‘শুরুর উইকেটগুলো না এলে এত ডিউ-তে ৩৫০ রক্ষা করা যেত না!’ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন কোটাক।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 1 December 2025 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে মহম্মদ কাইফের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বলছেন, বিরাটের সেঞ্চুরি আর রোহিতের হাফ সেঞ্চুরি না থাকলে রাঁচির মাঠে ভারতের জেতা অসম্ভব ছিল। অন্যদিকে বিলকুল অন্য নজরে জয় বিশ্লেষণে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক (Sitanshu Kotak)। আলাদা নজরে তুলে ধরতে চাইলেন বোলার-কাম-অলরাউন্ডার হর্ষিত রানার (Harshit Rana) পারফরম্যান্স, বিশেষ করে, তাঁর ওপেনিং স্পেল! সিতাংশুর বক্তব্য: গোড়ায় যদি হর্ষিত ঝটকা না দিতেন, তাহলে নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা সহজেই সাড়ে তিনশোর টার্গেট চেজ করে ফেলতে পারত। যে কারণে তাঁকেই আসল গেমচেঞ্জার বলা উচিত!
রাঁচিতে ৩৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুতেই আঘাত হানেন হর্ষিত (Harshit Rana)। নতুন বলে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনার—রায়ান রিকেলটন (Ryan Rickelton) এবং কুইন্টন ডি’ কক-কে (Quinton de Kock) শূন্য রানে সাজঘরে ফেরান। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে দুজন ব্যাটার আউট হওয়ায় ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। কোটাকের মতে, ওই স্পেলই আসতে ম্যাচের মোড়বদলের বীজ।
যদিও নতুন বল হাতে এখানেই থেমে থাকেননি হর্ষিত। পরে দুর্ধর্ষ ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের (Dewald Brevis) উইকেটটিও তুলে নেন। ব্রেভিস যখন গতি বাড়াচ্ছেন, সেই সময় ৩৭ রান করা ব্যাটারের সাজঘরে ফেরা ভারতকে আরও মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করায়। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৩/৬৫—এই দাঁড়ায় হর্ষিতের বোলিং ফিগার।
কোটাক বিশ্লেষণে বলেছেন, ‘এত শিশিরের মধ্যে বোলার বলটাই ঠিকমতো ধরতে পারে না। উইকেট স্কিড করছে। ব্যাটসম্যানের জন্য রান তোলা সহজ। এমন অবস্থায় হর্ষিতের ওই গোড়ার উইকেটগুলোই ম্যাচ বাঁচিয়েছে!’ এরপর জানিয়ে দেন, নতুন বলে দ্রুত উইকেট নেওয়ার পিছনে হর্ষিতের সুইং করানোই প্রধান কারণ। কুকাবুরা বল যে খুব বেশি ওভার সুইং করে না—সেটাও মনে করিয়েছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ। ‘দুই, চার, সর্বোচ্চ পাঁচ ওভার সুইং করে। তার মধ্যেই সে ঠিক জায়গায় বল ফেলেছে!’ মন্তব্য সিতাংশুর।
তবে শুধু হর্ষিতই নন, মিডল ওভারে কুলদীপ যাদবের (Kuldeep Yadav) চার উইকেটও ম্যাচে বড় ভূমিকা নেয়। ব্রেভিস, মার্করাম-সহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি আফ্রিকার রানের গতি বারবার থামিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারত ১-০ লিড নেয় সিরিজে।
এদিন ব্যাট হাতে দিনের নায়ক ছিলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। ৫২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি—১৩৫ রানের ইনিংস—তাঁকে এনে দেয় ম্যাচসেরার পুরস্কার। ১১টি চার, সাতটি ছয়—দর্শকদের জন্য চোখ জুড়ানো ব্যাটিং, ভরপুর বিনোদন। কিন্তু ম্যাচশেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁকে রাখতে চাইলেন ব্যাটিং কোচ, তিনি হর্ষিতই। ‘শুরুর উইকেটগুলো না এলে এত ডিউ-তে ৩৫০ রক্ষা করা যেত না!’ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন কোটাক।