এক হাজার টাকার ম্যাচ ফি থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ের এই গৌরবময় অধ্যায়—এটাই আসলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের সত্যিকারের গল্প। যার সারকথা: এক প্রজন্মের ত্যাগ, আরেক প্রজন্মের জয়।
.jpeg.webp)
টিম ইন্ডিয়া, ২০০৫
শেষ আপডেট: 4 November 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ভারতের মেয়েরা (India Women’s Cricket Team) বিশ্বজয়ী। চুক্তিভিত্তিক বেতন, স্পনসর, সমান ম্যাচ ফি—সবই এখন হাতের নাগালে। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছতে যে কতটা কঠিন পথ পেরোতে হয়েছে, সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা আবার মনে করালেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ (Mithali Raj)।
২০০৫ সালে মহিলা বিশ্বকাপের (Women’s World Cup 2005) ফাইনালে পৌঁছেছিল ভারত। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের দল খেলছিল মিতালির নেতৃত্বে। কিন্তু শুনতে অবাক হলেও সত্যি, তখন প্রতিটি খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ছিল মাত্র হাজার টাকা! অর্থাৎ, বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ খেলে হাতে এসেছিল মোটে ৮ হাজার! এই অবিশ্বাস্য তথ্য নিজে মুখে জানিয়েছেন প্রাক্তন অধিনায়ক, সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
‘তখন কোনও বার্ষিক চুক্তি (contract) ছিল না। ম্যাচ ফি-ও অনিয়মিত। ২০০৫ সালে রানার্স-আপ হয়েও আমরা ম্যাচপ্রতি মাত্র এক হাজার টাকা পেয়েছিলাম!’ বলেন মিতালি। জুড়ে দেন, ‘মোট আট ম্যাচ খেলেছিলাম, হাতে এল আট হাজার। এতেই সবাই খুশি ছিল, কারণ আমরা টাকায় নয়, আবেগে খেলতাম।’
তখনও মেয়েদের ক্রিকেট (Women’s Cricket in India) বিসিসিআইয়ের (BCCI) অধীনে আসেনি। আলাদা সংস্থা, উইমেনস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (WCAI), নিজস্বভাবে চালাত এই খেলাকে—কোনও বড় স্পনসর ছিল না, বাজেটও সামান্য। খেলোয়াড়দের ভরসা ট্রেনের জেনারেল কামরা, সাদামাটা হোস্টেল আর খেলার প্রতি একবগগা ভালোবাসা।
‘আমরা সাধারণ কামরায় যেতাম, নিজেরাই কিট ব্যাগ বইতাম। কোনও বিলাসিতা ছিল না। সংস্থার কাছেই টাকাপয়সা ছিল না, আমাদের দেবে কীভাবে?’—বলেছেন করলেন মিতালি।
পরিবর্তনের শুরু হয় ২০০৬ সালে, যখন মেয়েদের ক্রিকেট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয় বিসিসিআইয়ের সঙ্গে। ধীরে ধীরে বদলায় কাঠামো—মেলে চুক্তিভিত্তিক বেতন, আলাদা ট্র্যাভেল অ্যালাউন্স, উন্নত কোচিং ও পরিকাঠামো। এরপর ধাপে ধাপে আসে সম্প্রচার, টিভি উপস্থিতি, আর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। আর সেই পথের শিখরে আজকের ভারত। ২০২২ সালে বিসিসিআই ঘোষণা করে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত—পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য সমান ম্যাচ ফি (equal match fees)। এখন মেয়েরা টেস্টে পান ১৫ লক্ষ, ওয়ানডেতে ৬ লক্ষ, আর টি–টোয়েন্টিতে ৩ লক্ষ টাকা—যা ছেলেদের ঠিক সমান।
মিতালি, যিনি ২০১৭ সালেও দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন, আজ গর্বের সঙ্গে দেখছেন সেই যাত্রাপথ। বলেছেন, ‘আমরা যে সময় খেলেছি, তখন ক্রিকেট মানেই ছিল লড়াই—সুযোগের, সম্মানের, বেঁচে থাকারও। এখন মেয়েরা পেশাদার অ্যাথলিট। তাঁদের সামনে আছে দিশা, নিরাপত্তা, প্রাপ্য সম্মান!’
এক হাজার টাকার ম্যাচ ফি থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ের এই গৌরবময় অধ্যায়—এটাই আসলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের সত্যিকারের গল্প। যার সারকথা: এক প্রজন্মের ত্যাগ, আরেক প্রজন্মের জয়।