এতকিছুর মধ্যে জরিমানার অঙ্ক কি বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আনন্দে বড় ছায়া ফেলবে? অর্শদীপ হয়তো ‘না’-ই বলবেন। তবে ছোট হলেও এই বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টকে বুঝিয়ে দিল, মাঠের ভেতরে প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ামক সংস্থার নজরে থাকে। পালানোর পথ নেই!

অর্শদীপ সিং
শেষ আপডেট: 10 March 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উৎসবের রেশ এখনও কাটেনি। আমদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে উড়িয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ ধরে রেখেছে ভারত। গোটা দেশ এখনও উদযাপনে মেতে। সেই আনন্দের মধ্যে বিশ্বকাপজয়ী দলের এক পেসারের ঘাড়ে নেমে এল শাস্তির খাঁড়া। অর্শদীপ সিংয়ের (Arshdeep Singh) জরিমানা করল আইসিসি। ম্যাচ ফি-র ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হল। কারণটা যদিও একটু অদ্ভুত।
বিতর্কের কেন্দ্রে থ্রো!
সাজা পাওয়ার নেপথ্যে যে ঘটনা, সেটা ঘটেছিল ফাইনালের মাঝপথে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং চলাকালীন ১১তম ওভারে অর্শদীপের একটা থ্রো সরাসরি গিয়ে লাগে ব্যাটার ড্যারিল মিচেলের (Daryl Mitchell) গায়ে। মুহূর্তের জন্য মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যদিও বেশিক্ষণ গরম থাকেনি। দুই ক্রিকেটার করমর্দন করে ঝামেলা মিটিয়ে নেন। ম্যাচ শেষে অর্শদীপ সরাসরি মিচেলের কাছে গিয়ে ক্ষমাও চান।
পুরস্কার বিতরণীতে নিজেই বিষয়টা খোলাসা করেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার। বলেন, ‘মিচেলকে গিয়ে সরি বলেছি। আমার থ্রোটা একটু বেশিই রিভার্স সুইং করে সরাসরি লেগে ওর গায়ে লেগে গিয়েছিল। ইচ্ছা করে করিনি, সেটা ওকে জানিয়েছি!’ আইসিসি (ICC) অবশ্য এই ক্ষমাপ্রার্থনাকে যথেষ্ট মনে করেনি। আচরণবিধির ২.৯ ধারা ভাঙার দায়ে লেভেল ১ শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফি-র ১৫ শতাংশ কাটা হয়েছে। ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের দিকে বা কাছে অনুচিত বা বিপজ্জনকভাবে বল বা ক্রিকেট সরঞ্জাম ছোড়া নিষিদ্ধ।
আনন্দ যদিও অটুট
শাস্তির খবর ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। যদিও এর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে অর্শদীপের একটা বিশেষ মন্তব্যও। ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও খেতাবজয়ের অনুভূতি নিয়ে ভারতীয় পেসারের মন্তব্য, ‘এই মুহূর্তে ঠিক কেমন লাগছে, বলতে পারব না। এখন ভাল লাগছে, কারণ জিতেছি। দু-তিন দিন পরে হয়তো পুরোটা টের পাব!’
দলের শক্তি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। অর্শদীপের কথায়, ‘এটা অসাধারণ একটা দল। সমস্ত পজিশনে ম্যাচ উইনার আছে। শুরু থেকেই বিশ্বাস ছিল ভাল খেলব। ফলাফলটা সেই বিশ্বাসেরই পুরস্কার!’
এতকিছুর মধ্যে জরিমানার অঙ্ক কি বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আনন্দে বড় ছায়া ফেলবে? অর্শদীপ হয়তো ‘না’-ই বলবেন। তবে ছোট হলেও এই বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টকে বুঝিয়ে দিল, মাঠের ভেতরে প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ামক সংস্থার নজরে থাকে। পালানোর পথ নেই!