এবার আরসিবি যে ফাইনালে উঠতে পেরেছে, সেটার মূল কারণ কিন্তু সেই দলগত পারফরম্যান্স । একজন না পারলে অপরজন ঠিক দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।
.png.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 30 May 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবারই দুরন্ত দল গড়ে আরসিবি (RCB)। কিন্তু কোনওবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়ে ওঠে না। সেই ২০০৮ সাল থেকে এই ধারা চলে আসছে। তবে, আইপিএল ২০২৫-এ (IPL 2025) ট্রফি জেতার জন্য অনেক বেশি মরিয়া দেখাচ্ছে বেঙ্গালুরুকে। গতকাল পাঞ্জাবকে কোয়ালিফায়ার-১-এ এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে আরসিবি। আট উইকেটে জিতে নয় বছর পর ফের ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
আইপিএলের প্রথম বছর থেকেই বেঙ্গালুরুর সঙ্গেই যুক্ত বিরাট কোহলি (Virat Koholi)। তাঁকে ছাড়াও বেঙ্গালুরুর জার্সিতে খেলতে দেখা গিয়েছে এবি ডিভিলায়ার্স, ক্রিস গেইল, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, কেভিন পিটারসেন, জাহির খানের মতো ক্রিকেট বিশ্বের মহাতারকাদের। কিন্তু সাফল্য ছিল অধরা। আসলে ট্রফি জেতার জন্য যে দলগত সাফল্যের প্রয়োজন হয়, সেটাই আসছিল না। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বেশ কিছু দুর্দান্ত ম্যাচ জিতেছে বেঙ্গালুরু। কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে সব ম্যাচ জেতা যায় না।
এবার আরসিবি যে ফাইনালে উঠতে পেরেছে, সেটার মূল কারণ কিন্তু সেই দলগত পারফরম্যান্স (Team Performance)। একজন না পারলে অপরজন ঠিক দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই কোনও ম্যাচে বিরাট পারফর্ম না পারলে তাঁদের অভাব পূরণ করে দিচ্ছেন জিতেশ শর্মা, রজত পাতিদার, ক্রুণাল পান্ডিয়ারা। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই দেখা গিয়েছে।
আগের ১৭ মরশুমের মধ্যে ৯ বার প্লে অফে উঠেছিল বেঙ্গালুরু। এবার নিয়ে হল ১০। এরমধ্যে রানার্সআপ হয়েছে ৩ বার। বৃহস্পতিবার চতুর্থবারের মতো উঠল ফাইনালে। তবে এবার যে ভাবে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আরসিবি ফাইনালে উঠল তা আগে দেখা যায়নি।
আর বেঙ্গালুরু ফাইনালে ওঠার পর সেটাই বললেন প্রাক্তন অজি অলরাউন্ডার ও বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্লেষক টম মুডি ও ভারতের প্রাক্তন পেসার বরুণ অ্যারন। দু’জনেরই অভমিত, এবার খেতাব জিতছে বেঙ্গালুরুই।
বেঙ্গালুরু এবার নিলামের আগেই ঠিক করে নিয়েছিল, তারকা প্রথায় তারা হাঁটবে না। এমনিতেই দলে রয়েছেন মহাতারকা বিরাট কোহলি। দলে সামঞ্জস্য রাখতে তারা দলে রাখলেন ফিল সল্ট, হ্যাজেলউডদের পাশাপাশি ক্রুণাল পান্ডিয়া, জিতেশ শর্মা, তরুণ সুয়াশ শর্মাদের। রজত পাতিদারের হাতে তুলে দেওয়া হল অধিনায়কত্ব। আর এই দলই গোটা মরশুম জুড়ি ধারাবাহিকতা দেখিয়ে গেল।
ফাইনালে ওঠার পথে আরসিবি হয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন আটজন ক্রিকেটার। কখনও জিতেশ বা সুয়াশ, কখনও ফিল সল্ট কিংবা টিম ডেভিড। যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
বেঙ্গালুরুতে এবার যে যাঁর কাজটা দায়িত্ব নিয়েই পালন করছেন। জশ হ্যাজেলউডের নেতৃত্বে বোলিং বিভাগ ছিল দুরন্ত। ব্যাটিংয়েও সবাই সবার কাজটা করেছেন। এবার বেঙ্গালুরু বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু বিরাট নির্ভর নয়। তবে কোহলি কিন্তু নিজের কাজটা ঠিকই করে গিয়েছেন। আইপিএল ২০২৫-এ ১৪ ম্যাচে বিরাট করেছেন ৬১৪ রান। গড় ৫৫.৮১, স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৫৩। ১৪টি ম্যাচে অর্ধশতক সংখ্যা ৮টি।
আরসিবির বোলিং আক্রমণ ছিল এবার অন্যতম সেরা। একদিকে হ্যাজেলউড, অন্যদিকে ভুবনেশ্বর কুমার। মানে নতুন বল নিয়ে চিন্তা নেই। দু’জনেই পারফর্ম করেছেন। ভুবি নিয়েছেন ১৫ উইকেট আর হ্যাজলউড ২১টি। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের বিপক্ষে ২১ রানে ৩ উইকেট নেন অজি পেসার। পাশাপাশি বলতে হয় যশ দয়ালের কথাও। রিঙ্কু সিংয়ের কাছে এক ওভারে ছয় ছক্কা খাওয়া দয়াল এবার নিয়েছেন ১২ উইকেট।
বেঙ্গালুরুতে এবার বিশ্বমানের কোনও স্পিনার ছিলেন না। সুয়াশ শর্মা বা ক্রুণাল পান্ডিয়ারা কতটা পারবেন সেই নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তাঁরা কেউই ওই অর্থে টুর্নামেন্টে রাজত্বও করছেন, তা-ও নয়। তবে তাঁরাও নিজেদের কাজটা করেছেন। গতকাল যেমন প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা সুয়াশ। টুর্নামেন্টে ক্রুনাল উইকেট নিয়েছেন ১৫টি। মানে সবাই নিজেদের কাজটা করাতেই এবারের আইপিএলে ভিন্ন বেঙ্গালুরুর দেখা মিলছে।
ভারসাম্যপূর্ণ এক দল গড়েই মূলত সফলতা পেয়েছে বেঙ্গালুরু। জিতেছে টুর্নামেন্টের সব কটি অ্যাওয়ে ম্যাচে, যা নিঃসন্দেহে কোহলির আইপিএল খেতাবের খরা কাটাতে বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে।