নকভির এই কাণ্ড ঘটেছে এমন এক ম্যাচের পর, যেখানে ভারত হাড্ডাহাড্ডি লড়ে ছিনিয়ে নিয়েছে জয়। পাকিস্তানকে ১৪৭ রানে আটকে দিয়ে তিলক বর্মার (Tilak Varma) ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। রিঙ্কু সিং শেষ বাউন্ডারি মেরে খেতাব নিশ্চিত করেন।

নকভি ও টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 29 September 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে হারিয়ে এই শিরোপা ন'নম্বর বার ঘরে তুললেন সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)। কিন্তু ম্যাচ শেষে মঞ্চে ধরা পড়ল অদ্ভুত ছবি—বিজয়ীর হাতে ট্রফি নেই! কারণ একটাই—এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)।
ভারতের সাফ বার্তা ছিল শুরু থেকেই—পাক ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের হাত থেকে কোনও পুরস্কার নেওয়া হবে না। কারণ তিনি এমন এক দেশের নেতা, যারা ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাই ফাইনালের রাতেও সূর্যরা ১৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকলেন, দলের কোনও ক্রিকেটার মঞ্চে ওঠেননি। আয়োজকেরা অপেক্ষা করলেন, বোঝালেনও। কিন্তু ভারত নড়ল না।
তারপরই আসল টুইস্ট। জানা গেল, নকভি নাকি ট্রফি আর মেডেল নিয়ে সোজা নিজের হোটেলে ফিরে গেছেন! ভারতের হাতে গেল না সেই কাপ, যার জন্য এত লড়াই, এত দুরন্ত পারফরম্যান্স!
এই ঘটনার পরই কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিসিআই (BCCI)। বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার (Devajit Saikia) অভিযোগ, ‘যে দেশের সঙ্গে আমরা কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত, সেই দেশের এক নেতার হাত থেকে ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। কিন্তু তাই বলে কাপ-সহ মেডেল নিয়ে উনি হোটেলে চলে যাবেন? এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। শিশুসুলভ আচরণ।’
সাইকিয়া আরও বলেন, নভেম্বরের শুরুতে দুবাইয়ে আইসিসির বৈঠকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। তাঁর কথায়, ‘এটা দুঃখজনকই, একেবারেই খেলোয়াড়সুলভ নয়। আমরা আশা করছি, দ্রুত ট্রফি আর মেডেল ফেরত দেওয়া হবে।’
উল্লেখযোগ্য, নকভির এই কাণ্ড ঘটেছে এমন এক ম্যাচের পর, যেখানে ভারত হাড্ডাহাড্ডি লড়ে ছিনিয়ে নিয়েছে জয়। পাকিস্তানকে ১৪৭ রানে আটকে দিয়ে তিলক বর্মার (Tilak Varma) ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। রিঙ্কু সিং শেষ বাউন্ডারি মেরে খেতাব নিশ্চিত করেন।
কিন্তু মাঠের সাফল্য ছাপিয়ে গেছে নেপথ্যের নাটক। ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠান যে এমন বিতর্কে ঢেকে যাবে, সেটা হয়তো কেউই ভাবেনি। এখন নজর নভেম্বরের আইসিসি বৈঠক। সেখানে বিসিসিআইয়ের তাল ঠোকার প্রতিক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট মহল।