১৯৪ রানে অলআউটের পরও ৪২ রানের লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধস সামলে শেষ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি—এই সব মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের লড়াইয়ের গল্প।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 February 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বইয়ের (Mumbai) দুর্গ ভেঙে শেষ চারে পৌঁছে গেল কর্নাটক (Karnataka)। লক্ষ্য ৩২৫। চতুর্থ দিনের ক্ষয়ে যাওয়া পিচে এই রান তাড়া করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন কেএল রাহুল (KL Rahul)। ময়াঙ্ক আগরওয়াল (Mayank Agarwal) দ্রুত ফিরলেও রাহুল অনায়াসে ম্যাচের রাশ হাতে টেনে নেন। ঢিলেঢালা বলে প্রহার, ভালো ডেলিভারিতে ধৈর্য—এই দুইয়ের নিখুঁত তালমিলে তিনি নিয়ন্ত্রণে রাখেন ইনিংসের গতি।
রাহুলের শতরান আসে ১৪৭ বলে—ক্লাসিক্যাল ড্রাইভ, সোজা ব্যাটের ব্যবহার আর নিয়মিত রান তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। অধিনায়ক দেবদত্ত পাডিক্কাল (Devdutt Padikkal) (৩৯) এবং পরে স্মরণ রবিচন্দ্রনের সঙ্গে জুটি। যার সুবাদে ম্যাচ কার্যত কর্নাটকের দখলে চলে যায়। যারা চার উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ২০১৫-র পর প্রথমবার ট্রফিজয়ের স্বপ্ন জিইয়ে রাখল।
বোলারদের লড়াই, পার্থক্য গড়লেন রাহুলই
কোয়ার্টার ফাইনালের শুরু থেকেই দফায় দফায় নাটক! প্রথম ইনিংসে মুম্বই মাত্র ১২০-তে গুটিয়ে যায়, কর্নাটকের জার্সিতে দাপট দেখান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna) ও বিদ্বৎ কাবেরাপ্পা। তবু ৪২ বারের চ্যাম্পিয়নরা সহজে হার মানেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে আকাশ আনন্দ, তনুশ কোটিয়ানদের লড়াইয়ের সুবাদে মুম্বই তোলে ৩৭৭। লক্ষ্যটা তখন পাহাড়প্রমাণ মনে হচ্ছিল। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে রাহুলের উপস্থিতিই ফারাক গড়ে দেয়। এই জয়ে শুধু সেমিফাইনালে নয়, বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও স্পষ্ট বার্তা পাঠাল কর্নাটক।
ইতিহাসে জম্মু-কাশ্মীর, নবি-ঝড়ে বেসামাল মধ্যপ্রদেশ
একই দিনে রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy) লেখা হল আরও এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার সেমিফাইনালে পৌঁছল জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)। ইন্দোরে মধ্যপ্রদেশকে হারানোর নেপথ্যে একটাই নাম—আকিব নবি (Auqib Nabi)। ম্যাচে ছিনিয়ে নিলেন ১২ উইকেট, তার মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৭/৪০—বারবার খেলার রাশ টেনে ধরেছেন নিজের দিকে।
১৯৪ রানে অলআউটের পরও ৪২ রানের লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধস সামলে শেষ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি—এই সব মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের লড়াইয়ের গল্প। অন্তিম দিনে নবি আবার আঘাত হানেন, সারাংশ জৈনের প্রতিরোধ ভেঙে দেন নিখুঁত ডেলিভারিতে। শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানের জয় আর উচ্ছ্বাসে ভাসা এক দল… যারা ছিল এতদিন অন্ত্যেবাসী। সব মিলিয়ে একদিকে রাহুলের অভিজ্ঞতার ঝলক, অন্যদিকে নবি-র অদম্য খিদে—দুই পারফরম্যান্সেই ধরা পড়ল এবারের রঞ্জির আসল সুর।