টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের অসাধারণ জয়। সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে ভারত জিতে নিল ৫ উইকেটে ম্যাচ ও সেমিফাইনালে উঠল।

সঞ্জু স্যামসন
শেষ আপডেট: 1 March 2026 23:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কতটা দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে পারে ক্রিকেট—সেই নিখুঁত উদাহরণ দেখালেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। কয়েক দিন আগে যে ব্যাটারকে দেখে মনে হচ্ছিল, বেঞ্চে বসেই বিশ্বকাপ শেষ হবে, সেই সঞ্জুই আজ ইডেনে ভারতের সেমিফাইনালে (T20 World Cup 2026) পৌঁছে দিলেন। ৫ উইকেটে জয় এনে দেওয়ার পথে তিনি অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেললেন।
টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনাররা প্রথমে সাবধানে ব্যাটিং করলেও, পাওয়ার প্লেতে ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াতে শুরু করেন। রস্টন চেজ ও শিমরন হেটমায়ার জুটি গড়ে দৌড় বাড়ান। তবে জসপ্রীত বুমরাহ আউট করেন হেটমায়ারকে মাত্র ১২ বলে ২৭ রানে। পরের দুই উইকেটে আরও চাপ সৃষ্টি করে ভারতের বোলাররা।
শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রভম্যান পাওয়েল (৩৪) ও জেসন হোল্ডার (৩৭*) অপরাজিত থাকলেও, ভারতের ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে কিছু ফাঁক থাকায় রান তুলতে সক্ষম হন তারা।
ভারতের ব্যাটিং: শুরুটা ধীর, তবে সঞ্জু একা নেন দায়িত্ব
রান তাড়া করতে নেমে ভারত ভালো শুরু করতে পারেনি। ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিশন যথাসময়ে আউট হন। সূর্যকুমারও সাবলীলভাবে খেলতে পারছিলেন না। তবে অন্য দিকে সঞ্জু স্যামসন ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন। পাওয়ার প্লের পরও সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে ২৬ বলে অর্ধশতরান হাঁকান।
ধাপে ধাপে ভারতের রান রেট টেনে নেন সঞ্জু। যদিও সূর্যকুমার আউট হয়ে যাওয়ার পর ভারতের গতি কিছুটা কমে যায়, তাতে তাঁর সঙ্গে তিলক বর্মা যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান তুলেন। তিলক ১৫ বল খেলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন, কিন্তু জেসন হোল্ডার আবারও নিখুঁত ক্যাচ ধরেন।
শেষ মুহূর্তের চাপও সামলালেন সঞ্জু
শেষ ছ’ওভারে ভারতের হাতে দরকার ছিল ৬০ রান। চাপ থাকা সত্ত্বেও সঞ্জু নিখুঁত কৌশলে, ঝুঁকি না নিয়ে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেন। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানে তিনি ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
রেকর্ডও গড়লেন সঞ্জু
এই ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন ভেঙে দিলেন বিরাট কোহলির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাট ৮২ রান করেছিলেন, আজ সঞ্জু সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন।
শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় ৪ বল বাকি থাকতে নিশ্চিত হয়। সঞ্জু শুধু জয় দেননি, বরং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং গৌতম গম্ভীর-দেরও স্বস্তি দিয়েছেন। বুধবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নামার আগে এই জয় ভারতের মনোবলকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।