ততক্ষণে চিন্নাস্বামীর ভেতর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আর বাইরে দরজা বন্ধ। একদল ভেতরে ঢুকেছে। কিন্তু বাইরে যে হাজারো মানুষ তখনও অপেক্ষমান! এর জেরেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।
.jpeg.webp)
বেঙ্গালুরুর ঘটনা
শেষ আপডেট: 5 June 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিকল্পনা ছিল উৎসবের। কিন্তু সেই হর্ষ বদলে গেল বিষাদে। উদযাপনে ঢেকে দিল মৃত্যুশোক। আতঙ্ক গ্রাস করল উল্লাস।
আঠারো বছরের গেরো কাটিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) আইপিএল খেতাব জয়ে (IPL Champions) বেঙ্গালুরু (Bengaluru) শহর জুড়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ওপেন-বাস প্যারেড (Open-bus Parade), রাজ্য সরকারের তরফে শুভেচ্ছা, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (Chinnaswami Stadium) বিজয়ী ক্রিকেটারদের ট্রফি প্রদর্শন ও ভাষণ—অল্প সময়ে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন।
কিন্তু বিকেল গড়াতেই দেখা দেয় বিপত্তি। আচমকা বাস প্যারেড বাতিল করে আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি। সাধারণ বাসে স্টেডিয়ামে ঢোকেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু ততক্ষণে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন মাঠের বাইরে। পুলিশের আগাম অনুমান ছিল মেরেকেটে ১০ হাজার লোক হাজির হতে পারে। কিন্তু বিকেল গড়াতেই জনপ্লাবনে সেই সংখ্যা ছাপিয়ে যায়।
এদিকে ততক্ষণে চিন্নাস্বামীর ভেতর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আর বাইরে দরজা বন্ধ। একদল ভেতরে ঢুকেছে। কিন্তু বাইরে যে হাজারো মানুষ তখনও অপেক্ষমান! এর জেরেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। প্রধান ফটক ধরে টানাটানি চলতে থাকে। একে অন্যের গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। পুলিশ আর নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম থাকায় দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় ছিল না! আর ঠিক সেই সময়ই পদপিষ্টের ঘটনা (Bengaluru Stampede) ঘটে।
প্রথমে জানা যায় মারা গিয়েছেন দু’জন, আহত অন্তত ২০। এরপর যত সময় গড়ায়, সংখ্যাটা তত বাড়তে থাকে। দুই থেকে বেড়ে সাত, সেখান থেকে লাফিয়ে এগারো। গুরুতর জখম কমপক্ষে চল্লিশ।
বিকেল পাঁচটার সময়ই বাইরের দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, স্টেডিয়ামের ভেতরেও পৌঁছয়। তবু অনুষ্ঠান চলতে থাকে নির্বিকারে, নির্বিবাদে! কেন সেই মুহূর্তে যাবতীয় পরিকল্পনা বন্ধ হয়নি? বাতিল হয়নি ক্রিকেটারদের নিয়ে মোচ্ছব?
প্রশ্ন উঠতেই শুরু হয়েছে এর ওর ঘাড়ে দোষ চাপানো আর দোষ এড়ানোর খেলা। মুখে কুলুপ এঁটেছে পুলিশ। দায়সারা জবাব দিয়েছে আরসিবি কর্তৃপক্ষ। আর জবাব তলব করেই আপাতত কাজ মিটিয়েছে বিসিসিআই।
সূত্রের খবর, আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল নাকি পদপিষ্টের খবর জানতে পেরেই আরসিবির কর্তাব্যক্তিদের ফোন করেন। জবাব আসে: বাইরে কী হচ্ছে, তার কোনও আন্দাজই নাকি তাঁরা পাননি! খোদ চেয়ারম্যানের ফোন কলেই অবগত হন এবং তড়িঘড়ি অনুষ্ঠানের পালা গোটানোর আশ্বাস দেন।
আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন: কেন গোটা বিষয় জানতে পেয়ে তক্ষুনি অনুষ্ঠান বন্ধ করা হল না?
আরসিবি কর্তৃপক্ষ তাদের সরকারি বিবৃতিতে বলেছে: ‘আজ বিকেলে বেঙ্গালুরুতে ক্রিকেটারদের আগমনে সাধারণ মানুষদের জমায়েতকে কেন্দ্র করে যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, যাঁদের নিকটজন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন, তাঁদের সমবেদনা জানতে চাই।‘
এরপর আসল প্রশ্ন, কেন অনুষ্ঠান বন্ধ করা হল না—তার সূত্রে সাফাই দেওয়া হয়, ‘পরিস্থিতির বিষয়টি জানতে পেরেই আমরা দ্রুত অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিই। তারপর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।‘
যাবতীয় বিতর্ক দানা বেঁধেছে যে অনুষ্ঠানকে ঘিরে, তার আয়োজনে ছিল ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ‘ডিএনএ’। তারা দাবি করেছে—দুর্ঘটনা মোকাবিলা কিংবা এড়ানোর পরিকাঠামোই তাদের নেই। সেই দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সাউন্ড ও স্টেজ গোছানোর বরাত ছিল। তারা সেইমতো কাজ করেছে।