আসল ব্যাপার হচ্ছে—আজ যদি ইডেনে গার্ডেন্সে (Eden Gardens) আইপিএল ফাইনাল হত, একথা হলফ করে বলা যায়, ময়দানের একটা সিটও ফাঁকা পড়ে থাকত না। কেকেআর তো উপলক্ষ্য মাত্র! (খুব সম্ভবত) শেষবারের জন্য বিরাট কোহলিকে আইপিএল ফাইনালে নামতে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করত কলকাতা?
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম
শেষ আপডেট: 3 June 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে (Ahmedabad) নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের (Narendra Modi Stadium) বাইরে দুটো কাট আউট ঝুলছে। একটা শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer)। অন্যটা রজত পাটিদারের (Rajat Patidar)।
বাইরে এক বিক্রেতা পাঞ্জাব (PBKS), আরসিবির (RCB) জার্সি বিক্রি করছেন। বেছে বেছে কোহলির (Virat Kohli) ১৮ নম্বর জার্সি কিনে দাম মেটানোর ফাঁকে এক ‘ভক্ত’ ভুরু কুঁচকে মোক্ষম সওয়াল ছুড়ে দিলেন: ‘ওই কাট আউটের খেলোয়াড় কে? নাম কী?’
গেটের বাইরে দাঁড়ানো ওই বিক্রতা প্রশ্ন শুনে ততোধিক তাজ্জব। একরাশ বিরক্তি মিশিয়ে বলে ফেলেন, ‘আপনি যে দলের জার্সি কিনলেন, তার অধিনায়ক মশাই… নাম রজত পাটিদার!’
‘তাই বুঝি? আমি তো জানতাম বিরাট কোহলি আরসিবির অধিনায়ক। কবে বদলে গেল?’—‘অনুরাগী’র বিস্মিত প্রশ্নের আর কোনও জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি জার্সি বিক্রতা ক্রুপাল।
অষ্টাদশ এডিশনের আইপিএল ফাইনাল বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে চলেছে—এই ন্যারেটিভ যে উন্মাদনা ও আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছিল, ‘গ্রাউন্ড রিপোর্ট’ বলছে তার সিকিভাগও অন্তত গতকাল পর্যন্ত আমদাবাদ স্টেডিয়ামের বাইরে নজরে আসেনি। আজ ফাইনাল। পরিস্থিতি বদলায় কি না, সেদিকে তাকিয়ে ক্রুপাল।
তাকিয়ে মহম্মদ আসলামও। আগে জার্সি বেচতেন। এখন রিস্টব্যান্ড, টুপি আর ফ্ল্যাগে সরে এসেছেন। দু’বছর আগে, ২০২৩ সালে, গুজরাত টাইটানস বনাম চেন্নাই সুপার কিংসের ফাইনালে হাজির ছিলেন। সেবার দেদারে বিকিয়েছে জার্সি, পতাকা। ম্যাচ বৃষ্টিবিঘ্নিত হতে চলেছে জেনেও চেন্নাই থেকে দল বেঁধে আসা সমর্থকদের ভিড় স্টেডিয়াম চত্বর উপচে পড়েছিল। সে কথা মনে করে আসলাম বলেন, ‘দু’বছর আগে স্টকের সমস্ত জিনিস বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এ বছর তেমন উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও দেখতে পাচ্ছি না।‘
ক্রুপাল, আসলাম ভুল কিছু বলছেন না। রবিবার পাঞ্জাব কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও মেরেকেটে হাজির হন ৫০ হাজার দর্শক। বিলাসবহুল হসপিটালিটি বক্সও ছিল ফাঁকা। তার উপর বৃষ্টির জন্য দু’ঘণ্টা দেরিতে ম্যাচ শুরু। সব মিলিয়ে ‘আবহাওয়া’র জুজু দেখিয়ে ইডেন থেকে আমদাবাদে কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ লড়াই সরানো যে কত বড় ভুল—সেটা পদে পদে সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
নিদাঘতপ্ত কলকাতা (Kolkata)। দিনে-রাতে গর্মির তেমন হেরফের নেই। ভরদুপুরে চাঁদিফাটা রোদ। রাতে ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি দেখা নেই। কিন্তু এসবই কাগুজে কথা। আসল ব্যাপার হচ্ছে—আজ যদি ইডেনে গার্ডেন্সে (Eden Gardens) আইপিএল ফাইনাল হত, একথা হলফ করে বলা যায়, ময়দানের একটা সিটও ফাঁকা পড়ে থাকত না। কেকেআর তো উপলক্ষ্য মাত্র! (খুব সম্ভবত) শেষবারের জন্য বিরাট কোহলিকে আইপিএল ফাইনালে নামতে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করত কলকাতা? বাইরে থেকে আসন ভরানোর দরকার হত না। মহানগরী আর বাংলার আনাচে-কানাচে কোহলির বিশ্বস্ত ‘ফ্যানবেস’ই ইডেনের গ্যালারি ভরিয়ে দিত!
আর সেটা হলে ক্রুপাল, আসলামদেরও শুকনো, খটখটে আমদাবাদে স্টেডিয়ামের বাইরে চাতকপাখির মতো হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হত না!