কোচ হিসেবে গম্ভীর বরাবরই কড়া। ফিটনেস, পারফরম্যান্স আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এই তিনের বাইরে খুব একটা কিছু ভাবেন না। আর সেখানেই তাঁর জনপ্রিয়তার সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়।
.jpeg.webp)
রোহিত ও বিরাটের সঙ্গে গম্ভীর
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া বরাবর মেরুবর্তী৷ হয় নায়ক, নয় ভিলেন! কারও নজরে সুদক্ষ কোচ, কেউ কেউ টিম ইন্ডিয়ার পশ্চাদপসরণের খলনায়ক হিসেবে তাঁকে সামনে টেনে আনেন৷ ইতিবাচক যা কিছু, সবই ট্রফিজয়ের সাফল্য। নেতিবাচক অনুভূতি এপসেন্টার বলে যদি কিছু থাকে, মুখ্যত বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)-কেন্দ্রিক৷ দুই তারকার আকস্মিক অবসরের নেপথ্যে দায়ী গম্ভীর৷ তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই ‘রো-কো’ লাল বলের ক্রিকেটকে অলবিদা জানান—পাথুরে প্রমাণ না থাকলেও এমনটাই সিংহভাগ জনতার বিশ্বাস!
‘ক্রিপ্টিক’ পোস্ট, কিন্তু বার্তা স্পষ্ট!
সদ্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে। শেষ ম্যাচে স্টেডিয়ামে ‘গৌতম গম্ভীর হায় হায়!’ স্লোগান পর্যন্ত কানে এসেছে। এমন আবহে রবিবার গভীর রাতে এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। কারও নাম নেই। অভিযোগের ফিরিস্তি নেই। তবু বক্তব্যে স্পষ্ট ঝরে পড়ল ক্ষোভ, ক্লান্তি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের ছাপ। ‘একদিন কোচের তথাকথিত “অসীম ক্ষমতা” নিয়ে সত্য আর যুক্তি পরিষ্কার হবে। ততদিন নিজের লোকেদের বিরুদ্ধেই আমাকে দাঁড় করানো হচ্ছে দেখে আমি শুধু বিস্মিত!’—এই এক লাইনে অনেক কথা বলে দিয়েছেন তিনি।
Thanks a lot Dr @ShashiTharoor! When the dust settles, truth & logic about a coach’s supposedly “unlimited authority” will become clear. Till then I’m amused at being pitted against my own who are the very best! https://t.co/SDNzLt73v5
— Gautam Gambhir (@GautamGambhir) January 21, 2026
এই ‘নিজের লোক’ শব্দবন্ধটাই আসলে সবথেকে বেশি আলোচনা টেনেছে। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, এর মধ্যে দিয়ে গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন—যাঁদের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব দেখানো হচ্ছে, তাঁরা কেউই তাঁর ‘শত্রু’ নন।
কোচ বনাম তারকা—গল্প কতটা সত্য?
গত কয়েক মাসে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গম্ভীর ও রোহিত শর্মার মধ্যে সম্পর্ক নাকি তলানিতে। এমনকি প্র্যাকটিস সেশনে এড়িয়েও চলেছেন দু’জন—এমন দাবিও অপ্রতুল নয়। পাশাপাশি বিরাট কোহলির সঙ্গেও নাকি আগের মতো হাসি-ঠাট্টা নেই, কথাবার্তা সীমিত—দাবি সংবাদমাধ্যমের একাংশের।
কিন্তু বাস্তব কি এতটা সরল? টিম ইন্ডিয়ার অন্দরমহলের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, পেশাদার ক্রিকেটে ‘উষ্ণতা’ কমা মানেই সম্পর্কে ভাঙন নয়। কোচ হিসেবে গম্ভীর বরাবরই কড়া। ফিটনেস, পারফরম্যান্স আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এই তিনের বাইরে খুব একটা কিছু ভাবেন না। আর সেখানেই তাঁর জনপ্রিয়তার সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়।
শাস্ত্রীয় ফরম্যাটে ব্যর্থতা, চাপটা কোথায়?
একটা জায়গায় সমালোচকরা অবশ্যই যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন। গম্ভীরের কোচিংয়ে সাদা বলের সাফল্য থাকলেও, টেস্ট ক্রিকেটে ধাক্কা নেমেছে বারবার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আড়ংধোলাই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চুনকাম—সব মিলিয়ে লাল বলের ফরম্যাটে বারবার প্রশ্ন উঠছে।
তবু এটা ভুললে চলবে না, এই সময়ের মধ্যেই ভারত জিতেছে এশিয়া কাপ (T20) ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (ODI)। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবি আঁকা চলে না। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI) প্রকাশ্যে জানিয়েছে, গম্ভীরের উপর আস্থা অটুট।
সামনে কী?
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে—এ কথা ক্রিকেট মহলে প্রায় সর্বসম্মত। সেখানে সাফল্য এলে এই সমস্ত গুঞ্জন আপনা থেকেই চাপা পড়বে। ব্যর্থ হলে আরও জোরালো হবে প্রশ্ন। তবে এতকিছুর মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট—আলোচ্য পোস্টে গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি চুপ করে সব সহ্য করার মানুষ নন। নাম না করেও নিজের অবস্থান জানাতে জানেন। আর হয়তো এটাই তাঁর লড়াইয়ের ধরন—নীরব, কঠিন এবং মোটের উপর একা!
রোহিত-বিরাট অধ্যায় শেষ হোক বা না হোক, গম্ভীরের বার্তা পরিষ্কার—চ্যালেঞ্জ তিনি নিজের মানুষদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। আর সেই যন্ত্রণা, এক লাইনের পোস্টেই, এবার প্রকাশ্যে।