বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা ছিল বুমরাহর ওভার বাঁচিয়ে রাখা। শেষ দশ ওভারের মধ্যে তাঁর তিন ওভার লড়াইয়ের গতিমুখ পালটে দেয়।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 6 March 2026 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মাস আগের কথা। ছকভাঙা মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দেওয়াটা যাঁর মজ্জাগত, সেই গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir), টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ কথাপ্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, সাদা বলের ক্রিকেটে ফিক্সড বা অনড় ব্যাটিং ক্রম বলে কিছু হতে পারে না। এটা হওয়া উচিত নয়৷ হলেও সেটা ওভাররেটেড! ব্যাটাররা কে কখন নামবে সেটা সম্পূর্ণত ম্যাচের পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল৷ এই ‘ফ্লুইডিটি' নষ্ট হলে লোকসান বৈ লাভের কিছু নেই! এই মতামতের পর স্বাভাবিকভাবেই একগুচ্ছ বিতর্ক, প্রশ্ন ঘনিয়ে ওঠে৷ কাঠগড়ায় তোলা হয় গম্ভীরকে।
ম্যাচ-আপের খেলা, ছক ভাঙলেন গম্ভীর
টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে (England) হারানোর পর সেই পুরনো মন্তব্য যেন নতুন অর্থ পেল। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) সূর্যকুমারদের ব্যাটিং পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—স্থির ব্যাটিং ক্রম নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে ফেলা।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (Harry Brook) টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) যদিও জানিয়ে দেন, তিনি আসলে আগে ব্যাট করতেই চেয়েছিলেন। কেন? কোন পরিকল্পনায়? সবকিছু প্রকাশ্যে এল মাঠে, পারফরম্যান্সে।
ফিরে দেখা যাক দশম ওভার। আদিল রশিদ (Adil Rashid) যখন ঈশান কিশনের (Ishan Kishan) উইকেট নেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন সূর্যকুমার নামবেন। কিন্তু গম্ভীরের প্ল্যান ছিল অন্য। চার নম্বরে পাঠানো হল শিবম দুবেকে (Shivam Dube)। কারণ সহজ—দুবের লেগস্পিন খেলার দক্ষতা। রশিদের বিরুদ্ধে সেই কৌশল একশো শতাংশ ক্লিক করে। কয়েক বলের মধ্যেই তিনটি ছয় মেরে ম্যাচের গতি বদলে দেন দুবে।
বাম-ডান জুটি, বিভ্রান্ত ইংল্যান্ড
ভারতের ইনিংসে আরেকটি বিষয় ছিল চোখে পড়ার মতো—নিয়মিত বাম-ডান ব্যাটিং জুটি। সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) সঙ্গে দুবে, পরে হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya)। এই পার্টনারশিপ বদলের কৌশলে ইংল্যান্ডের বোলিং পরিকল্পনা বারবার ভেঙেছে। যে কারণে ব্রুককে মাঝপথে জোফ্রা আর্চারকে (Jofra Archer) ফের আক্রমণে আনতে হয়।
অন্যদিকে তিলক বর্মাকে (Tilak Varma) ধরে রাখা হয় শেষের ঝড়ের জন্য। আর্চারের গতির বিরুদ্ধে তাঁর স্বাভাবিক খেলা ভারতের পরিকল্পনার অংশ ছিল। যে কারণে ইংল্যান্ডের বোলাররা ছন্দ খুঁজে পাননি। আর এই ধারাবাহিক রদবদলে ইংরেজ বাহিনী কার্যত প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে। প্ল্যান বদলাতে বদলাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।
বল হাতেও পরিকল্পনার ছাপ
গম্ভীরের কৌশল শুধু ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। বল হাতেও পরিকল্পনা স্পষ্ট। ওয়াংখেড়ের সমতল পিচে ইংল্যান্ডকে থামাতে হলে শুরুতেই চাপ দরকার—এই ধারণা থেকেই হার্দিক পান্ডিয়াকে তাড়াতাড়ি আক্রমণে আনা হয়। আসামাত্র প্রথম বলে তিনি ফিরিয়ে দেন ফিল সল্টকে (Phil Salt)। জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) পাওয়ারপ্লেতে আসেন হ্যারি ব্রুককে নির্বিষ করতে। গতিবদলানো এক ডেলিভারিতে ব্রুকের ভুল শট, পেছনে দৌড়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা ছিল বুমরাহর ওভার বাঁচিয়ে রাখা। শেষ দশ ওভারের মধ্যে তাঁর তিন ওভার লড়াইয়ের গতিমুখ পালটে দেয়। বিশেষ করে ১৬ ও ১৮ নম্বর ওভারে বুমরাহর স্পেল ম্যাচের মোড়-ঘোরানো। সেই সময় ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ওভার প্রতি ১৪ রান। বুমরাহ দেন মাত্র ১৪! যার সুবাদে শেষ পর্যন্ত সাত রানের জয়। যা দেখিয়ে দিল—কখনও কখনও ‘এলোমেলো’ প্ল্যানিং-ই সবচেয়ে ‘সাজানো’ পরিকল্পনা হয়ে ওঠে।