এতকিছুর মধ্যে পাকিস্তান শিবিরে হতাশার আঁধার, চাপা ক্ষোভ। আঘার কথার সুরই বলে দিচ্ছে—যুদ্ধ ফুরোলেও ভারতের ‘অসম্মান’ তাঁর গলায় এখনও কাঁটার মতো গেঁথে আছে। এই যন্ত্রণা আর অস্বস্তি বুঝি সহজে যাওয়ার নয়!

সলমন আঘা
শেষ আপডেট: 29 September 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে লড়াই শেষ। ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে জিতে নিল নবম এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025)। আফ্রিদিদের স্বপ্ন চূর্ণ। কিন্তু পরাজয়ের ক্ষতজ্বালা বুকে নিয়ে শান্ত হতে পারছেন না সলমন আলি আঘা (Salman Ali Agha)। ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে কখনও আবেগে ভাসলেন, কখনও হতাশা জানালেন, কখনও রোষ উগরে দিলেন পাক অধিনায়ক। ভারতীয় দলের আচরণকে ব্যাখ্যা করলেন: ‘অসম্মানজনক’ শব্দে।
আঘার সাফ অভিযোগ—এটা শুধু পাকিস্তানের অপমান নয়, আসলে ক্রিকেট নামক খেলাকেই আঘাত করা হয়েছে। তাঁর গলায় বিষাদ ঝরে পড়ল: ‘দেখুন স্যার, এই ব্যাপারটা খুব হতাশার। যদি ওরা ভাবে, হাত না মিলিয়ে আমাদের ছোট করছে, তবে কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। আসলে ক্রিকেটকেই ছোট করছে। এটা কোনও ভাল দলের আচরণ হতে পারে না।’
এরপরই তুললেন নিজেদের উদাহরণ। বললেন, ‘ভাল টিম আচরণ করে যেমনটা আমরা করেছি। মেডেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ফাইনালের আগে আলাদা করে ট্রফির সঙ্গে ছবিও তুলেছি। কিন্তু আজকের মতো ব্যবহার? এটা একেবারেই অসম্মানজনক।’
প্রসঙ্গত, এবারের এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি ভারত-পাক। প্রতিবারই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। মাঠের পাশাপাশি ময়দানের বাইরে আছড়ে পড়ে একের পর এক বিতর্ক—হ্যান্ডশেক না করা, রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে চাপানউতর আর শেষ অঙ্কে ট্রফি বিতরণ নিয়ে ভরপুর নাটক। ভারতীয় দল স্পষ্ট করে দেয়, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে শিরোপা নেওয়া হবে না। খেলা জিতে জয়োল্লাসে মেতেও তাই হাতখালি থাকে সূর্যদের।
সেই প্রসঙ্গ টেনেও ভারতকে বিঁধেছেন সলমন আঘা। বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছিলাম মেডেল নেওয়ার জন্য। কিন্তু ওরা যেভাবে খেলাটাকে টানল, সেটা মানা যায় না। কঠিন শব্দ ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু এভাবে কখনও কোনও ভাল দল খেলে না।’
পাশাপাশি আরও এক মারাত্মক দাবি করেছেন পাক অধিনায়ক। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে সূর্যকুমার নাকি তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রেস কনফারেন্সে ও পরে ম্যাচ রেফারির মিটিংয়ে সূর্য আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে। কিন্তু ক্যামেরার সামনে পুরো অন্য চেহারা! আমি নিশ্চিত, ও শুধু নির্দেশই মেনেছে। সূর্যের ব্যক্তিগত ইচ্ছে হলে হয়তো আলাদা কিছু হত।’—অভিমত আঘার!
অন্যদিকে, ভারতীয় শিবিরে বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। ট্রফি ছাড়াই পোডিয়ামে সূর্যকুমার সেই চিরাচরিত ট্রফি-উদযাপন ভঙ্গি করেছেন, সতীর্থরা মেতেছেন উৎসবে, গ্যালারিজুড়ে উঠেছে স্লোগান!
আর এতকিছুর মধ্যে পাকিস্তান শিবিরে হতাশার আঁধার, চাপা ক্ষোভ। আঘার কথার সুরই বলে দিচ্ছে—যুদ্ধ ফুরোলেও ভারতের ‘অসম্মান’ তাঁর গলায় এখনও কাঁটার মতো গেঁথে আছে। এই যন্ত্রণা আর অস্বস্তি বুঝি সহজে যাওয়ার নয়!