কেরিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে সামিকে মেনে নিতে হচ্ছে কঠোর বাস্তবতা। দলের দরজা খোলা থাকলেও ভিতরে ঢোকার রাস্তাটা আজ কুয়াশামলিন।

মহম্মদ সামি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ৩৫। চোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুঝে চলেছেন। তবু এখনই হার মানতে নারাজ মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)। বুধবার মুখ খুললেন এশিয়া কাপ (Asia Cup) থেকে বাদ পড়া নিয়ে। স্পষ্ট জবাব দিলেন নির্বাচকদের। রাখলেন চোখা প্রশ্ন, ‘আমি যদি দলীপ ট্রফি (Duleep Trophy) খেলতে পারি, তবে টি-টোয়েন্টি পারব না কেন?’
টিম ইন্ডিয়ার স্কোয়াডে এবার পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ বোলার। তাঁদের মধ্যে পেসার তিন জন। নেতৃত্বে জসপ্রীত বুমরাহ। সেখানে জায়গা পাননি সামি, রিজার্ভেও নয়। অথচ এই বছর জানুয়ারিতেই তিন বছর বাদে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে কামব্যাক করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রাজকোটে প্রথম ম্যাচে উইকেট না জুটলেও ওয়াংখেড়ে-তে তিন উইকেট তুলে নেন।
এরপরেই আইপিএল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে একেবারেই ভাল কাটেনি মরসুম। পরিচিত ছন্দ উধাও। দেদার রান বিলিয়েছেন। ৯ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট। ইকনমি রেট ১১.২৩। এই হতশ্রী ফর্মের জেরে কয়েক ম্যাচে বেঞ্চেও বসতে হয়েছে। তারপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে বাদ। এশিয়া কাপেও নাম নেই। অনেকেই ধরে নেন, ফিটনেসই প্রধান কারণ। কিন্তু অভিজ্ঞ পেসার জানালেন, দলীপ ট্রফিতে তিনি নামছেন। ফিটনেস পরীক্ষাতেও পাশ করেছেন। তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? বাদ যাওয়ার আসল কারণই-বা কী?
সব মিলিয়ে সামির গলায় মাপা অভিমান, চাপা হতাশা। বলেছেন, ‘নির্বাচকদের দোষ দিই না। তাঁদের কাজই হচ্ছে সেরা দল বেছে নেওয়া। বিশ্বাস করি, সুযোগ এলে নিজের সেরাটা দেব। আমি পরিশ্রম করছি। তবে এখন জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে কোনও আশা নেই। জায়গা পেলে পারফর্ম করার চেষ্টা করব।’
এরপরই বাজারে ফিটনেস নিয়ে যে চর্চা শুরু হয়েছে, তাকে নস্যাৎ করে সামির স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘আমাকে বেঙ্গালুরুতে ডাকা হয়েছিল। ব্রঙ্কো ফিটনেস টেস্ট দিয়েছি, পাশ করেছি। এখন দলীপ ট্রফির জন্য প্রস্তুত। পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলতে পারলে যে কোনও ফরম্যাটেই নামতে প্রস্তুত!’
এশিয়া কাপে সুযোগ না পেলেও সামনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদেশীয় প্রতিযোগিতা রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ দরজায় কড়া নাড়ছে। সেখানে ভাল খেলতে পারলে হয়তো আবারও আলোচনায় আসতে পারেন। কিন্তু এই মুহূর্তে সামি যেন অনেকটাই নিয়তিবাদী। সবকিছু ‘হাতে না থাকা’র তত্ত্বে বিশ্বাসী।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে ছাপ রেখেছেন। বিশ্বকাপ, বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি-র মতো অগণিত সিরিজে দলের ত্রাতা। কিন্তু কেরিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে সামিকে মেনে নিতে হচ্ছে কঠোর বাস্তবতা। দলের দরজা খোলা থাকলেও ভিতরে ঢোকার রাস্তাটা আজ কুয়াশামলিন।