আসলে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যাবতীয় ধোঁয়াশার শুরু। কয়েক বছর আগের পুরনো একটি সাক্ষাৎকারে বৈভব তাঁর অন্য বয়স জানান। যার সঙ্গে ১৩ বছরের হিসেব মেলেনি।

বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 17 June 2025 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ভাঁড়িয়ে খেলার চল রুখতে নতুন নিয়ম চালু করল বিসিসিআই (BCCI)। আর এই পদক্ষেপের মূলে রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। যতই ব্যাট হাতে তুফান তুলুন না কেন, সমস্তিপুরের কিশোরকে নিয়ে আইপিএল চলাকাকালীন বিতর্ক উস্কেছে। তিনি বয়স লুকিয়ে খেলছেন, মুখে তেরো বললেও, বৈভব আসলে পনেরো বছর পেরিয়েছেন—এই নিয়ে একাধিক মহল অভিযোগ তোলে।
যদিও রাজস্থান রয়্যালসের (Rajasthan Royals) ওপেনারের বাবা এই দাবি মানতে চাননি। সাফ জানান, তাঁর ছেলের আদত বয়স ১৩ বছর ২৮৮ দিন। এত কম বয়সে এর আগে কোনও খেলোয়াড় আইপিএল খেলননি। সেদিক দিয়ে মাঠে নামার আগেই রেকর্ড তৈরি করেন বৈভব। ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় তাঁকে সই করায় রাজস্থান শিবির।
আসলে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যাবতীয় ধোঁয়াশার শুরু। কয়েক বছর আগের পুরনো একটি সাক্ষাৎকারে বৈভব তাঁর অন্য বয়স জানান। যার সঙ্গে ১৩ বছরের হিসেব মেলেনি। কিন্তু তাতেও পিছিয়ে না গিয়ে বৈভবের বাবা বলে দেন, ‘বৈভবের যখন সাড়ে আট বছর বয়স, ওর প্রথম বিসিসিআইয়ের বোন টেস্টে অংশ নেয়। আমার ছেলে ইতিমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-উনিশ টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেছে। আমরা কাউকে ভয় পাই না। ও বয়সের যে কোনও পরীক্ষায় নামতে রাজি।‘
যদিও এই প্রতিবাদ-পাল্টা প্রতিবাদের নিরসন সেই সময় হয়নি। এতদিন বাদে যার সুরাহা করতে বোন টেস্ট (Bone Test) নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এতদিন জুনিয়র লেভেলে বয়স নির্ধারণ করতে ‘টিডব্লু৩ পদ্ধতি’ (TW3 Method) এবং ‘১ ফ্যাক্টর’ (1 Factor) নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। পাশপাশি সামনের মরশুমে তিনি নামতে পারবেন কি না, সেই হিসেবও এই দুই পদ্ধতি থেকে জানা যায়।
বিসিসিআই বলছে, যদি ‘১ ফ্যাক্টর’ নিয়মের জেরে কোনও ক্রিকেটার বাদ পড়েন, তাহলে এবার থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ স্তরের ক্রিকেটারদের বয়সের যোগ্যতামান নির্ধারণে পরের সিজনেও আরও একবার বোন টেস্ট করানো হবে। বয়স যাচাইয়ে আঙ্কিক নিয়ম বা সার্টিফিকেটের হিসেব নয়, বৈজ্ঞানিক গণনাপদ্ধতিকেই যে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটা সাফ করে দিয়েছে বিসিসিআই। তাতে খেলোয়াড়ের আসল বয়স জানা যাবে। শুধু অঙ্কের হিসেবে তাঁকে বাদ পড়তে হবে না।
বোর্ডের এক আধিকারিকের কথায়, ‘এই নয়া নিয়মের অর্থই হচ্ছে, একজন ক্রিকেটারের বোন এজ আগামী মরশুমের জন্য ১৬.৪ বা তার কম হতে হবে। এটা ছেলেদের হিসেব। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে হতে হবে ১৪.৯ বা তার কম।‘
আরেকটু ভেঙে বললে, ধরা যাক, ২০২৫-২৬ সিজনে একজন অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটারের (পুরুষ) বোন এজ ১৫.৪। এর মানে, তাঁকে আর পরের মরশুমে বোন টেস্টে বসতে হবে না। সেক্ষেত্রে ‘১ ফ্যাক্টর’ জুড়ে যাবে এবং ২০২৬-২৭ সিজনে সেই খেলোয়াড়ের বোন এজ দাঁড়াবে ১৫.৪+১= ১৬.৪। হাড়ের বিকাশ যাই হোক না কেন, সামনের মরশুমে ১৬.৪ বোন এজ নিয়েই তিনি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন।