টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 1 March 2026 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ইডেন গার্ডেন্স তথা গোটা ভারতবাসী যা প্রত্যক্ষ করল, তা কোনও নিছক ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ নয়। বরং প্রতিভার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে ‘ঠাস’ বলা যেতে পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এতদিন রিজার্ভ বেঞ্চের অলঙ্কার হয়ে থাকার পর, যখন দলের টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল, তখন ত্রাণকর্তা সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস কেবল ভারতকে সেমিফাইনালের টিকিটই (T20 World Cup 2026) এনে দিল না, বরং নির্বাচক মণ্ডলীর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল।

ভারতীয় ক্রিকেটে সঞ্জু দীর্ঘকাল ধরেই রাজনীতির শিকার। তা নিয়ে কম কথা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে যখন মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তখন সঞ্জুকে কখনও দল থেকে ব্রাত্য করা হয়েছে অথবা প্লেয়িং ইলেভেনের বাইরে রাখা হয়েছে। রবিবাসরীয় বিকেলে ইডেনে সেই সঞ্জুই প্রমাণ করলেন, সুযোগ পেলে তিনি কেবল ইনিংস গড়েন না, প্রতিপক্ষের বোলারদের কার্যত নাকানি-চোবানি খাওয়াতে পারেন। ৫০ বলে তাঁর অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করা কোনও ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এই রেকর্ডটি এতদিন ছিল বিরাট কোহলির দখলে (অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮২)।
নির্বাচকমণ্ডলী এবং টিম ম্যানেজমেন্ট যে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়মিত খেলানোর ব্যাপারে উদাসীন, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরেও তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখে টপ অর্ডারে ধারাবাহিক ব্যর্থতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারের পর অধিনায়ক সূর্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ রসিয়েই বলেছিলেন, "স্যামসনকে খেলাতে হলে তো কাউকে বাদ দিতে হয়! কাকে বাদ দেব?"
রোববার ইডেনের ম্যাচে অভিষেক শর্মা (১০ রান) এবং ঈশান কিষান (১০ রান) যখন দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন, তখন সূর্যের সেই ছটা অস্তাচলে। সঞ্জু কিন্তু তাঁর প্রতিভার কোনও অপব্যবহার করেননি। কোনও বাজে শটও খেলেননি। তিনি তাঁর সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন সাবলীল ঢঙে।
ইডেনের পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ১৯৫ রান তুলেছিল, যা টি-টোয়েন্টিতে যথেষ্ট সম্মানজনক স্কোর। এই পিচে রান তাড়া করার কাজ মোটেও সহজ ছিল না, বিশেষ করে যখন দলীয় স্কোর ১০০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পড়ে যায়। ঠিক তখনই সঞ্জু তাঁর অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিলেন। দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে ৩৫ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামলান, তারপর দলের প্রয়োজন অনুযায়ী রান রেট বাড়িয়ে ম্যাচটি কার্যত একতরফা করে নেন। ৪টি ছয় এবং ১২টি চারে সাজানো তাঁর ইনিংস এক কথায় পাওয়ার-হিটিং এবং স্ট্রোক-মেকিংয়ের দারুণ সমন্বয়।
![]()

সঞ্জু স্যামসনের এই ইনিংস কি আগামী সেমিফাইনালের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে ঘুম কেড়ে নেবে? টিমের হেডকোচ গম্ভীরকে গম্ভীর দেখাচ্ছিল ম্যাচের শেষেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আজকের মরণ-বাঁচন ম্যাচের আগে যিনি কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। স্যামসনের আজকের পর কি তাঁরও চোখ খুলবে? ভগবানই জানেন।