Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

ক্রিকেট খেলতে একসময় ধুতে হতো বাসন, সেই ঈশান আজ পা দিলেন সাতাশে

সেই সময় যেহেতু ঈশান রান্না করতে জানতেন না, তাই তাঁকে থালা-বাসন ধোয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

ক্রিকেট খেলতে একসময় ধুতে হতো বাসন, সেই ঈশান আজ পা দিলেন সাতাশে

ঈশান কিশান

সৌম্য বাগচী

শেষ আপডেট: 18 July 2025 16:23

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সাতাশে পা দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের পকেট ডায়নামাইট ঈশান কিশান। ঝাড়খণ্ডের এই ক্রিকেটারের ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচের দ্রুততম দ্বিশতরান। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা এবং ২৪টি চার

দেশের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশানের প্রতিভা নিয়ে কোনওদিনই সন্দেহ ছিল না। তবে তাঁর আচরণ নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ চলাকালীন প্রথম একাদশে সুযোগ না পেয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ফিরে আসা বা বোর্ডের নির্দেশ সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলায় তিনি বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছিলেন।

তবে তিনি এখন জাতীয় দলের মূল স্রোতে না থাকলেও প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইপিএল সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি গিয়েছেন ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলতে। সেই ঈশানের আজ ছিল ২৭তম জন্মদিন। তাঁকে এদিন জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। ঈশানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিসিসিআই ও তাঁর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেই সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস, ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থা-সহ আরও অনেকে।

কিশানের উঠে আসার পথ কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার জন্য তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ

পাটনার মঈনুল উল হক স্টেডিয়ামে ঈশান কিশানের ক্রিকেট পাঠ শুরু হয় মাত্র সাত বছর বয়সে। শানের বাবা প্রণব পাণ্ডে তাঁকে কোচ উত্তম মজুমদারের কাছে নিয়ে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন, “আমার ছেলে খুব মজা করতে পছন্দ করে এবং বাড়ির সবাইকে বিরক্ত করে। সে সবসময় খেলতে চায়। দয়া করে তাকে অ্যকাডেমিতে নিয়ে নিন

প্রথমে কোচ উত্তম মজুমদার বলেছিলেনশানের বয়স খুব কম। কিন্তু তার বাবার অনুরোধে তিনি কিশানকে নেটে ব্যাট করতে ডাকেন। কোচ নিজেই বল করেন। একজন নতুন খেলোয়াড়ের প্রতিভা চিনতে কোচের এটাই ছিল উপায়। ঈশান প্রথম বলেই কভার ড্রাইভ মারেন। তারপর তিনি আরও কিছু আকর্ষণীয় শট খেলেন। ঈশানের প্রতিভায় মুগ্ধ হন উত্তম মজুমদার। তিনি তখনই শানের বাবাকে বলেন, এই প্রতিভা যদি ভারতের হয়ে না খেলে, তাহলে দেশের ক্ষতি হবে। 

শানের জীবন শুরুতে ছিল কঠিন লড়াই। পাটনায় সুযোগের অভাবে কিষাণ চলে যান ঝাড়খণ্ডে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি রাঁচিতে পৌঁছন। কোচ উত্তম সিং তাঁকে রাঁচিতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ঈশান তখন কয়েকজন সিনিয়রের সঙ্গে একটি ছোট ঘরে থাকতেন।

সেই সময় যেহেতু ঈশান রান্না করতে জানতে না, তাই তাঁকে থালা-বাসন ধোয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিশান কোনও অভিযোগ ছাড়াই থালা-বাসন ধুয়ে ফেলতেন, কারণ তিনি কেবল ক্রিকেট খেলতে চাইতে। কোচের মতেঈশান কিশান সঠিক পথেই এগোচ্ছিলে

মাত্র ১৬ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেকের সুযোগ পান ঈশান। ২০১৪ সালে এক ম্যাচে তাঁকে অসমের আবু নাচিমে থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় অসমের এই পেসার খুব দ্রুত বল করছিলেন। গুয়াহাটিতে নাচিমের প্রথম বলটি ঈশান ড্রাইভ করেন এবং তারপরে সেই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান, যা স্টেডিয়ামের ছাদে আঘাত করে।

জুনিয়র ক্রিকেটের দিনগুলিতেঈশান বল তুলে বড় শট মারার চেষ্টা করতেন। পূর্ণিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঈশান চারটি ছক্কা মেরে নিজের ছাপ রেখেছিলেন। সেই সঙ্গে অনুশীলনে কিশান সেই সময় মাঝে মধ্যেই ৫০০টি করে বল খেলতেন, যার মধ্যে ১০০টি শট স্ট্যান্ডে পড়ত। নেটে মানুষ তাঁকে দেখতে আসত। ঈশানের দুটি বড় বিশেষত্ব হল ব্যাটের গতি এবং শট নির্বাচন।

খেতেও খুব ভালবাসেন ঈশান কিশান। তরুণ এই ক্রিকেটার মাটন, গুলাব জামুন এবং রসমালাই খুব পছন্দ করেন। তবে ফিটনেসের কারণে তাঁকে এই জাতীয় খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ঈশান যখন তাঁর প্রথম কোচ মজুমদারের বাড়িতে যান, তখন তিনি কোনও খাবারই এড়িয়ে যান না।

রঞ্জি দলে তাঁকে ডাকা হতো ছোটু বলেআর কোচের কাছে সে ইশু। কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার ফলস্বরূপ আজ ঈশান কিশান একজন আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছে। 


```