সেই সময় যেহেতু ঈশান রান্না করতে জানতেন না, তাই তাঁকে থালা-বাসন ধোয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ঈশান কিশান
শেষ আপডেট: 18 July 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সাতাশে পা দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘পকেট ডায়নামাইট’ ঈশান কিশান। ঝাড়খণ্ডের এই ক্রিকেটারের ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচের দ্রুততম দ্বিশতরান। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা এবং ২৪টি চার।
দেশের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশানের প্রতিভা নিয়ে কোনওদিনই সন্দেহ ছিল না। তবে তাঁর আচরণ নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ চলাকালীন প্রথম একাদশে সুযোগ না পেয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ফিরে আসা বা বোর্ডের নির্দেশ সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলায় তিনি বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছিলেন।
তবে তিনি এখন জাতীয় দলের মূল স্রোতে না থাকলেও প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইপিএল সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি গিয়েছেন ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলতে। সেই ঈশানের আজ ছিল ২৭তম জন্মদিন। তাঁকে এদিন জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। ঈশানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিসিসিআই ও তাঁর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেই সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস, ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থা-সহ আরও অনেকে।
Wishing a very Happy Birthday to #TeamIndia wicket-keeper batter, Ishan Kishan 🎂👏@ishankishan51 pic.twitter.com/OXUUpn5Cma
— BCCI (@BCCI) July 18, 2025
কিশানের উঠে আসার পথ কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার জন্য তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ।
পাটনার মঈনুল উল হক স্টেডিয়ামে ঈশান কিশানের ক্রিকেট পাঠ শুরু হয় মাত্র সাত বছর বয়সে। ঈশানের বাবা প্রণব পাণ্ডে তাঁকে কোচ উত্তম মজুমদারের কাছে নিয়ে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন, “আমার ছেলে খুব মজা করতে পছন্দ করে এবং বাড়ির সবাইকে বিরক্ত করে। সে সবসময় খেলতে চায়। দয়া করে তাকে অ্যকাডেমিতে নিয়ে নিন।”
প্রথমে কোচ উত্তম মজুমদার বলেছিলেন, ঈশানের বয়স খুবই কম। কিন্তু তাঁর বাবার অনুরোধে তিনি কিশানকে নেটে ব্যাট করতে ডাকেন। কোচ নিজেই বল করেন। একজন নতুন খেলোয়াড়ের প্রতিভা চিনতে কোচের এটাই ছিল উপায়। ঈশান প্রথম বলেই কভার ড্রাইভ মারেন। তারপর তিনি আরও কিছু আকর্ষণীয় শট খেলেন। ঈশানের প্রতিভায় মুগ্ধ হন উত্তম মজুমদার। তিনি তখনই ঈশানের বাবাকে বলেন, এই প্রতিভা যদি ভারতের হয়ে না খেলে, তাহলে দেশের ক্ষতি হবে।
ঈশানের জীবন শুরুতে ছিল কঠিন লড়াই। পাটনায় সুযোগের অভাবে কিষাণ চলে যান ঝাড়খণ্ডে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি রাঁচিতে পৌঁছন। কোচ উত্তম সিং তাঁকে রাঁচিতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ঈশান তখন কয়েকজন সিনিয়রের সঙ্গে একটি ছোট ঘরে থাকতেন।
সেই সময় যেহেতু ঈশান রান্না করতে জানতেন না, তাই তাঁকে থালা-বাসন ধোয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিশান কোনও অভিযোগ ছাড়াই থালা-বাসন ধুয়ে ফেলতেন, কারণ তিনি কেবল ক্রিকেট খেলতে চাইতেন। কোচের মতে, ঈশান কিশান সঠিক পথেই এগোচ্ছিলেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেকের সুযোগ পান ঈশান। ২০১৪ সালের এক ম্যাচে তাঁকে অসমের আবু নাচিমের থেকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় অসমের এই পেসার খুব দ্রুত বল করছিলেন। গুয়াহাটিতে নাচিমের প্রথম বলটি ঈশান ড্রাইভ করেন এবং তারপরে সেই ওভারে দু’টি ছক্কা হাঁকান, যা স্টেডিয়ামের ছাদে আঘাত করে।
জুনিয়র ক্রিকেটের দিনগুলিতে, ঈশান বল তুলে বড় শট মারার চেষ্টা করতেন। পূর্ণিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঈশান চারটি ছক্কা মেরে নিজের ছাপ রেখেছিলেন। সেই সঙ্গে অনুশীলনে কিশান সেই সময় মাঝে মধ্যেই ৫০০টি করে বল খেলতেন, যার মধ্যে ১০০টি শট স্ট্যান্ডে পড়ত। নেটে মানুষ তাঁকে দেখতে আসত। ঈশানের দু’টি বড় বিশেষত্ব হল ব্যাটের গতি এবং শট নির্বাচন।
খেতেও খুব ভালবাসেন ঈশান কিশান। তরুণ এই ক্রিকেটার মাটন, গুলাব জামুন এবং রসমালাই খুব পছন্দ করেন। তবে ফিটনেসের কারণে তাঁকে এই জাতীয় খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ঈশান যখন তাঁর প্রথম কোচ মজুমদারের বাড়িতে যান, তখন তিনি কোনও খাবারই এড়িয়ে যান না।
রঞ্জি দলে তাঁকে ডাকা হতো ছোটু বলে, আর কোচের কাছে সে ইশু। কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার ফলস্বরূপ আজ ঈশান কিশান একজন আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে উঠেছেন।