ম্যাচের আগে পাকিস্তান শিবিরে বার্তা পরিষ্কার—রাজনীতি নয়, ফোকাসে শুধুই ক্রিকেট। এখন দেখার, মাঠে সেই প্রস্তুতি কতটা কাজে লাগে। রবিবারের লড়াই শুধু দুই দলের নয়, দুই বোর্ডের মর্যাদার পরীক্ষাও বটে।

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়কট-বিতর্ক আপাতত অতীত। এখন মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) মাথায় শুধুই ভারত-পাকিস্তান মহারণ। যে কারণে খেলা শুরুর আগে শিবিরে গিয়ে ক্রিকেটারদের কাঁধে হাত রেখে সাহস জুগিয়ে গেলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। আজ সন্ধ্যায় টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) গ্রুপ এ-র ম্যাচে রবিবার কলম্বোয় মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
কলম্বোয় পৌঁছে সরাসরি টিম মিটিং
শনিবার কলম্বোয় পৌঁছেই দলের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। উপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক সলমন আলি আঘা (Salman Ali Agha), হেড কোচ মাইক হেসন (Mike Hesson), টিম ম্যানেজার নাভিদ আক্রম চিমা (Naveed Akram Cheema) এবং গোটা সাপোর্ট স্টাফ। পাশাপাশি পিসিবি-র (PCB) সিওও সমীর আহমেদ (Sameer Ahmed), পিএসএল (PSL) সিইও সলমন নাসের (Salman Naseer) ও মিডিয়া ডিরেক্টর আমির মির-কেও (Aamir Mir) উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে ছিল খোলামেলা। ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এই উদ্যোগ। শিবিরের ভিতরে মনোবল তুঙ্গে—এমন বার্তাই সামনে এসেছে।
PCB Chairman Mohsin Naqvi meets with the Pakistan team ahead of the India game. 🇵🇰pic.twitter.com/FQpwV73PCO
— Sheri. (@CallMeSheri1_) February 15, 2026
‘দল ফর্মে, ইতিবাচক ফল চাই’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নকভি স্পষ্ট করে দেন, পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দল ভালো ফর্মে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, ইতিবাচক ফল আশা করছি।’ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডস ও আমেরিকাকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে অপরাজিত আঘা-বাহিনী। ফলে আত্মবিশ্বাসের ভিত বেশ মজবুত।
গতকাল শ্রীলঙ্কায় তাঁকে স্বাগত জানান বন্দর ও বিমান চলাচল দপ্তরের উপমন্ত্রী জনিথা রুয়ান কোদিতুওয়াক্কু (Janitha Ruwan Kodithuwakku) এবং শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের হাই কমিশনার ফাহিম-উল-আজিজ (Faheem-ul-Aziz)। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন নকভি। বলেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপে আমাদের সব ম্যাচ এখানেই। আয়োজক হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে সম্মান জানাই।’
আইসিসি-র করিডরে নতুন আলোচনা?
বয়কট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে নকভির এই সফর কেবল দলকে উৎসাহ দেওয়া নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, আইসিসি-র (ICC) কয়েকজন শীর্ষকর্তার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও কলম্বোয় রয়েছেন। ফলে আড়ালে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যদিও ম্যাচের আগে পাকিস্তান শিবিরে বার্তা পরিষ্কার—রাজনীতি নয়, ফোকাসে শুধুই ক্রিকেট। এখন দেখার, মাঠে সেই প্রস্তুতি কতটা কাজে লাগে। রবিবারের লড়াই শুধু দুই দলের নয়, দুই বোর্ডের মর্যাদার পরীক্ষাও বটে।