এই সব অ্যাপগুলি শুধু হরভজন, রায়নাকে নয়, তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে যুবরাজ সিংয়ের মতো ক্রিকেটারকেও। ফলে 1xBet-এর মতো অ্যাপগুলি 'ব্যাপক দৃশ্যমানতা' অর্জন করছে ও ক্রমশ মানুষ এতে আসক্ত হচ্ছে।

হরভজন ও যুবরাজ
শেষ আপডেট: 17 June 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইন বেটিং অ্যাপ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে প্রায়শই। বিশেষত সেলিব্রিটিরা এই ধরনের জুয়ার অ্যাপের প্রচারে যুক্ত বলে যুব ও ছাত্র সমাজ সব থেকে বেশি আসক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সব অ্যাপে টাকা লাগিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে সর্বস্বান্তও হয়েছেন। ২০২৫ আইপিএল চলাকালীন প্রচুর অভিভাবক অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানরা প্রচুর টাকা খুইয়েছেন, এমনকি তাঁদের অজান্তেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়ে অনলাইন বেটিং অ্যাপে লাগিয়েছেন।
এক অভিযোগকারী বলেছেন, 'এই অবৈধ প্ল্যাটফর্মগুলিতে হাজার হাজার লক্ষ টাকা জড়িত... এটি পরিবারগুলিকে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের দুর্দশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।'
সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপগুলির (Online betting apps) তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে। তারা তাদের তদন্তে যুক্ত করেছে ক্রিকেটার হরভজন সিং ও সুরেশ রায়না এবং অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলার (cricketers Harbhajan Singh and Suresh Raina and actor Urvashi Rautela) নাম। এই তিনজনই বেটিং অ্যাপের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত।
ইডির সূত্র NDTV Profit-কে জানিয়েছে, 1xBet-এর মতো নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের প্রচার চালাচ্ছিলেন এই তিন জন-সহ অন্যান্য সেলিব্রিটিরা। তাই তাঁদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ইডি বলেছে, এই নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলি 'সারোগেট নাম' বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসাবে বলে যেতে পারে 1xbat অ্যাপের নাম। এসব ক্ষেত্রে ওয়েব লিঙ্ক (অনলাইন সামগ্রীর জন্য) এবং QR কোড অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ব্যবহারকারীদের মূল (এবং অবৈধ) বেটিং প্ল্যাটফর্মে পুনঃনির্দেশিত করে, যা বর্তমান আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত।
ইডি বলেছে যে, এই প্ল্যাটফর্মগুলি নিজেদেরকে দক্ষতা-ভিত্তিক গেম হোস্টিং হিসাবে উপস্থাপন করলেও বর্তমান ভারতীয় আইনের অধীনে 'জুয়া কার্যক্রম' হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করে এমন জালিয়াতিপূর্ণ অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছে।
এই সব অ্যাপগুলি শুধু হরভজন, রায়নাকে নয়, তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে যুবরাজ সিংয়ের (Yuvraj Singh) মতো ক্রিকেটারকেও। ফলে 1xBet-এর মতো অ্যাপগুলি 'ব্যাপক দৃশ্যমানতা' অর্জন করছে ও ক্রমশ মানুষ এতে আসক্ত হচ্ছে। সোজা কথায় বলতে গেলে এর ফলে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ফেডারেল এজেন্সির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, এই সব বেটিং অ্যাপগুলির মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি (IT Act) আইন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (Foreign Exchange Management Act) এবং কঠোর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (Money Laundering Act) পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞপ্তি-সহ একাধিক আইন লঙ্ঘন করা হতে পারে।
যদিও যুবরাজ ও রায়নার প্রতিনিধিরা এনডিটিভি প্রফিটের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাউতেলা এবং জনপ্রিয় অভিনেতা সোনু সুদ-সহ অন্যদের প্রতিনিধিরা কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি।
সংবাদমাধ্যমগুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। ইডি জানিয়েছে বিজ্ঞাপন প্রচার চালানোর জন্য বিভিন্ন কোম্পানিকে ৫০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।
এর আগে অবৈধ বেটিং অ্যাপ এবং প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালাতে গিয়ে মে মাসে তেলেঙ্গানা পুলিশ রানা দাগ্গুবাতি এবং প্রকাশ রাজ-সহ ২৫ জন জনপ্রিয় অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। যদিও দাগ্গুবাতি এবং রাজ তাঁদের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ বলে অস্বীকার করে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মগুলিকে আর সমর্থন করেন না। পাশাপাশি এই দুই তারকা বলেছিলেন, যখন তাঁরা এগুলিকে সমর্থন করেছিলেন, তখন প্রচারগুলি কেবলমাত্র সেই অঞ্চলগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল যেখানে অনলাইন দক্ষতা-ভিত্তিক গেমগুলি আইনত অনুমোদিত। পাশাপাশি দাগ্গুবাতির মুখপাত্র সেসময় বলেছিলেন, এই অনলাইন গেমগুলিকে সুপ্রিম কোর্ট জুয়া থেকে আলাদা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, কারণ এই গেমগুলি দক্ষতার উপর ভিত্তি করে নয়, সুযোগের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
আনুমানিক ১১ কোটি ভারতীয় প্রতিদিন এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করেন। এই আর্থিক জালিয়াতির কবলে পড়ে টাকা খুইয়ে স্কুল ছাত্র-ছাত্রী সহ ১,০০০ জনেরও বেশি আত্মহত্যা করেছেন এর মধ্যে।