সব মিলিয়ে এক পক্ষ মনে করছে, খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। অন্য পক্ষের বক্তব্য, সমর্থকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করে কোনও বিশ্বকাপই সত্যিকারের ‘বিশ্ব উৎসব’ হতে পারে না।

শেপ ব্লাটার
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের পারদ চড়ালেন প্রাক্তন ফিফা সভাপতি শেপ ব্লাটার (Sepp Blatter)। আমেরিকায় ম্যাচ দেখতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্যেই বিশ্বকাপ বয়কটের ডাককে জোগালেন সমর্থন। নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে বর্তমান আমেরিকাকে ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য’ বলেই মনে করছেন ব্লাটার।
আসন্ন বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট চলার কথা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে এখন প্রশ্নের মুখে গোটা আয়োজন।
কেন বয়কটের ডাক?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ব্ল্যাটার সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন সুইস দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী মার্ক পিয়েথের (Mark Pieth) বক্তব্যকে। পিয়েথের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ‘উজ্জীবিত করে না’। এই প্রসঙ্গে ব্ল্যাটার লেখেন, ‘মার্ক পিয়েথ যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা একেবারেই যৌক্তিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার।’
পিয়েথ, যিনি এক দশক আগে ফিফার সংস্কার পর্বে স্বাধীন গভর্ন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, সতর্ক করেছেন বেশ কড়া ভাষায় । সুইস সংবাদপত্র ‘ডার বুন্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সব কিছু বিচার করলে সমর্থকদের জন্য একটাই পরামর্শ—যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না।’তাঁর দাবি, সীমান্তে কড়া অভিবাসন নীতির জেরে সমর্থকরা অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়বেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলেই তাঁদের ফেরত পাঠানো হতে পারে।
নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন
বয়কটের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক ভূমিকা। চলতি বছরে মিনিয়াপোলিসে (Minneapolis) একাধিক অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। ৩৭ বছরের রেনে নিকোল গুডের (Rene Nicole Good) মৃত্যু হোমিসাইড হিসেবে চিহ্নিত করেছে হেনেপিন কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনার। অভিযোগ, এক আইসিই (ICE) এজেন্টের গুলিতেই তিনি মারা যান। এর পাশাপাশি আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটির (Alex Pretti) মৃত্যুর ঘটনাও দেশজুড়ে প্রতিবাদ উসকে দিয়েছে। নাগরিক অধিকার, পুলিশি বলপ্রয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার সংগঠন এবং ক্রীড়ামহলের একাংশ।
ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও ফুটবলবিশ্বের উদ্বেগ
সমর্থকদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন-ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা ঘিরে। সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের (Ivory Coast) সমর্থকরা অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছেন নয়া নীতির কারণে। যার জেরে আগে থেকে ভিসা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কার্যত অসম্ভব। ইরান (Iran) ও হাইতির (Haiti) সমর্থকরাও একই সমস্যার মুখে। এই দুই দেশ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে, কিন্তু আগের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় তাঁদের সমর্থকদের মাঠে ঢোকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রেক্ষাপটে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওকে গ্যোটলিশের (Oke Göttlich) মন্তব্য, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না!’
সব মিলিয়ে এক পক্ষ মনে করছে, খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। অন্য পক্ষের বক্তব্য, সমর্থকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করে কোনও বিশ্বকাপই সত্যিকারের ‘বিশ্ব উৎসব’ হতে পারে না। বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এই দ্বন্দ্বই এখন ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।