রবিবার রাতে দুবাইয়ের মঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন সূর্যরা—তাঁরা খেলেছেন, লড়াই জিতেও নিয়েছেন, সবই ঠিক আছে। কিন্তু তাই বলে মহসিনের হাত থেকে শিরোপা নেওয়া কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন, প্রীতি-সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়ানো… কিছুতেই সম্ভব নয়।

সূর্যকুমার যাদব ও মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 29 September 2025 08:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে দেখা গিয়েছে কি? একটা দল বহুদেশীয় টুর্নামেন্ট জিতল, তাও দাপটের সঙ্গে। প্রতিপক্ষ সমস্ত টিমকে কার্যত হেলায় হারাল। ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বীকে গোটা প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিন-তিনবার কুপোকাত করল। তবু রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল জেতার পরেও হাতে এল না ট্রফি!
আক্ষরিক অর্থে ‘নজিরবিহীন’ এই ছবিই দেখা গেল গতকাল রাতে, দুবাইয়ের ময়দানে! চিরশত্রু পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে ফাইনাল জিতে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ততক্ষণে জয়োল্লাসে মেতেছেন। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, পতাকার ঢেউ। কিন্তু হাতের শিরোপা? সেটারই দেখা মিলল না। এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) আসল ট্রফি মঞ্চে তুলতে অস্বীকার করলেন সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)। কারণ? ‘বিশেষ’ একজনের উপস্থিতি! তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। পূর্বঘোষিত নীতিতেই অনড় থাকলেন ভারত অধিনায়ক। এশিয়া কাপের ‘বয়কটের সিরিজে’র উপসংহারটুকুও লেখা হল এভাবেই!
রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারত-পাক ফাইনাল শেষ হল টিম ইন্ডিয়ার ৫ উইকেটের জয়ে। কিন্তু মাঠের লড়াই ফুরোতে না ফুরোতেই শুরু আসল নাটক। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন নকভি। নিয়মমাফিক তাঁর হাতেই ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্ব। অথচ ভারতের খেলোয়াড়রা ১৫ গজ দূরে ঠায় দাঁড়িয়ে। কেউ নড়লেন পর্যন্ত না। স্পষ্ট বার্তা—মহসিনের হাত থেকে ট্রফি নেওয়া নৈব নৈব চ!
বেশ কয়েক মিনিট গড়িমসির পরেও ভারতীয় দল মঞ্চের দিকে এগোল না যখন, বরং শোনা গেল স্টেডিয়াম-গর্জানো স্লোগান—‘ভারত মাতা কি জয়!’ আর নকভি দাঁড়িয়ে রইলেন একা, বিব্রত, চাপা রাগে, ততক্ষণে খেলা শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আয়োজকেরা ট্রফি সরিয়ে নিয়ে গেলেন ভেতরে। খেলোয়াড়রা শুধুই ব্যক্তিগত পুরস্কার নিলেন। কিন্তু দলের হাতে চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতীকী কাপ—তার দেখা মিলল না।
সূত্র বলছে, ম্যাচ শুরুর আগেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল, নকভি যদি মঞ্চে থাকেন, তবে ট্রফি গ্রহণ করা হবে না। ভারতের এই অনমনীয় অবস্থানকে আরও বেগ দিয়েছে সাম্প্রতিক কাণ্ডকারখানা। কয়েকদিন আগেই নকভি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন বিতর্কিত ভিডিও—যেখানে পাকিস্তানের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ভারতীয় বিমান ভূপতিত হয়েছে। এমন এক প্ররোচনামূলক পদক্ষেপের পর ভারতীয় দলের আপত্তি যে নিছক ‘প্রতীকী’ নয়, সেটা এতক্ষণে স্পষ্ট।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি ড্রেসিংরুমজুড়ে অদ্ভুত নীরবতা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও প্রায় এক ঘণ্টা আফ্রিদিদের কেউ বেরোননি। শেষমেশ অধিনায়ক সলমন আঘা যখন মাঠে এলেন, তাঁকে স্বাগত জানাল প্রবল শিস, বিদ্রুপ, টিপ্পনি আর চারদিক কাঁপানো ‘ভারত–ভারত’ জয়ধ্বনি!
এশিয়া কাপের ইতিহাসে এমন বিতর্ক কোনও দিন হয়নি। প্রথমবারের মতো ভারত–পাক ফাইনাল, যা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ছিনিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া। অথচ বিজয়ীর হাতে শিরোপা নেই। ক্রিকেট মহল এখন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—ট্রফি না নেওয়া নিছক প্রতিবাদ, নাকি দুই মুলুকের দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়?
উত্তর যা-ই হোক না কেন, রবিবার রাতে দুবাইয়ের মঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন সূর্যরা—তাঁরা খেলেছেন, লড়াই জিতেও নিয়েছেন, সবই ঠিক আছে। কিন্তু তাই বলে মহসিনের হাত থেকে শিরোপা নেওয়া কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন, প্রীতি-সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়ানো… কিছুতেই সম্ভব নয়।