শেষ পর্যন্ত ৭ রানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। ব্যাট হাতে সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ও বল হাতে বুমরাহ আলো কাড়লেও, ফিল্ডিংয়ে অক্ষরের অবদান ম্যাচের অকথিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

অক্ষর ও কপিল
শেষ আপডেট: 6 March 2026 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) ভারত বনাম ইংল্যান্ড (India vs England) টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনাল নিখাদ রানযুদ্ধ। পাটা পিচে বোলার-নিধন। দু’ইনিংস মিলিয়ে প্রায় ৫০০ রান উঠেছে। কিন্তু সেই একই ম্যাচে ব্যাট-বলের পাশাপাশি নজর কেড়েছে ফিল্ডিং। জমকালো আলোয় সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ যিনি, তিনি টিম ইন্ডিয়ার অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)! দুটি অসাধারণ ক্যাচে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। একটি ক্যাচ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে (Harry Brook) ফিরিয়েছে। আরেকটি রিলে ক্যাচ। যার জেরে সাজঘরের পথে হাঁটা লাগান উইল জ্যাকস (Will Jacks)। দুটি মুহূর্তই গতকালের ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
‘কপিল দেবের ক্যাচ মনে পড়ল’
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (Kris Srikkanth) অক্ষরের প্রথম ক্যাচ দেখে ফিরে গিয়েছেন তিরাশির বিশ্বকাপে। ব্রুককে ফেরানোর সেই ক্যাচ তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে কপিল দেবের (Kapil Dev) কথা। ১৯৮৩ সালের টুর্নামেন্টে ফাইনালে ভিভ রিচার্ডসকে (Viv Richards) আউট করতে কপিল দেব দৌড়ে যে ক্যাচ ধরেছিলেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। শ্রীকান্তের মতে, অক্ষরের ক্যাচটিও একই মানের।
ঘটনাটি ম্যাচের পঞ্চম ওভারে। জসপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) প্রথম বল। গতি বদলে ব্রুককে বিভ্রান্ত করেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার। শট ঠিকমতো টাইম হয়নি। বল উঠে যায় অনেক উঁচুতে। সেই সময় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিলেন অক্ষর। সেখান থেকে প্রায় ২০ মিটার পিছনে দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ ধরেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে বল মুঠোয় ভরে নেন। শ্রীকান্তের মন্তব্য, ‘এই ধরনের ক্যাচ খুব সহজ নয়। পিছনের দিকে দৌড়তে দৌড়তে বলের দিকে চোখ রেখে ক্যাচ নেওয়া অসাধারণ দক্ষতার কাজ।’
জ্যাকসের রিলে ক্যাচে ম্যাচ ঘুরল
যদিও ব্রুকের ক্যাচ চমকপ্রদ, যদিও ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট আসে পরে। উইল জ্যাকস তখন ৩৫ রানে খেলছেন। জ্যাকব বেথেলের (Jacob Bethell) সঙ্গে তাঁর ৭৭ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। ১৪তম ওভারে অর্শদীপ সিংয়ের (Arshdeep Singh) বলে বড় শট মারেন জ্যাকস। বল প্রায় সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ডিপ কভারে থাকা অক্ষর দৌড়ে গিয়ে বল ধরেন। সহজ ছিল না সেই ক্যাচ, ভারসাম্য হারাচ্ছিলেন। বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। ঠিক তখনই সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সিদ্ধান্ত নেন। বল ছুড়ে দেন সতীর্থ শিবম দুবের (Shivam Dube) দিকে। যিনি সহজে বল লুফে নেওয়ায় আউট হন জ্যাকস।
স্কোরকার্ডে ক্যাচটি দুবের নামে গেলেও আসল কৃতিত্ব অক্ষরেরই। শ্রীকান্তের মতে, এই উইকেটই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
নিজের পছন্দ জানালেন অক্ষর
ম্যাচের পরে জিওহটস্টারে (JioHotstar) পার্থিব প্যাটেলের (Parthiv Patel) সঙ্গে কথা বলেন অক্ষর। সেখানে তিনি জানান, তাঁর কাছে ব্রুকের ক্যাচটাই বেশি প্রিয়। অক্ষরের যুক্তি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ওই ক্যাচটা ধরতে আমাকে উইকেটের উলটো দিকে দৌড়তে হয়েছিল। এমন ক্যাচ খুব কঠিন। চোখের সামনে বল ঠিকমতো দেখা যায় না।’আরও জানান, ক্যাচ নেওয়ার ঠিক আগে এক মুহূর্ত থেমেছিলেন। সেই বিরতিই তাঁকে বলের নিচে ঠিকমতো পৌঁছতে সাহায্য করে।
রিলে ক্যাচ নিয়েও অকপট অক্ষর। বলেন, ‘আমি দৌড়ে গিয়ে বুঝেছিলাম হয়তো পৌঁছতে পারব না। তারপর মনে হল পারব। তখনই ধরলাম। কিন্তু বাউন্ডারির কাছে চলে গিয়েছিলাম। তাই শিবমকে বল ছুড়ে দিই।’পাশাপাশি উল্লেখ করেন, শিবম দুবের উপস্থিত বুদ্ধির কথা। যা এই ক্যাচে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সামনে এগিয়ে আসেননি। এগিয়ে এলে বল হাত ফসকে যেত।
শেষ পর্যন্ত ৭ রানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। ব্যাট হাতে সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ও বল হাতে বুমরাহ আলো কাড়লেও, ফিল্ডিংয়ে অক্ষরের অবদান ম্যাচের অকথিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।