আমি জানি না শুভমান আমাকে চিনতে পারবে কি না। কিন্তু সেই দিনগুলিতে আমি শুভমনাকে অনেক বল করতাম।

শুভমান ও সিমরনজিৎ
শেষ আপডেট: 9 September 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) অভিযান শুরু করবে গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা। প্রথম ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (India vs UAE)। ধারে ও ভারে ভারত অনেকটাই এগিয়ে। তাই এই ম্যাচের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মেন ইন ব্লুজ। তবে, এই ম্যাচে দুই ছোটবেলার বন্ধুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যাবে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাঁহাতি স্পিনার সিমরনজিৎ সিং (Simranjeet Singh) আসলে শুভমান গিলের ছোটবেলার বন্ধু (Shubman Gill’s childhood friend)। বয়সে অনেকটা বড় হলেও সিমরনের সঙ্গে গিলের একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ১২ বছর বয়সে গিল যখন পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (PCA) নেটে প্রশিক্ষণের জন্য মোহালিতে আসতেন, তখন থেকেই তাঁকে চেনেন আমিরশাহির এই স্পিনার।
ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বাঁ-হাতি স্পিনার বলেছেন, তিনি গিলকে ছোটবেলা থেকেই চেনেন। তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হল ভারতের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপে খেলা। কারণ, সিমরন আদতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত। লুধিয়ানায় কেটেছে তাঁর জীবনের অনেকটা সময়। ৩৫ বছর বয়সি সিমরনজিৎ সিং শুভমান সম্পর্কে বলেছেন, "আমি গিলকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। ১২ বছর বয়সে গিল পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (PCA) নেটে প্রশিক্ষণের জন্য মোহালিতে আসতেন, তখন থেকেই আমি তাঁকে চিনি।"
সিমরনজিৎ সিং সেই সময়কার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "এটা ২০১১-১২ সালের দিকের কথা, শুভমানের বয়স সম্ভবত ১১-১২ বছর হবে। আমরা মোহালির পিসিএ অ্যাকাডেমিতে সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুশীলন করতাম। শুভমান তাঁর বাবার সঙ্গে সকাল ১১টার দিকে আসতেন। আমি আমাদের সেশন শেষ হওয়ার পরও প্রচুর অতিরিক্ত বল বল করতাম। আমি জানি না শুভমান আমাকে চিনতে পারবে কি না। কিন্তু সেই দিনগুলিতে আমি শুভমনাকে অনেক বল করতাম।"
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রধান কোচ লালচাঁদ রাজপুত। যাঁর কোচিংয়েই ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। স্লো বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার সিমরন সম্পর্কে রাজপুত বলেছেন, "ও একজন বুদ্ধিমান বোলার। টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি স্পিনাররা সাধারণত ফ্লাইট দেওয়ার সাহস দেখান না। তবে, সিমরন জানে কী ভাবে ফ্লাইট ব্যবহার করে উইকেট পেতে হয়। ১২টি টি-টোয়েন্টিতে ছয়েরও কম ইকোনমি রেটে ১৫টি উইকেট নিয়েছেন সিমরন।" সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিমরনের পরিসংখ্যান ছিল ১১টি ডট বল-সহ ২৪ রানে এক উইকেট।
ভারতে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার দিনগুলির কথা স্মরণ করে সিমরনজিৎ সিং বলেন, "আমি পাঞ্জাবে থাকাকালীন অনেক জেলা ক্রিকেট খেলেছি। ২০১৭ সালে, আমি রঞ্জি দলের সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের মধ্যে জায়গা করে নিতে পেরেছিলাম। সেই সময়, যখনই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব মোহালিতে অনুশীলন করত, আমি তাদের নেটেও প্রচুর বোলিং করতাম।"
ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য না পেয়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যান। সাফল্যের অভাব তাকে বুঝতে সাহায্য করেছিল যে, ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তাঁর হয়তো পূরণ হবে না। এরপর কোভিড-১৯ সিমরনজিতের জীবনকে উল্টে দেয়। তিনি বলেন, "আমি দুবাইয়ে অনুশীলনের প্রস্তাব পেয়েছিলাম এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে আমি প্রায় ২০ দিনের জন্য এখানে এসেছিলাম। তারপর দ্বিতীয় ঢেউ আসে এবং ভারত আবার লকডাউনের আওতায় পড়ে। আমি কয়েক মাস ধরে ফিরে যেতে পারিনি এবং অবশেষে এখানেই থেকে যাই।"
সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য সিমরনজিৎকে দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটের তিনটি মরশুম খেলতে হয়েছিল। এরপর তিনি আমিরশাহির প্রধান কোচ লালচাঁদ রাজপুতের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রায়ালের জন্য অনুরোধ করেন।
সিমরনজিৎ বলেন, "২০২১ সাল থেকে আমি দুবাইয়ে স্থায়ী হই। তখন থেকে আমি জুনিয়র খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাল আয় করতে শুরু করি। আমি ক্লাব ক্রিকেট খেলছিলাম এবং জুনিয়র খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলাম। এইভাবে, আমি আমার পরিবার চালাতে সক্ষম হয়েছিলাম। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দলে যোগদানের পর, আমি এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড থেকে একটি কেন্দ্রীয় চুক্তি পেয়েছি এবং এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।"