আজ হয়তো সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা দল হয়তো ম্যাচ জিতবে না। শেষ হাসি হাসবে সেই দল, যারা পরিস্থিতি পড়তে জানে, যারা ‘বিরাটোচিত ছন্দে’ ম্যাচ বুনতে দড়।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 15 February 2026 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি না থেকেও আছেন৷ প্রবলভাবে। শরীরে নয়, ছায়ায়। প্রভাবে। ব্যঞ্জনায়৷ উপমায়৷
তিনি, বিরাট কোহলি, মুখিয়ে থাকতেন এ ধরনের ম্যাচের জন্য৷ হয়তো অফ ফর্মে, টানা রান পাননি৷ তবু ফাইনালের মঞ্চ কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ ম্যাচ এলেই অন্য অবতারে ধরা দিতেন বিরাট৷ যিনি স্বেচ্ছা অবসর আর বাছাই ক্রিকেটের ঘেরাটোপে নিজেকে বন্দি করে কেবলমাত্র ওয়ানডে-তেই টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে নামেন৷
আজ যেহেতু খেলাটা টি-২০ ফর্ম্যাটে, তাই সাদা বলের অপ্রতিরোধ্য সৈনিককে দেখা যাবে না ময়দানে৷ সহযোদ্ধা রোহিত কলম্বো উড়ে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন৷ কিন্তু বিরাটকে সম্ভবত গ্যালারিতেও দেখা যাবে না। কিন্তু এতকিছুর পরেও কোহলি-চর্চা অবিরাম গুঞ্জরিত হচ্ছে! আজ ম্যাচের সম্ভাব্য ফয়সালার হিসেব কষতে বসে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ জানিয়ে দিচ্ছে, প্রাক্তন তারকার ট্রেডমার্ক স্টাইলের ইনিংস যদি কেউ খেলে দিতে পারেন, একা হাতে হয়ে উঠতে পারেন টিমের চালিকাশক্তি—সেটা যে দলেরই হোক না কেন—গড়ে দেবে দ্বৈরথের ভবিতব্য!
এই দলের একজন শ্রীবৎস গোস্বামী (Shreevats Goswami)। বিরাটের একদা সহযোদ্ধাও তিনি। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের (R Premadasa Stadium) পিচ নিয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর মতে, এই উইকেটে ঝড় তুলে ছক্কার বন্যা বইয়ে দেওয়া সহজ হবে না। বড় মাঠ, ধীর গতির উইকেট, বল গ্রিপ করছে—এই পরিস্থিতিতে ধৈর্যই আসল অস্ত্র। যে কারণে শ্রীবৎস স্পষ্ট সুরে বলেছেন, ‘এখানে ম্যাচ জিতবে সেই দল, যারা এক-দু’রান বেশি নেবে। বিরাট কোহলির স্টাইলে ব্যাটিং জরুরি—ওয়ান, টু, তারপর বাউন্ডারি।’ অর্থাৎ, ৩০ বলে ৬০ নয়, বরং ৪৫ বলে ৭০—বিধ্বংসী ইনিংসের বদলে হিসেবি পারফরম্যান্স, পরিস্থিতি বুঝে খেলা।
ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচ মানেই আবেগ, গতি, ঝুঁকি। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) এই লড়াইয়ে হয়তো ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা বদলাতে হতে পারে। পাওয়ারপ্লে-তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চলবে। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোয় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। অতিরিক্ত শট খেলতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলে বিপদ। জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও (Sikandar Raza) সম্প্রতি একই কথা বলেছেন। এই ভেন্যুতে ২০০ তাড়া করতে গিয়ে ১৪০-এ গুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বরং, প্রতি ওভারে ৮-৯ রান করে এগোনোই নিরাপদ পথ।
আজ স্পিন বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। ভারতের দলে রয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) ও কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। পাকিস্তানের তুরুপের তাস উসমান তারিক (Usman Tariq)। এমন পিচে ব্যাটিং শুধু শক্তির খেলা নয়, বুদ্ধির লড়াইও বটে।
সুতরাং, আজ হয়তো সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা দল হয়তো ম্যাচ জিতবে না। শেষ হাসি হাসবে সেই দল, যারা পরিস্থিতি পড়তে জানে, যারা ‘বিরাটোচিত ছন্দে’ ম্যাচ বুনতে দড়। আজ কোহলি (Virat Kohli) মাঠে নেই। তবু তাঁর স্টাইলই ম্যাচের ভাগ্য লেখার মাপকাঠি হয়ে উঠতে পারে।