শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন: দিল্লি ২১১ ও ২৭৭, জম্মু–কাশ্মীর ৩১০ ও ১৭৯/৩। সাত উইকেটে জয় তুলে নিয়ে জম্মু–কাশ্মীর প্রমাণ করল—তারা আর ছোট দল নয়।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 11 November 2025 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) মঞ্চে মঙ্গলবার ইতিহাস লিখল জম্মু-কাশ্মীর (Jammu & Kashmir)। প্রথমবারের মতো দিল্লিকে (Delhi) হারাল তারা। ৬৫ বছর পর রাজধানীর শক্তিশালী দলকে সাত উইকেটে পরাজিত করে এলিট গ্রুপ–ডি–তে উঠে এল দ্বিতীয় স্থানে, মুম্বইয়ের ঠিক নিচে।
ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার কামরান ইকবাল (Qamran Iqbal) খেলেন কেরিয়ারের সেরা ইনিংস—অপরাজিত ১৩৩। শান্ত মাথায়, ধৈর্য আর নিখুঁত স্ট্রোকে গড়া। তাঁর ব্যাটে ভর করেই সহজ জয় পায় জম্মু–কাশ্মীর। দিল্লির বোলাররা কোনও চাপই তৈরি করতে পারেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থেকে ইকবাল দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
বল হাতে সাফল্য এসেছিল আগেই। ম্যাচের শুরুতে আকিব নবি (Auqib Nabi) ৫ উইকেট নিয়ে দিল্লিকে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে দেন ২১১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল ঠিকই। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দেন বামহাতি পেসার বংশজ শর্মা (Vanshaj Sharma)। তাঁর বোলিং ফিগার—৬ উইকেট ৬৮ রানে—দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেয়। পুরো ম্যাচ জুড়েই জম্মু–কাশ্মীরের ফিল্ডিং ও ডিসিপ্লিন্ড বোলিং ছিল প্রশংসনীয়।
দিল্লির হয়ে আয়ুষ বাদনি (Ayush Badoni) দু’ইনিংসেই ভালো খেলেন—৬৪ ও ৭২ রান। হর্ষিত দোসেজাও (Harshit Doseja) দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রান তোলেন। কিন্তু দলের বাকি ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ। মিডল অর্ডার ও নিচের সারির ব্যাটাররা জম্মু–কাশ্মীরের ধারাবাহিক বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে ব্যর্থ।
এর আগে প্রথম ইনিংসেই জম্মু–কাশ্মীর জয়ের ভিত গড়ে নেয়। অধিনায়ক পরশ দোগরা (Paras Dogra) করেন ১০৬, সঙ্গে আব্দুল সমাদের (Abdul Samad) দ্রুত ৮৫ রানে দল পৌঁছে যায় ৩১০–এ। এই ইনিংসটাই ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট।
দোগরার অধিনায়কত্বও প্রশংসা কুড়িয়েছে। সময়মতো বোলিং পরিবর্তন করে ম্যাচের দিক ঘুরিয়ে দেন তিনি। বিশেষ করে বংশজ শর্মাকে আক্রমণে আনার সিদ্ধান্ত ছিল গেমচেঞ্জার।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন: দিল্লি ২১১ ও ২৭৭, জম্মু–কাশ্মীর ৩১০ ও ১৭৯/৩। সাত উইকেটে জয় তুলে নিয়ে জম্মু–কাশ্মীর প্রমাণ করল—তারা আর ছোট দল নয়। আকিব নবি ও বংশজ শর্মার জুটি যেখানে বল হাতে দাপট দেখাল, সেখানে কামরান ইকবাল ব্যাট হাতে কাজ শেষ করলেন—শান্ত মাথায়, নিখুঁত পরিকল্পনায়। সব মিলিয়ে রঞ্জির ইতিহাসে এই জয় জম্মু–কাশ্মীর ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায়।