ভারতের বোলিং ইতিহাসে তিনি এক স্বতন্ত্র অধ্যায়। কিন্তু তার একটিও পাতা লেখা হত কি, যদি না বখতিয়ার খান সেদিন ওই ছোট্ট প্রশ্নটুকু ছেলের সামনে রাখতেন?

জাহির খান
শেষ আপডেট: 7 October 2025 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক সময় জীবনের মোড় ঘুরে যায় একটিমাত্র কথায়!
জাহির খানের (Zaheer Khan) ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। দ্বাদশ শ্রেণিতে দুর্দান্ত ফল। সেই সুবাদে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুরের প্রবরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (Pravara Engineering College) ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেন যখন, গোটা পরিবার ভেবেছিল—বাড়ির ছেলে ভবিষ্যৎ-নিরাপদ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হতে চলেছে। কিন্তু তখনই উচ্চাশী, পরিশ্রমী ছেলেকে বাবা বখতিয়ার খান (Bakhtiyar Khan) ছুড়ে দেন প্রশ্ন—‘দেশে ইঞ্জিনিয়ারের অভাব নেই, কিন্তু সত্যিকারের পরিশ্রমী ফাস্ট বোলার খুব একটা আছে কি?’
সেই সওয়ালই হয়ে উঠল নিয়তির ডাক। বড় ভাই জিশান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এগিয়ে গেলেন, আর জাহির বেছে নিলেন ভিন্ন গন্তব্য—ক্রিকেট। বাকি গল্পটা ইতিহাস। ভারতের (India) অন্যতম সেরা বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু সেখান থেকেই।
বখতিয়ার খানের পেশা ছিল ফটোগ্রাফি, চোখ তীক্ষ্ণ। ছেলে যখন জানাল মুম্বই (Mumbai) গিয়ে ক্রিকেটে মন দিতে চায়, তখন ভরা বিয়ের মরশুম। তিনি ছবি তোলার ব্যস্ততায় ডুবে। কিন্তু কথা রেখেছিলেন বখতিয়ার। এক বছর পর ছেলেকে নিজে নিয়ে যান মুম্বই। ট্রায়াল দিতে। সেই শুরু। ১৯৯৬ সালে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের (MRF Pace Foundation) নির্বাচনী শিবিরে জাহিরকে প্রথম দেখেন টি.এ. শেখর (T.A. Sekhar) ও ডেনিস লিলি (Dennis Lillee)। সেখান থেকেই আরম্ভ নয়া অভিযাত্রা—মেরিন লাইন্সের ন্যাশনাল সিসি ক্লাব থেকে (National CC), বরোদা (Baroda) হয়ে শেষমেশ ভারতীয় দলে।
লম্বা রান-আপ, বাতাস চিরে বেরনো ডেলিভারি, নতুন বলে সুইং, পুরনো বলেও কাট—সব মিলিয়ে ‘জ্যাক’ হয়ে ওঠেন ভারতের ‘সুইং কিং’। ২০০০ সালে নাইরোবিতে (Nairobi) ওয়ানডে অভিষেক, ২০১১ বিশ্বকাপে (World Cup 2011) ৯ ম্যাচে ২১ উইকেট—রোহিত, দ্রাবিড়, ধোনিদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রফিজয়ের স্বপ্নপূরণ!
শুধু মাঠে নয়, জীবনেও জুটল স্থিতি। ‘চক দে ইন্ডিয়া’-খ্যাত অভিনেত্রী সাগরিকা ঘাটগে-র (Sagarika Ghatge) সঙ্গে জাহিরের প্রেম ঘিরে ততদিনে বলিউড সরগরম। ইন্দোরের রাজবংশের মেয়ে, বিনোদন দুনিয়ার মায়াভরা জগৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও জাহিরের বাবা-মা যখন সিনেমার পর্দায় সাগরিকাকে দেখেন, বুঝে যান—এই মেয়েটাই তাঁদের ছেলের সঠিক সঙ্গী।
আজ জাহির ৪৭-এ পা দিলেন। ভারতের বোলিং ইতিহাসে তিনি এক স্বতন্ত্র অধ্যায়। কিন্তু তার একটিও পাতা লেখা হত কি, যদি না বখতিয়ার খান সেদিন ওই ছোট্ট প্রশ্নটুকু ছেলের সামনে রাখতেন?