বিমানবন্দরের হাসিমাখা আলিঙ্গন তাই কেবল বন্ধুত্বের প্রতীক নয়—এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ক্রিকেট-দায়িত্বের মসৃণ হস্তান্তরের মুহূর্ত। কোনও রেষারেষি নেই। নেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বও।

শুভমান ও বিরাট
শেষ আপডেট: 15 October 2025 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব জল্পনা, সমস্ত কূট-কচালিকে যেন এক আলিঙ্গনে ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন শুভমান গিল (Shubhman Gill)। ভারতীয় দলের (Team India) নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক (ODI Captain) নিজের দুই সিনিয়র সহযোদ্ধা—বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma) দেখামাত্র জড়িয়ে ধরলেন হাসিমুখে। বাড়তি কথা নেই। অল্প আলাপ, প্রীতি সম্ভাষণ আর একগাল হাসি! কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের সৌজন্য বিনিময়ই যেন টিম ইন্ডিয়ার অন্দরের গুমোট বাতাস অনেকটা হাল্কা করে দিল!
অস্ট্রেলিয়া সফরের (Australia Tour) জন্য শুক্রবার সকালে দল যখন দিল্লি বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়, বোর্ডের (BCCI) ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত। টিম বাসের সামনে শুভমানকে প্রথম দেখা যায় কোহলি ও রোহিতের সঙ্গে কথা বলতে। খানিক আলাপ। তারপর হাসিমুখে জড়িয়ে ধরা। একসময় যাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ঘিরে নানা জল্পনা ছিল, সেই দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারকে এমন নির্ভার কথা বলতে দেখে অনুরাগীদের মুখেও হাসি ফুটতে বাধ্য!
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যমে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। কেউ লিখেছেন, ‘এই ছবিই প্রমাণ করে, ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন যুগ শুরু হয়েছে!’ কারও চোখে, ‘রোহিত-বিরাটের পাশে দাঁড়িয়ে শুভমানের এই শরীরী ভাষাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, তাঁর হাতে দায়িত্ব তুলে নেওয়ার সময় এসে গেছে!’
গিলের অধিনায়কত্বে এটি ভারতের দু’নম্বর বিদেশ সফর, ওডিআই ফরম্যাটে প্রথম। অক্টোবরের ১৯ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, তারপর টি-২০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শেষ করেই তরুণ অধিনায়ক যোগ দিয়েছেন দলে। রোহিত এসেছেন মুম্বই থেকে। অন্যদিকে বিরাট চার মাসের প্রবাসজীবন কাটিয়ে গতকালই ফিরেছেন দেশে।
আসন্ন সফরকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল নানা আলোচনা—এটাই কি রোহিত-বিরাট যুগের শেষ অধ্যায়? তাঁদের কি এবার তরুণ প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে? এমন প্রশ্নে সরগরম ছিল ক্রিকেট মহল। এমনকি একাংশ ধরেও নেয়, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হতে চলেছে দুই তারকার ‘ফেয়ারওয়েল ট্যুর’। কিন্তু এই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছেন বিসিসিআই–এর সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা (Rajeev Shukla)। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, ‘এটা অন্তিম সিরিজ—এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অবসর নেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এমন খবর একেবারেই ভিত্তিহীন!’
বোর্ডের সূত্রও বলছে, রোহিত ও বিরাট দু’জনেই এখনও পর্যন্ত দলের পরিকল্পনায় রয়েছেন। আগামী ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার ইচ্ছাও নাকি রয়েছে তাঁদের। তবে শর্ত একটাই—ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে আগের মতোই!
সত্যি বলতে, কোহলি-রোহিত যুগ ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। তাঁদের নেতৃত্বে ভারত বহুবার বিশ্বসেরার কাছাকাছি পৌঁছেছে, তৈরি করেছে এক প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব। এখন সেই ঐতিহ্যকেই নতুন ছন্দে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব শুভমানের কাঁধে। বিমানবন্দরের হাসিমাখা আলিঙ্গন তাই কেবল বন্ধুত্বের প্রতীক নয়—এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ক্রিকেট-দায়িত্বের মসৃণ হস্তান্তরের মুহূর্ত। কোনও রেষারেষি নেই। নেই ক্ষমতার দ্বন্দ্বও। আছে কেবল যৌথ স্বপ্ন—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তেরঙ্গা উড়বে। আর সেই মঞ্চে একসঙ্গে লড়বেন দুই প্রজন্মের তিন নায়ক।