ্যভাবে, পাকিস্তান নিজেরাও এই বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেলে খেলছে। বিসিসিআই (Board of Control for Cricket in India) ও আইসিসির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান দলের সব ম্যাচই হবে শ্রীলঙ্কায়। এই হাইব্রিড ব্যবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পিসিবি যদিও প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেয়নি, বোর্ড সূত্রের দাবি—বাংলাদেশ সরকার সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইসিসিতে সমর্থন চেয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথা থেকে?
এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় আইপিএল (Indian Premier League) ঘিরে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) দল থেকে ছেড়ে দেয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘সাম্প্রতিক সামগ্রিক পরিস্থিতি’। এরপরেই বাংলাদেশ সরকার আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে বিসিবি আনুষ্ঠানিক ভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়—তারা ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে না।
এমন আবহে আইসিসি-বোর্ডের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবারের আলোচনায় ঠিক হবে—বাংলাদেশ আদৌ ভারতে যাবে, নাকি ভেন্যু বদল হবে। পাকিস্তানের প্রস্তাব সেই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।