ম্যাচ শেষে হাতখালি থাকলেও আবেগের ভাঁড়ার ফাঁকা ছিল না। দুবাইয়ের গ্যালারিতে ভারতীয় পতাকা উড়ল, ছড়িয়ে পড়ল বিজয়ের হর্ষধ্বনি, সমবেত স্লোগান।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 29 September 2025 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাইনালে জয়… প্রতিপক্ষ পাকিস্তান… তবু হাতে নেই ট্রফি! ক্রিকেট ইতিহাসে এমন দৃশ্য আগে কেউ দেখেছে কে? রবিবার রাতে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম (Dubai International Cricket Stadium) সাক্ষী রইল এমনই এক নজিরবিহীন নাটকের। এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) নবম শিরোপা জিতল ভারত। তবু খালি হাতে মাঠ ছাড়লেন সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)।
ঘটনার গোড়ায় কূটনীতির মার, রাজনীতির প্যাঁচ। নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেবেব এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। কিন্তু ভারতীয় দলের সাফ বার্তা—পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি নেওয়া হবে না। নকভি মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন ঠিকই, কিন্তু খেলোয়াড়রা ১৫ গজ দূরে ঠায় দাঁড়িয়ে। এগোলেনই না। গ্যালারি ততক্ষণে গর্জে উঠেছে—‘ভারত মাতা কি জয়!’ শেষমেশ আয়োজকেরা দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রফি সরিয়ে নিলেন ভেতরে।
ফলে ময়দানে গেল এক অবিশ্বাস্য ছবি—জয়ের উল্লাসে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন সূর্য, সতীর্থরা চারপাশে লাফাচ্ছেন, কিন্তু কারও হাতে কোনও কাপ, ন্যূনতম স্মারকটুকু নেই। যেন কাল্পনিক ট্রফি ধরে বিজয়-উল্লাসে মাতলেন ভারতীয় অধিনায়ক! সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল এই দৃশ্য।
প্রসঙ্গত, নকভির সঙ্গে বিরোধ নতুন নয়। গ্রুপ লিগের সময় থেকেই সূর্যরা হাত মেলাতে অস্বীকার করেছিলেন। ফাইনালের আগে প্রচলিত ট্রফি-ফোটোশুটও ভেস্তে যায়, কারণ ভারতীয় শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—পিসিবি প্রধানের পাশে দাঁড়াবে না দল। এর আগে সূর্যের রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও পাক ক্রিকেট বোর্ড অভিযোগ জানিয়েছিল আইসিসির দরবারে। সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে এবারের আসর সবচেয়ে বেশি ‘রাজনৈতিক রং’ মেখেই শেষ হল।
তবে মাঠের ক্রিকেট ছাড়িয়ে গেছে সব বিতর্ক, সমস্ত নাটক। প্রথমবার ভারত–পাক ফাইনাল। পাকিস্তান ১৩তম ওভারে ১১৩/১। তারপরই ভেঙে পড়ে ব্যাটিং অর্ডার। মাত্র ৩৩ রানে আফ্রিদিরা খুইয়ে ফেলেন ৯ উইকেট। শেষমেশ অলআউট ১৪৬-এ। কুলদীপ যাদব একাই নিলেন চারটি, তার মধ্যে তিনটি এল গেম-বদলে দেওয়া ১৭তম ওভারে। বুমরাহ, অক্ষর, বরুণ চক্রবর্তী ভাগ করে নিলেন ছয় উইকেট।
জবাবে ভারতও ধাক্কা খেয়েছিল শুরুতে। ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেন সূর্যরা। কিন্তু স্নায়ু-চাপ সামলালেন তিলক বর্মা। একা হাতে। ৫১ বলে অপরাজিত ৬৯। গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবের সঙ্গে। শেষে রিঙ্কু সিংয়ের বাউন্ডারিতে জিতে গেল ভারত। হাতে এক বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে হাতে এল জয়!
অবশ্য ম্যাচ শেষে হাতখালি থাকলেও আবেগের ভাঁড়ার ফাঁকা ছিল না। দুবাইয়ের গ্যালারিতে ভারতীয় পতাকা উড়ল, ছড়িয়ে পড়ল বিজয়ের হর্ষধ্বনি, সমবেত স্লোগান। ট্রফি না থাকুক, ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল—চিরশত্রুকে পরপর তিনবার হারিয়ে, রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে, নবমবারের মতো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন টিম ইন্ডিয়া!