রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও ফিফার বার্তা পরিষ্কার—খেলার মঞ্চে সব দলকেই দেখতে চায় তারা। এখন দেখার, কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্বকাপের মাঠে পৌঁছয় কি না।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 1 March 2026 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইজরায়েলের (Israel) ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই আবহে বড় প্রশ্ন—আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ইরান খেলতে পারবে তো? বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) যদিও স্পষ্ট জানাল, তাদের লক্ষ্য একটাই—‘যোগ্যতা অর্জন করা সব দলই অংশ নেবে।’
ফিফার অবস্থান: ‘নিরাপদ বিশ্বকাপ, সবার অংশগ্রহণ’
ওয়েলসে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (IFAB) বৈঠকে ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম (Mattias Grafstrom) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরাও খবর আপনাদের মতোই পড়ছি। এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা তাড়াহুড়ো হবে। তবে দুনিয়াজুড়ে যা ঘটছে, আমরা সব নজরে রাখছি।’ পরে জুড়ে দেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন করা, যেখানে সব দল অংশ নেবে।’
ইরান (Iran) গত বছর মার্চে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে। জুনে তাদের গ্রুপ ম্যাচ রয়েছে নিউজিল্যান্ড (New Zealand), বেলজিয়াম (Belgium) ও মিশরের (Egypt) বিরুদ্ধে। খেলাগুলো হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে। দলের ঘাঁটি অ্যারিজোনার টুকসন।
ভিসা ইস্যু ও রাজনৈতিক চাপ
তবে জটিলতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) জারি করা ‘ট্রাভেল ব্যানে'-র ফলে ইরানি নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও বিশ্বকাপ, অলিম্পিক্সের মতো বড় ইভেন্টের জন্য খেলোয়াড়, কোচ ও স্টাফদের ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে।
এই নিয়ে অতীতে সমস্যা হয়েছে। গত বছর বিশ্বকাপের ড্রয়ের আগে কয়েকজন ইরানি প্রতিনিধির ভিসা বাতিল হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্স প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি (Andrew Giuliani) তখন বলেছিলেন, ‘ভিসা নিয়ে সমস্ত সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।’ ড্রয়ের পর ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়েই (Amir Ghalenoei) রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, ‘ফিফা চেষ্টা করছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দল ও স্টাফ যেন বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে।’
খেলাধুলোয় প্রভাব
সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই ময়দানে পড়েছে। ইজরায়েল ও কাতারে কয়েকটি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত হয়েছে। সম্প্রচার সংস্থা বিইন স্পোর্টস (beIN Sports) তাদের লাইভ প্রিমিয়ার লিগ সম্প্রচার লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে। আবু ধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্স ও পাকিস্তানের নির্ধারিত ক্রিকেট ম্যাচও বাতিল। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) জানিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে এতকিছুর মধ্যেও দুবাই টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের (Dubai Tennis Championships) ডাবলস ফাইনাল নির্ধারিত সময়েই আয়োজিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও ফিফার বার্তা পরিষ্কার—খেলার মঞ্চে সব দলকেই দেখতে চায় তারা। এখন দেখার, কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্বকাপের মাঠে পৌঁছয় কি না।